বিক্ষোভ ও স্টেডিয়াম নির্মাণে বিলম্ব

বিশ্বকাপ নিয়ে পেলের শঙ্কা

আপডেট : ২০ মে ২০১৪, ২২:১০
ফুটবল কিংবদন্তি পেলে জানিয়েছেন ব্রাজিলে চলমান প্রতিবাদ বিক্ষোভ এবং স্টেডিয়ামগুলো তৈরিতে বিলম্ব আগামি মাসে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপটিকে ঝুঁকির মধ্যে রেখেছে। শুধু তাই নয়, এর ফলে পর্যটকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ব্রাজিলে ১২ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপটির সংগঠকরা ২০০৭ সালে দায়িত্বটি পাওয়ার পর থেকেই ঝামেলার মধ্যে আছেন। কেননা ব্রাজিলে গেল বছর অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের প্রাক প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্ট কনফেডারেশন কাপের সময়ে হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদ বিক্ষোভ নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। তাদের অভিযোগ মূলত বিশ্বকাপের আয়োজন বাবদ বাড়তি ব্যয়, কর, মুদ্রাস্ফীতি, দুর্নীতি ও জনখাতের অপ্রতুলতা নিয়ে। পেলে ব্রাজিলের হয়ে তিনবার বিশ্বকাপ জিতেছেন। এছাড়া বর্তমান বিশ্বকাপের আয়োজক কমিটিরও বিশেষ উপদেষ্টা তিনি। সঙ্গত কারণেই কিংবদন্তি খেলোয়াড়টি মেক্সিকো সফরে গিয়ে সেখানে এক সংবাদ সম্মেলনে হাজির হলে এসব প্রশ্নের সম্মুখিন হন। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল ব্রাজিলে চলমান এসব প্রতিবাদ বিক্ষোভ টুর্নামেন্টটিকে বিপর্যস্ত করছে কিনা। কালো মানিক নামে খ্যাত ব্রাজিলের সবচেয়ে বিখ্যাত খেলোয়াড়টি এও জানান যে, এসব ঝামেলার কারণে ইতোমধ্যেই অনেক পর্যটক তাদের সফর বাতিল করে দিয়েছেন। তিনি বলেন,‘হ্যাঁ, আমি জানি ২৫ ভাগ পর্যটক এরই মধ্যে দেশটিতে সফর বাতিল করে দিয়েছে।’ অনেকেই আশঙ্কা করছেন ১২ জুন থেকে ১৩ জুলাই অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপটি চলাকালেও প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে। বিশ্বকাপের বিপুল ব্যয়ের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে গত সপ্তাহে ৪৫ কোটি ডলারের সাও পাওলোর করিন্থিয়ান্স অ্যারিনার কাছে গাড়ির চাকা পোড়ায়। এই স্টেডিয়ামেই বিশ্বকাপের উদ্বোধন হবে। এ প্রসঙ্গে পেলে বলেন, ‘ছয় বছর আগে আমি যেসব সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করেছিলাম এটি হলো তার একটি। আমরা জানতাম ব্রাজিল বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে। বিশ্বকাপ শুরুর এক মাস আগে এখনো তারা স্টেডিয়ামের কাজ শেষ করতে পারেননি। এছাড়াও আছে অনেক সমস্যা যা কিনা লজ্জার। তিনি এও বলেন যে, প্রতিবাদ যে সময় বেছে নেয়া হয়েছে এটাও কোন কাজে আসছে না। ৭৩ বছর বয়সী পেলে বলেন, ‘বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়ার সময়েই তো জনতার উচিত ছিল বিক্ষোভ করা। এখন যখন বিশ্বকাপ আয়োজনের আর দেরী নেই তখন নয়। কেউই ভাবছে না যে নিজেদের তুলে ধরা, বিদেশি মুদ্রা আয় ও পর্যটন বিকাশের জন্য ব্রাজিল তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট কনফেডারেশন কাপ, বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকের দায়িত্ব পেয়েছে।’