বিদায় কিংবদন্তী!

আপডেট : ২০ মে ২০১৪, ২২:১১
ঘোষণাটা আসবো আসবো করছিল গত কিছুদিন ধরেই। তবে গত সোমবার রাতে লুইস ফন গলের সহকারী হিসাবে দায়িত্বটা নিশ্চিত হবার পর, নিশ্চিত হয়ে যায় সবকিছুই। পরিষ্কার হয়ে যায়, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে সফল তারকাটির খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি ঘটতে যাচ্ছে। হ্যা, সমর্থকদের উদ্দেশ্যে খোলা এক চিঠির মধ্য দিয়ে সুদীর্ঘ ২৩ বছরের ফুটবলার জীবনের ইতি টানলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিংবদন্তী রায়ান গিগস। সেই ১৯৮৫ সালে প্রথম এসেছিলেন ওল্ড ট্রাফোর্ডে। তিন বছর যুবদলে খেলে ১৯৯১ সালের ২ মার্চ রেড ডেভিলসদের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ অভিষেক। এরপর গত ২৩ বছরে খেলেছেন আরো ৯৬২টি ম্যাচ। প্রিয় ক্লাবেই যখন সহকারী কোচ হবার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে কোচিংকেই পেশা হিসাবে বেছে নিলেন, তার আগে পেছনে ফেলে গেলেন বর্ণময় এক ফুটবল জীবন। প্রিমিয়ার লিগের শুরু থেকে প্রতিটি মৌসুমেই খেলা একমাত্র এই ফুটবলার রেখে যাচ্ছেন ট্রফি আর রেকর্ডের অবিশ্বাস্য এক গাঁথা। যার কিছু কিছু রেকর্ড এমনই যে, সেগুলো ভাঙ্গবে না কোন কালেই। ইউনাইটেডের বিখ্যাত লাল জার্সি গায়ে সর্বমোট ৩৪টি ট্রফি জেতা গিগস প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন রেকর্ড ... টি ম্যাচ। লিগে সর্বোচ্চ সংখ্যক ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়দের তালিকায় তার ধারে-কাছেও নেই কেউ। আর শতাব্দী প্রাচীন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পক্ষে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে, সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড বিদায় বেলায় সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন গিগস। ডেভিড ময়েসকে বরখাস্ত করার পর ইউনাইটেডের হয়ে মৌসুমের শেষ চারটি ম্যাচে ভারপ্রাপ্ত কোচের দায়িত্বপালনকারী গিগস ওয়েবসাইটের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ঐ বক্তব্যে লিখেছেন ‘আজ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য একটি অনন্য দিন। দলের নতুন কোচ হিসেবে লুইস ভ্যান গালের নিযুক্তি একটি দারুণ সিদ্ধান্ত। তার মত মেধাবী একজন লোকের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি যে কি পরিমাণ আনন্দিত তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। তার মত প্রশংসিত ব্যক্তি দ্বিতীয়টা নেই। আগামী বছরগুলোতে ইউনাইটেড যে তার হারানো নেতৃত্ব ফিরে পাবে সে ব্যাপারে আমি খুবই আশাবাদী।’ দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে পাশে থাকার জন্য ক্লাব সমর্থকদের প্রতি জানিয়েছেন কৃতজ্ঞতাও। ১৯৯০ সালে ১৭ বছর বয়সে ইউনাইটেডের মূল দলে অভিষিক্ত হবার পর থেকে সহায়তা দেয়ার জন্য গিগস ইউনাইটেডের নেপথ্যের স্টাফদের তার ব্যক্তিগত ও পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান। বলেন, তাদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই তার পথ চলায় অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে, ‘বিশ্ব ফুটবলে আপনারা হলেন শ্রেষ্ঠ সমর্থক। এজন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। আমি আপনাদের জন্যই আপনাদের ভালোবাসা পেতেই প্রতিটি মুহূর্ত খেলে গেছি এবং বিশ্বের সেরা ক্লাবটির প্রতিনিধিত্ব করতে পেরেছি। ওয়েলসের পক্ষে ৬২টি ম্যাচ খেলা সাবেক এই আন্তর্জাতিক তারকা বলেন, ‘আজ থেকে আমার নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অনেক আবেগ, অনুভূতি, দুঃখ-বেদনা ভুলে এখন রোমাঞ্চকর আগামীর দিকেই এগিয়ে যেতে হবে। আশা করি ইউনাইটেডের সমর্থকরা ক্লাবের প্রতি আমার যে ভালোবাসা তার প্রতি একমত হবেন। ক্লাবটির মালিক ও ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিতরা ক্লাবটিকে শ্রেষ্ঠত্বে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগই নিচ্ছে। আমি আশা করব সে পথের দিকেই হবে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ।’ এদিকে গিগসের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষও। ফুটবলের ইতিহাসে গিগসের মত উইঙ্গার পাওয়া কঠিন উল্লেখ করে ইউনাইটেডের নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান এডওয়ার্ড উডওয়ার্ড বলেন, ‘ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের লাল জার্সি পরিহিতদের মধ্যে রায়ান গিগস হচ্ছেন সেরাদের একজন। তিনি যা অর্জন করেছেন তার ধারে-কাছেও ইংলিশ কোন খেলোয়াড় নেই। তিনি এখন নতুন রোমাঞ্চকর এক অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। বিগত ২৫ বছর ধরে একজন ব্রিটিশ খেলোয়াড় হিসেবে তিনি যা অর্জন করেছেন এখন তার প্রতিফলন ঘটানোর সঠিক সময়।’ —দ্য গার্ডিয়ান ও বাসস