তবুও অদম্য ওরা

আপডেট : ২২ মে ২০১৪, ২১:৪৮
ওদের পাশে কেউ না দাঁড়ালে বন্ধ হয়ে যাবে লেখাপড়া। ওদের বাবা বস্তির সবজি বিক্রেতা। মা অন্যের বাড়িতে খণ্ডকালীন গৃহকর্মী। তাদের পাঁচ সন্তানের মধ্যে দুই মেয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে। লাকি আক্তার রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। আরেক মেয়ে নার্গিস আক্তার বাণিজ্য বিভাগে জিপিএ-৪.১৩ পেয়েছে। রাজধানীর পশ্চিম কাফরুলের ১৪২/৩ নম্বর টিনশেড বাড়ির একটি ঘরে বাবা-মায়ের সঙ্গে তারা ভাড়া থাকে। পাশের বৌবাজার বস্তিতে বাবা সবজি বিক্রি করেন। দিনে ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা লাভ হয়। অন্যদিকে তাদের মা তালতলা সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের ৩টি ফ্ল্যাটে খণ্ডকালীন গৃহকর্মী হিসাবে কাজ করেন। এই ৩টি ফ্ল্যাটে কাজ করে তিনি রোজগার করেন ২ হাজার টাকা। এই দিয়ে তাদের সংসার চলে। এর মধ্যে নার্গিস আক্তার ও লাকি আক্তার আশপাশের মানুষের সাহায্য নিয়ে পড়াশুনা চালিয়ে যায়। শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই বোন পড়াশুনা করে। এসএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত তাদের কোন গৃহশিক্ষক ছিল না। উল্টো খরচ চালাতে নার্গিস ও লাকিকে টিউশনি করতে হয়েছে। তাদের বাবা ফিরোজ মিয়া জানান, তিনি লেখাপড়া জানেন না। কিন্তু দুই মেয়ের ভাল ফলাফলে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। ফলাফল প্রকাশের পর থেকে দুই মেয়ে জানিয়েছে, তারা পড়াশুনা চালিয়ে যাবে। কিন্তু তাদের এ পড়াশুনার খরচ তার পক্ষে বহন করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। তাই সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও দানশীল প্রতিষ্ঠানের সাহায্যের কামনা করেছেন তিনি। যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করা যাবে—মোবাইল :০১৬৭২৬৭০৫৪৫ ও ০১৯৬৩৫১৪০১৩।