ডেভিড লুইজ
ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নযাত্রায় মূল ভূমিকাটা পালন করতে হবে নেইমারকে। যেই দেশে শিরোপা বাদে অন্য যে কোন ফলকেই মানা হয় ব্যর্থতার নামান্তর, তেমন এক দেশে সমর্থকদের এই প্রত্যাশার চাপ বোঝা হয়ে এঁটে বসতে পারে নেইমারের কাঁধে। আর বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে দলের সবচেয়ে বড় অস্ত্রকে নির্ভার রাখতেই কিনা ব্রাজিল দলের সহ-অধিনায়ক ডেভিড লুইজ জানালেন, বিশ্বকাপের ফল যাই হোক সেটা নেইমারের উপর কোন প্রভাব ফেলবে না। কারণ, নিজেকে নতুন করে প্রমাণের কিছু নেই এই বার্সেলোনা তারকার।
রোনালদিনহো-কাকাদের পড়তি ফর্মের কারণে ব্রাজিল দলে যখন গত বহু বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো বড় কোন সুপারস্টারের শূন্যতা শঙ্কার সৃষ্টি, তখনই দৃশ্যপটে আবির্ভাব নেইমারের। কিংবদন্তি পেলের ক্লাব সান্তোসে খেলার কারণে শুরু থেকেই পেলের সাথে তুলনা করা হচ্ছিল এই তারকার। কয়েক বছরের মধ্যে প্রমাণ করলেন, কেবল ক্লাব কিংবা খেলার স্টাইলের কারণে নয়, প্রতিভা বিচারেও তিনি তুল্য হতে পারেন পেলের সঙ্গে। সান্তোসে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ফলাফল স্বরূপ, অচিরেই নেইমারের দিকে দৃষ্টি পড়লো ইউরোপের সেরা ক্লাবগুলোর। যার ফলাফল, বিপুল অর্থের বিনিময়ে গত মৌসুমে যোগ বার্সেলোনায় যোগ দেন নেইমার। তারকাখ্যাতি, বড় ক্লাবের পর বাকি ছিল শুধু একটি বিষয়, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে কোন শিরোপা। কনফেডারেশন্স কাপে নেইমারের অসাধারণ পারফরম্যান্সেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন্স স্পেনকে হারিয়ে শিরোপা জেতে ব্রাজিল। তাই নিজের দেশে আগামী মাস থেকে শুরু হতে যাওয়া ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চেও নেইমারকেই মানা হচ্ছে ব্রাজিলের সাফল্যের চাবিকাঠি।
তবে বিশ্বব্যাপী ভক্তদের সেই চাওয়া নেইমারের পারফরম্যান্সে ফেলতে পারে নেতিবাচক প্রভাব। বিশ্বকাপের ইতিহাস খুঁজলে মোটেই বিরল নয় এই দৃষ্টান্ত। সেই কারণেই কিনা স্পোরটিভি ডট কমকে লুইজ বললেন, ‘নেইমার এমন একটা নাম যা গত কয়েক বছর ধরেই কেবল উপরে উঠছে। সে এরই মধ্যে ফুটবলে তার নামকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এবং সবাই চায় ব্রাজিলের অন্য কয়েকজনের মতো সেও সবার উপরে নিজেকে তুলে ধরুক। এই বিশ্বকাপে নিজের মাটিতে সেক্ষেত্রে তার জন্য দারুণ একটা সুযোগ অপেক্ষা করছে সন্দেহ নেই। তবে, সেখানে তার নিজেকে নতুন করে প্রমাণের কিছু নেই। সবাই জানে সে কি করতে সক্ষম।’
এদিকে, ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ১২ জুনের ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ মিশন। যা কিনা এই টুর্নামেন্টেরও প্রথম ম্যাচ। গ্রুপের অন্য সব সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলেও, লুইজের বিশ্বাস এই ম্যাচটাই ঠিক করে দেবে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ গতিপথ, ‘ক্রোয়েশিয়ার দারুণ কিছু খেলোয়াড় আছে। একারণেই তারা ব্রাজিলে তাদের জায়গা করে নিতে পেরেছে। যে কোন প্রতিযোগিতায় প্রথম ম্যাচটিই হচ্ছে কৌশলগত দিক থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রস্তুতির পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়াটা বাড়িয়ে নেয়া জরুরি। দারুণ কঠিন একটা ম্যাচ হবে সেটা। কার্যত, কোন ম্যাচই সহজ হবে না।’ সাম্বা ফুট অবলম্বনে।
