সরাসরি প্রতারণা এখন রীতিমত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আর এতে খুব বেশি টাকা আদায় করা যায় না। এ কারণে পয়সাওয়ালা ব্যক্তিদের নারীর প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে বশ করা। এরপর অপহরণ করে মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায় করাটা খুব সহজ। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য জানিয়েছে অপহরণের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত ৬ আসামি।
সিলেটের গোয়ালাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিককে রাজধানী থেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অ্যান্টি-কিডন্যাপিং স্কোয়াড টিম মঙ্গলবার তাদের গ্রেফতার করে। ডিবি পুলিশ বুধবার তাদের একদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো মোসাম্মত্ মাসুমা, রাজিব ওরফে সজিব, মোহাম্মদ নিকুল, আবুল কাশেম, ইকবাল হোসেন কবির ও এমদাদুর রহমান। তাদের দলনেতা জাহাঙ্গীর হোসেন পলাতক ।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি ( দক্ষিণ) কৃষ্ণপদ রায় বলেন, গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে তারা ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের নারীর প্রলোভন দেখিয়ে অশ্লীল ছবি প্রদর্শন করে অপহরণ ও পরে মুক্তিপণ আদায় করে থাকে। এ চক্রের প্রধান জাহাঙ্গীর হোসেনের শ্যালিকা মাসুমা। জাহাঙ্গীর মাসুমাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরই ধারাবাহিকতায় তারা গত ১১ মে সিলেটের গোয়ালাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিককে রাজধানীর বাড্ডা এলাকার সুবাস্তু নজর ভ্যালির সামনে থেকে অপহরণ করে। এরপর তারা মাসুমার সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তাদের হাত থেকে রেহাই পেতে চেয়ারম্যান মানিক তার সঙ্গে থাকা ৪০ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে ৩ লাখ টাকা পরিশোধ করবেন বলে অঙ্গীকার করে মুক্তিপান।
পুলিশের এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, এই ঘটনায় চেয়ারম্যান মানিক গত ১৩ মে গুলশান থানায় একটি মামলা করেন। এই মামলার সূত্র ধরেই মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অ্যান্টি-কিডন্যাপিং স্কোয়াড তাদের রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
অ্যান্টি-কিডন্যাপিং স্কোয়াড টিমের প্রধান এডিসি ছানোয়ার বলেন, গ্রেফতারকৃতরা ইতিমধ্যে সিলেট ও নবীনগর এলাকার বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে একইভাবে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে। তিনি বলেন, এ অপহরণ চক্রের সবার বাড়ি কিশোরগঞ্জ এলাকায়।
ডিবির সহকারী কমিশনার রহমত উল্লাহ চৌধুরী বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আবুল কাশেম প্রতারণার অভিযোগে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, দেড় মাস পূর্বে একইভাবে সিলেটের নবীগঞ্জ থানার অপর এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছ থেকে তিন লাখ ২১ হাজার টাকা, দুই মাস পূর্বে নবীগঞ্জ থানার এক লন্ডন প্রবাসীর কাছ থেকে ২ লাখ ৮ হাজার টাকা, সিলেটের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা, কুমিল্লার এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১৯ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে তাদের ছেড়ে দেয়।
এর আগে গত মঙ্গলবারও ঢাকা ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয় অপহরণকারীকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অ্যান্টি কিডন্যাপিং স্কোয়াড টিম। ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যাপকহারে অপহরণ, গুম ও হত্যার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে চলতি মাসেই গঠিত হয় গোয়েন্দা পুলিশের এ টিম।
