গবেষণা রিপোর্টে তথ্য

বাল্যবিয়ের শিকার বস্তির ৮০ ভাগ কন্যাশিশু

আপডেট : ২২ মে ২০১৪, ২১:৪৯
ঢাকার বস্তিতে থাকা ৮০ ভাগ কন্যাশিশু বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে। বালকদের মধ্যে এই হার কিছুটা কম। এই বাল্যবিয়ের মূলে রয়েছে—ভালো পাত্র পাওয়া, দারিদ্র্যতা ও যৌন হয়রানির ভয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ পরিচালিত ‘নগরায়নের প্রবণতা ও শিশুদের উপর প্রভাব’ ও ‘রাজধানীর নির্বাচিত পাঁচটি বস্তির অবস্থা বিশ্লেষণ’ শীর্ষক গবেষণা রিপোর্টে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। কল্যাণপুর পোড়া বস্তি, টাউন হল ক্যাম্প মোহাম্মাদপুর, রায়েরবাজার বধ্যভূমি বস্তি, বৌ বাজার বস্তি ও বালুর মাঠ বস্তির শিশুদের ওপর গবেষণা দু’টি পরিচালিত হয়। রিপোর্টে বলা হয়—বস্তির শতকরা ৩৭ ভাগ শিশুর জন্ম নিবন্ধিত হয়। যার ২৭ ভাগ মনে করে নিবন্ধনের জন্য টাকা দিতে হয়। ৪১ ভাগ অভিভাবক বিষয়টির গুরুত্ব বোঝেন না। ৩২ ভাগ জানেন না কিভাবে নিবন্ধন করা হয়। অথচ ২০০৪ সাল থেকে সরকার জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছে। তবে শিক্ষাক্ষেত্রে বস্তির বালকদের চেয়ে কন্যাশিশুরা তুলনামূলক এগিয়ে রয়েছে। গবেষকরা জানান, বস্তিতে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমে সরকারের চেয়ে বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা বেশি। ‘রাজধানীর নির্বাচিত কতিপয় বস্তির অবস্থানগত বিশ্লেষণ’ শীর্ষক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বস্তির শিশুদের জন্য সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চেয়ে এনজিওর মাধ্যমে পরিচালিত বিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রায় পাঁচ ?গুণ বেশি। বস্তিবাসীর পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনে এনজিওগুলো উল্লেখ করার মতো ভূমিকা পালন করে আসছে। বস্তিবাসীর জন্য পানি ব্যবস্থাপনায় সরকারের চেয়ে এনজিওগুলো এগিয়ে রয়েছে। রিপোর্টে আরো বলা হয়, শহরের বস্তিতে বসবাসকারী শিশুরা তুলনামূলকভাবে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ের বিভিন্নমুখী সেবা থেকে বরাবরই উপেক্ষিত। এতে বস্তিবাসী মানুষের উচ্ছেদ-আতঙ্কের কথা উঠে এসেছে। শতকরা ২৫ ভাগ বস্তিবাসী গত ১০ বছর ধরে কয়েকবার উচ্ছেদ হয়েছেন এবং এখনো উচ্ছেদ আতঙ্কে আছেন। একই সময়ে ৪৫ ভাগ বস্তিবাসী কয়েকবার অগ্নিকাণ্ডের শিকারও হয়েছেন। গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়েছে, বস্তিতে বসবাসকারী শিশুদের ৪৪ ভাগ পোশাক শ্রমিক, ২৪ ভাগ বিভিন্ন দোকানে ও ৯ ভাগ ভিক্ষা বৃত্তির কাজে জড়িত। কর্মজীবী এসব শিশুর মধ্যে নয় ভাগ শারীরিক নির্যাতনের শিকার, ১২ ভাগ ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে থাকে। এছাড়া কর্মজীবী শিশুদের শকতরা ১১ ভাগ দৈনিক ১৩ থেকে ১৫ ঘন্টা ও শতকরা ৪০ ভাগ ১১ থেকে ১২ ঘন্টা কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। অনুষ্ঠানে ‘নগরায়নের প্রবণতা ও শিশুদের উপর প্রভাব’ গবেষণা রিপোর্ট উপস্থাপন করেন দ্য নিয়েলসন-এর ম্যানেজার একেএম ফজলুর রহমান। এ বিষয়ে আলোচনা করেন, সেভ দ্যা চিলড্রেন’র কান্ট্রি ডিরেক্টর মাইকেল ম্যাকগ্রাথ, ডেপুটি কান্ট্রি-ডিরেক্টর কাজী গিয়াস উদ্দিন, এডুকেশন ডিরেক্টর এলিজাবেথ পিয়ার্স। রাজধানীর নির্বাচিত পাঁচটি বস্তির অবস্থা বিশ্লেষণ করেন সেভ দ্যা চিলড্রেনের শিশুদের জন্য প্রোগ্রাম’র ডিরেক্টর ড. শাহানা নাজনীন।