জাতীয় দলের এক ঝাঁক ক্রিকেটার, যার বেশিরভাগ সর্বশেষ টেস্ট দলেও ছিলেন; তাদের নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাই পারফরম্যান্স সেন্টারের বিপক্ষে শুধু ‘ভালো ক্রিকেট’ আশা করাটা একটু কম চাওয়া নয় কী?
কম হোক, বেশি হোক; আপাতত ‘এ’ দলের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে এটাই প্রধান চাওয়া দলের অধিনায়ক নাসির হোসেন ও কোচ কোরি রিচার্ডসের। আর এই চাওয়া নিয়েই আজ রাতে বারবাডোজের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। প্রায় এক মাসের এই সফরে ক্যারিবিয় হাই পারফরম্যান্স সেন্টারের বিপক্ষে দুটি চার দিনের ম্যাচ, তিনটি একদিনের ম্যাচ এবং দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে নাসিরের দল।
নাসির অবশ্য বলছেন, এখানে তাদের আরেকটা লক্ষ্য হল, ভারতের বিপক্ষে সিরিজকে সামনে রেখে নিজের পারফরম্যান্স এগিয়ে নেওয়া। দলের লক্ষ্য নিয়ে বলতে গিয়েই গতকাল মিরপুরে অনুশীলনশেষে নাসির বললেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হবে ওখানে গিয়ে ভাল ক্রিকেট খেলা। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ওখানে যারা যাচ্ছে তারা অনেকেই জাতীয় দলে আছে। তাই এটা আমাদের জন্য ভাল সুযোগ। আমরা ওখানে আগে গিয়ে চারদিনের ম্যাচ, ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে পারব।’
এমন কথার পর মনে হতে পারে, এই সিরিজটা সেক্ষেত্রে দলীয় ফলাফলের চেয়ে ব্যক্তিগত উন্নতির জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু নাসির বলছেন, ‘আসলে সবাই ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ভালো করলে সেটা দলের জন্যই উপকারে লাগবে। সবার চেষ্টা থাকবে অবশ্যই ভাল কিছু করার।’
এই ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স বা জাতীয় দলের উন্নতি; মাথায় যেটাই রাখুন নাসিররা, সেখানে আরেকটি সংকটে আছে। ক্যারিবিয় বাউন্সি কন্ডিশনে চার দিনের ম্যাচ খেলে ফিরে এসে তাদের খেলতে হবে নিজেদের ধীর গতির উইকেটে একদিনের সিরিজ। এটা অবশ্য সমস্যা হবে বলে মনে করছেন না নাসির, ‘আমি মনে করি যে ভাল খেলোয়াড় সে সব জায়গায়, সব ফরম্যাটে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে। পারফরম্যান্স করলে তার আত্মবিশ্বাস থাকে; সেটা সব ফরম্যাটেই কাজে লাগে।’
নাসিরের নিজের জন্য এই পারফরম্যান্স করাটা বেশ জরুরি। কয়েক মাস আগেও জাতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যাটসম্যান সম্প্রতি পারফরম্যান্সের কারণে একাদশে জায়গাও হারিয়েছিলেন। ফলে নিজেকে জাতীয় দলে আবার স্থায়ী করতে লক্ষ্যটাও ঠিক করে ফেলেছেন তিনি, ‘অবশ্যই আমার লক্ষ্য জাতীয় দলে অবস্থান শক্ত করা। সে জন্য এখানে পারফরম করতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে এর আগে আমি একবার গিয়েছিলাম। ১৩৬ রানের ইনিংস খেলেছিলাম। এবারও ইচ্ছা আছে সেঞ্চুরি করার। এখন জানি না কি হবে। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’
ব্যক্তিগত এই চিন্তা বাদ দিলে এখন অধিনায়ক নাসিরের মাথায় কাজ করার কথা ক্যারিবিয় সফরে সাফল্য। সে জন্য ওই গতি ও বাউন্সি উইকেটে দরকার পেস বোলিংয়ে সাফল্য পাওয়া। নাসির মনে করেন, পেসাররা গতি যাই তুলতে পারেন না কেন, নিখুঁত বল করতে পারলে সাফল্য তারা পাবেন, ‘আমি মনে করি আমাদের পেস অ্যাটাক অনেক ভাল। শুভাষিস বেশ ভালো, রবিউল তো পরীক্ষিত। মুস্তাফিজুর অনূর্ধ্ব-১৯ থেকে এসেছে; ভালো করছে । আমি মনে করছি আমাদের পেস আক্রমণ অনেক ভাল। তবে পেসা যতই থাকুক না কেন, সবচেয়ে বড় হচ্ছে লাইন এন্ড লেন্থ। যদি জায়গা মতো বোলিং করতে পারে তাহলে হয়তো ওখানে সফল হব।’
প্রায় একই বিশ্বাস কোচ কোরি অ্যান্ডারসনের। তিনিও পেসারদের ওপর ভরসা রাখছেন, ‘রবিউল টেস্ট ক্রিকেটার। মুক্তার আলীও নিজেকে প্রমাণ করে যাচ্ছে। মুস্তাফিজুরকে আমি এই দলের অন্যতম ভরসা মনে করি। সে বাংলাদেশের জন্য অসাধারণ এক ভবিষ্যত্ তারকা।’
আর এদের ওপর ভরসা করে সেই ভালো ক্রিকেট এবং ভালো ক্রিকেট দিয়ে সিরিজের প্রতিটি ম্যাচ জিতে আসার প্রতীজ্ঞা শোনালেন কোরি অ্যান্ডারসন।
