বিজেপির জয় :ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

আপডেট : ২০ মে ২০১৪, ২১:৫৩
বাংলাদেশের সাথে ভারতের বিরাজমান বন্ধুত্বের সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে ভারত সরকার পরিবর্তন হয়েছে সে দেশের মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে বলে। ভারতের জনগণ বিজেপিকে নির্বাচিত করেছে। আমি মনে করি বাংলাদেশের সাথে ভারতের বিরাজমান বন্ধুত্বের সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে। বিজেপির জয়ে আমাদের দেশে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হতে পারে বলে মনে করি না। আমার দেশ কিভাবে চলবে তা নির্ণয় করা কোনভাবেই ভারতের হাতে না। অতএব, আমাদের ভয় কিসের? পার্শ্ববর্তী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের যেমন ভারতের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজন আছে ঠিক তেমনভাবে ভারতেরও প্রয়োজন আছে বাংলাদেশের। রফিকুল ইসলাম সাগর আন্তর্জাতিক ট্যুর এন্ড ট্যুরিজম ফাউন্ডেশন কোর্স, ওয়ার্ল্ড পয়েন্ট একাডেমি। ==== ভারতের প্রয়োজনেই সু-সম্পর্ক বজায় রাখবে একটি দেশের সাথে আরেকটি দেশের সুসম্পর্ক শুধু রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী/রাষ্ট্রপতির সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপরই নির্ভর করে না, সম্পর্ক নির্ভর করে দেশ দুটোর মাঝে পারস্পরিক নির্ভরশীলতার ওপর, রাষ্ট্রীয় চাহিদার ওপর এবং জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনীয়তার ওপর। তাই মোদি সরকার পররাষ্ট্র নীতি কিছুটা পরিবর্তন আনলেও তার নিজ স্বার্থেই বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সে স্বার্থ হতে পারে ভারতের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা, হতে পারে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি-রপ্তানির বাণিজ্য বা অন্য কোন রাজনৈতিক ইস্যু। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভারতের গান্ধী পরিবারের সাথে ভালো পারিবারিক সম্পর্ক বিদ্যমান, কিন্তু সেই কারণে যে মোদি সরকারের সাথে তার সম্পর্ক ভালো হবে না তা বলা কিন্তু মোটেও সমীচীন হবে না। কারণ ভারত খুব ভালো করেই জানে বাংলাদেশে তাদের প্রকৃত বন্ধু কারা। তাই বিজেপির বিজয় উল্লাসে সবাই মিলে মিষ্টি মুখ করে মোদি ভাই মোদি ভাই করলেই বিজেপি-সরকার বুকে তুলে নিবে এমনটি ভাবা গুড়ে বালি ছাড়া আর কিছুই না। কারণ রাষ্ট্র তার জাতীয় স্বার্থে কাজ করবে ব্যক্তি স্বার্থে নয়। নূর-ই-আলম অপু মাস্টার্স শেষ পর্ব, সমাজকর্ম বিভাগ, ভাওয়াল বদরে সরকারি কলেজ, গাজীপুর। === ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক পূর্বের মতোই থাকবে ভারতের রাষ্ট্রগুরু কৌটিল্য যিনি চাণক্য নামেও পরিচিত। এই কৌটিল্যের উপদেশকে শিরোধার্য করে ভারতের রাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হয়। এই দর্শনের বিষফল ভারতের প্রতিবেশী দেশ হিসাবে বাংলাদেশ কড়ায়-গণ্ডায় ভোগ করছে। ভারতের নির্বাচনে ‘বিজেপি’র জয়ে অনেকে আশান্বিত যে হয়তো এবার ভারত বন্ধু প্রতিবেশী সুলভ আচরণ করবে। ‘বিজেপি’র জয়ের পর বাংলাদেশ থেকে অভিনন্দনের হিড়িক লক্ষ্য করার মত। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ‘বিজেপি’ প্রধান ও ভারতের আসন্ন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। যেটা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে করণীয় ছিল। কিন্তু মোদি তার বিজয়ী ভাষণে একবারও বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করেন নাই। সবমিলিয়ে মনে হয় না ‘বিজেপি’র জয়ে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কের কোন পরিবর্তন হবে। কারণ ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে রাষ্ট্রগুরু কৌটিল্যকে অনুসরণ করা মোদির দায়িত্ব। কিন্তু ‘বিজেপি’র জয়ের পর যে দেশ আন্তরিকতার সাথে অভিনন্দন এবং সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে, সে দেশের প্রতি কি দিল্লি কৌটিল্যের দর্শন প্রয়োগ করবে নাকি সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিবেশীর সঠিক অধিকার বাস্তবায়ন করবে সেটা সময় বলে দেবে। মেহেদী হাসান মাসুদ বি.টি.আই.এস (সম্মান), ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া। === ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক সম্পর্ক একই থাকবে সকল জল্পনা-কল্পনা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বিশ্লেষণের অবসান ঘটিয়ে ভারতে বিজেপি’র জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজয়ী হয়েছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ও প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলও এই নির্বাচনের ফল নিয়ে উত্সুক ছিল। বিজেপির বিজয়ের মাধ্যমে সকলের অপেক্ষার অবসান হয়েছে। মোদির জয়ে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক কোথায় যাবে এটা চিন্তার বিষয়। এ সম্পর্কে অনেক বিশেষজ্ঞই মতামত দিয়েছেন। কংগ্রেস আমলে শেখ হাসিনা সরকার ভারতের নিকট করা প্রতিশ্রুতি পূরণ করে যাচ্ছিল কোন প্রতিদান ছাড়াই। অনেক চেষ্টা করেও সরকার তিস্তা চুক্তি কার্যকর করতে পারেনি। দিল্লি ঢাকার নিকট থেকে ট্রান্সশিপমেন্ট, সমুদ্র ও নদী বন্দর ব্যবহার, ছিটমহলসহ বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে শেখ হাসিনা সরকারকে কূটনৈতিক সমর্থন দিচ্ছে। মোদি সরকারের এ সময়েও ভারতকে ক্রমাগত একতরফাভাবে সুবিধা দিলে ঢাকা-দিল্লীর কূটনৈতিক সম্পর্ক একই থাকবে। নূর মুহাম্মদ রিফাত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন