প্রয়াত প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মূসা স্মরণ সভায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, আমরা গণমাধ্যমের একজন অভিভাবককে হারিয়েছি। এই মুহূর্তে গণমাধ্যম অবিভাবকহীন অবস্থায় চলছে। তিনি নীতির প্রশ্নে ছিলেন অটল। শুধু আলোচনার ভেতর দিয়ে নয়; গণমাধ্যমে নৈতিকতা চর্চার ভেতর দিয়ে সাংবাদিক এবিএম মূসাকে স্মরণ করা যায়। তিনি সাংবাদিকদের বিভক্তি পরিহার করে বস্তুনিষ্ঠ, নৈতিকতার সঙ্গে সাংবাদিকতা করার আহ্বান জানান।
বুধবার বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পিআইবি’র চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান মিলনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।
তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, সাংবাদিকদের জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি ও দলবাজি নীতি বন্ধে সরব থাকতে হবে। এ সম্পর্কে সাংবাদিকরা সমালোচনা করবে; কিন্তু তাদের নেতাকর্তীদের সম্পর্কে নীরব থাকবে এ ধরনের নীতি গ্রহণ করা যাবে না। যারা এধরনের নীতি মেনে চলবেন তারা সাংবাদিকতা ছেড়ে রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে পারেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দল দেখে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা হয় না।
মন্ত্রী বলেন, এবিএম মূসা সারা জীবন সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ অবস্থান নিশ্চিত করে বিভক্ত গণমাধ্যমের ঐক্য ফিরিয়ে আনারও চেষ্টা করেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, এবিএম মূসা সাংবাদিকতার মাধ্যমে গণতন্ত্রের আদর্শ প্রকাশ করেছেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সাম্প্রদায়িকতা ও গণতন্ত্র বজায় রাখার জন্য তিনি কলম সৈনিক হিসেবে কাজ করে গেছেন। আমরা তার আদর্শ কতটুকু মেনে চলছি সেটাই বড় প্রশ্ন।
এবিএম মূসার সাহসি সাংবাদিকতার কথা উল্লেখ করে প্রবীণ সাংবাদিক কামাল লোহানী বলেন, দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি তার সত্য প্রকাশ করতেন। একবার সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তিনি বাংলায় গাড়ির নম্বর প্লেট লাগিয়েছিলেন।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, এবিএম মূসা ছিলেন ব্যবহারিক সাংবাদিকতার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। বার্তা বিভাগে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ছিল তার। তিনি এ দেশে অসংখ্য সাংবাদিক তৈরি করে গেছেন। তার মৃত্যুতে পেশাদারিত্ব সাংবাদিতকায় নেতৃত্বে বড় ধরনের সংকট ঘনীভূত হলো। আমরা পেশাদারিত্বের ভেতর দিয়ে সততার ভেতর দিয়ে সাংবাদিকতা জগতে এবিএম মূসাকে স্মরণ করতে পারি।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আলতাফ মাহমুদ বলেন, কিংবদন্তি তুল্য সাংবাদিক ছিলেন এবিএম মূসা। তিনি সারা জীবন সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য নিরলস সংগ্রাম করে গেছেন। কিন্তু অহঙ্কার ছিল না। মানুষ যে কতটা সহজ হতে পারে তার সঙ্গে না মিশলে তা বোঝা বা অনুভব করা যাবে না।
স্মরণসভায় আরো বক্তব্য রাখেন পিআইবি’র মহাপরিচালক শাহ আলমগীর, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ কে এম শামীম চৌধুরীসহ এবিএম মূসার মেয়ে পারভীন সুলতানা ঝুমা। স্মরণ সভায় বক্তারা এবিএম মূসার পেশাদারিত্ব নিয়ে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করার জন্য পিআইবি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
