ঢাবিতে সান্ধ্যকালীন কোর্স বিরোধীদের ওপর হামলা

আপডেট : ২২ মে ২০১৪, ২১:৪৯
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে চালু হওয়া সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স কোর্স বন্ধের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন ও সামাজিক বিজ্ঞান ভবনে ‘সান্ধ্যকোর্স ও বাণিজ্যিকীকরণ বিরোধী শিক্ষার্থীদের’ ডাকা ছাত্র ধর্মঘটে হামলা করেছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করেছেন আন্দোলনরতরা। বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রাশেদ শাহরিয়ার, অর্থ সম্পাদক প্রগতি বর্মণ তমা, শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা বেনজির, হাবিবা জান্নাত, সাদ্দাম, রেজা সাদিক, ইভা, জনি, লাভা, নজরুল। প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা যায়, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। কলাভবনের সামনের গেইটে অবস্থান করেন তারা। সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মুহসিন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ও সলিমুল্লাহ হল শাখা ছাত্রলীগের উপ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক ঐতিহ্য ঘটনাস্থলে এসে তালা খুলে দিতে বলেন। কিন্তু অন্দোলনকারীরা তাতে অস্বীকৃতি জানালে উভয়পক্ষ বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ছাত্রলীগের আরো ৫০-৬০ জন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে যোগ দেয়। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আন্দোলনকারীদের বেশ কয়েকজনকে লাঞ্ছিত এবং নারী আন্দোলনকারীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে হামলাকারীদের শাস্তি দাবি এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনরতরা। একই দাবিতে বিকালে তারা ক্যাম্পাসে মিছিল ও সমাবেশ করে। প্রগতি বর্মণ তমা বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ সর্বাত্মক ছাত্র ধর্মঘটে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা করেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বিশেষ করে প্রক্টর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাকে বার বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রশাসনের এই নীরব ভূমিকা প্রমাণ করে তারা সান্ধ্যকালীন কোর্সের পক্ষে। এতে অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আমজাদ আলী বলেন, সকালে সাধারণ শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে এলে তাদের সাথে কিছুটা বাক-বিতণ্ডা হয়েছে। তাদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা করেছে বলে জানি না। সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২৮ মে’র মধ্যে তাদের দাবি পূরণ না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলাকালে প্রত্যেকদিন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। এদিকে গতকাল ধর্মঘটে বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল বিভাগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিস।