আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপরই শুরু হয়ে যাবে জগতের উজ্জ্বলতম ক্রীড়া আসর—ফুটবল বিশ্বকাপ। ফুটবল দুনিয়া তো বটেই, ক্রিকেট থেকে শুরু করে বিনোদন, সব দুনিয়ার মানুষ মজে যাবেন বিশ্বকাপে। ফুটবলঅন্তঃপ্রাণ সাকিব আল হাসানের যে সেই মজে উঠতে তর সইছে না, সেটা অনুমান করাই যায়। আর্জেন্টিনা, মেসি ও বার্সেলোনার চরম এই ভক্ত তাই কলকাতার একটি পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাত্কারেও বললেন, আর্জেন্টিনা ও মেসির জয় দেখতে মুখিয়ে আছেন তিনি।
তার প্রিয় দল, প্রিয় খেলোয়াড় শেষ পর্যন্ত কী করবেন; সেটা সময় বলবে। তবে সাকিবকে তো চুপ করে থাকলে চলছে না। মেসির ফুটবলে জাদু দেখান, সাকিব জাদু দেখাচ্ছেন ক্রিকেটে। গতকাল নিজের দাপটটা আরো একবার বুঝিয়ে দিয়ে আইপিএলে নিজের প্রথম ফিফটিটা তুলে নিলেন রয়াল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে। নিজে ৩৮ বলে ৬০ রানের দানবীয় এক ইনিংস খেললেন। সেই সঙ্গে রবিন উথাপ্পার সাথে আগ্রাসী এক জুটি করে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে চরম বিপর্যয় থেকে টেনে তুলে ১৯৫ রানের চূড়ায় তুলে নিয়ে গেলেন।
সাকিব যখন ব্যাটিংয়ে আসেন, কলকাতা তখন ৫৬ রানে ৩ উইকেট খুঁইয়ে রীতিমতো ধুঁকছে। অন্যপ্রান্তে টিকে ছিলেন শুধু আগের ম্যাচেও সাকিবের সঙ্গী হওয়া সেই ওপেনার উথাপ্পা। আর গতকাল উথাপ্পাকে নিয়ে রীতিমতো ইডেন মাতানো এক জুটি করলেন। মাত্র ১১.৪ ওভারে ১২১ রানের এক জুটি করলেন সাকিব ও উথাপ্পা। ওভার প্রতি ১০.৩৭ করে রান উঠলো এই জুটিতে। জুটিতে সাকিবের অবদান ৬০ ও মোট ৮৩ রান করা উথাপ্পার অবদান ৫৮।
মাত্র ৩৮টি বল খেলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাকিব যে ৬০ রানের ইনিংস খেললেন, সেটাই বলা যায় কলকাতার প্রাণভোমরা।
আগের দিন দেয়া সাক্ষাত্কারেই সাকিব বলেছেন, কলকাতার হয়ে ভালো খেলতে পারাটা, আইপিএলে ভালো পারফরম করাটা তার জন্য সবসময়ই দারুণ ব্যাপার, ‘আগে একটা সময় আইপিএলকে শুধু বিনোদন হিসেবে দেখা হত। এখন এটা সত্যিই সিরিয়াস ক্রিকেট। এখানে পারফরম করতে পারাটা খুবই আনন্দের। আর কলকাতার সঙ্গে আমার একটা দারুণ সম্পর্ক হয়ে গেছে। সে জন্য ব্যাপারটা আমি খুব উপভোগ করি।’
নিজের ভূমিকাটা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, ব্যাটিং-বোলিং দুটোই তার কাছে খুব সমান, ‘আমার দুটো ভূমিকায় আমার মধ্যে ফিফটি-ফিফটি; একদম সমান সমান। আমি ব্যাট করতে পারা বোলার বা বল করতে পারা ব্যাটসম্যান নই। দুটোই আমার পরিচয়।’
সেটা কলকাতাও নিশ্চয়ই এখন বেশ বুঝতে পারছে!
