বলা হয়ে থাকে, ফুটবলের জন্মই নাকি হয়েছে দেশটিতে। তাদের নিজস্ব ঘরোয়া ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল লড়াইয়ের একটি। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চ এলেই কেমন যেন নিষ্প্রাণ হয়ে ওঠে ইংলিশ ফুটবল।
মাত্র একবারই আসরটি থেকে সেরার মুকুট নিয়ে ফিরতে পেরেছে ইংল্যান্ড। সেটা আবার সেই ১৯৬৬ সালের কথা। এরপর আর শিরোপা তো দূরের কথা সেমিফাইনালেই উঠেছিল কেবল একবার। ইটালির সেই বিশ্বকাপটিও দু’দশক আগের ঘটনা।
দুয়ারে আরেকটি বিশ্বকাপ। কি লেখা আছে এবার ইংল্যান্ড ফুটবল দলের ভাগ্যে? এবার কি সমর্থকদের স্বপ্ন সত্যি করতে পারবে ইংলিশরা? অধিনায়ক স্টিফেন জেরার্ডও স্বপ্ন দেখছেন, সাথে মনে রাখছেন বাস্তবতাকেও। স্কাই স্পোর্টসকে তিনি বলেন, ‘স্বপ্ন দেখতে কোন দোষ নেই। সমর্থকদের মতো আমরাও স্বপ্ন দেখি। ভাবি ব্যাপারটা কেমন হবে যদি আমরা সবাইকে মিথ্যা প্রমাণ করে একটা সফল বিশ্বকাপ খেলে ফেলতে পারি? তবে একটা ব্যাপার মনে রাখতে হবে, বিশ্বকাপে আরো ভাল কিছু দল আছে। অনেক কঠিন একটা সময় আসতে যাচ্ছে। এরপরও আমি বিশ্বাস করি সবকিছুর পরও আমরা ভাল করতে পারি।’
বিশ্বজয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে কি করে? কোচ রয় হজসন বলে দিলেন বাস্তবায়নের মূল মন্ত্রটা, ‘আমরা আসলে কতটা ভাল খেলতে সক্ষম? আমাদের আশা আছে, স্বপ্ন আছে, আছে আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু এসব দিয়ে বিশ্বজয় সম্ভব নয়। এর জন্য আপনাকে ভাল খেলতে হবে, মাঠে নিজেদের প্রতিপক্ষের চেয়ে নিজেদের ভাল বলে প্রমাণ করতে হবে। প্রত্যেক খেলোয়াড়কে নিজেদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চটা দিতে হবে। দলটাকে আমি চিনি, আমি জানি তাদের এসবকিছু করার ক্ষমতা আছে।’
গ্রুপ পর্যায়েই এবার ইংল্যান্ডের লড়াইটা বেশ শক্ত। ‘ডি’ গ্রুপে প্রতাপশালী ইটালি ও উরুগুয়ের বাঁধা পেড়োতে হবে তাদের। আর আছে লাতিন আমেরিকান দল কোস্টারিকা। হজসন অবশ্য ভয় পাচ্ছেন বলে মনে হল না। কঠিন বাস্তবতার মাঝেও স্বপ্নটাকে আরো বড় করেই দেখছেন তিনি, ‘আমি বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছি না। এটা ভাবা বোকামি হবে যে, আমরা শুধু বিশ্বকাপে দল সংখ্যা বাড়াতে এসেছি। আমি বিশ্বাস করি আমাদের বিশ্বজয় সম্ভব। সেভাবেই আমরা কাজ করছি।’
সহ-অধিনায়ক ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড দলে তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার মিশেলকেই বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন, ‘স্কোয়াডটা দারুণ। এখানে তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার মধ্যে বেশ ভাল বোঝাপড়া আছে। অনেক দিন ধরে দলের সাথে আছি। আর এখনকার এই অবস্থাটাও আমি বেশ ভালভাবেই উপভোগ করছি। আশা করি সবাই মিলে ভয়মুক্ত হয়েই খেলতে পারবো, সফল হতে পারবো।’
ব্রাজিলে বিশ্বকাপ বলে এমনিতেই কিছুটা অস্বস্তিতে আছে ইউরোপিয়ান দলগুলো। তার উপর আসন্ন জুন মাসে মানাউস অঞ্চলের আবহাওয়াও ভাবাচ্ছে ইংলিশদের। আবহাওয়া রিপোর্ট জানিয়েছে জুনে মানাউসে প্রতিদিনের গড় তাপমাত্রা থাকবে ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট ও বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ থাকবে শতকরা ৫৮ থেকে ৯৯ ভাগ। এখানেও ভয়হীন ইংল্যান্ড। গোলরক্ষক জো হার্টের কথাতেই সেটা আরো স্পষ্ট হয়ে উঠলো, ‘গরমের ব্যাপারটা আমাদের জানা আছে। যাই হোক, পরিবেশ কোন ঘটনা নয়। আমাদের খেলে যেতে হবে।’
বিশ্বকাপে লড়াই কেবল প্রতিপক্ষ দলের সাথেই নয়, আছে অনেক অদৃশ্য শক্তিও!
