শিক্ষার্থী শিক্ষক অভিভাবকের মিলিত চেষ্টায় ভাল ফল

আপডেট : ২৩ মে ২০১৪, ২১:৪৩
‘আমাদের শিক্ষকরা তাদের দায়িত্বের প্রতি সজাগ। অভিভাবকরা সর্বদা থাকেন সচেষ্ট। আর শিক্ষক ও অভিভাবকদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করেন শিক্ষার্থীরা। এই সমন্বিত প্রচেষ্টায় ভালো ফল হয়েছে।’ এমনটাই বলছিলেন ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সুবহানী। এছাড়া এই ভালো ফলের ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন তিনি। এবছর এসএসসিতে ঢাকা বোর্ডে সমন্বিত মেধা তালিকায় ৬ষ্ঠ স্থান দখল করে রাজধানীর রেসিডেনসিয়াল কলেজ। এবার ৪৬৭ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৩১ জন। পাসের হার শতভাগ। বিজ্ঞান বিভাগে ৪১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৯২ জন। বাণিজ্য বিভাগে ৩৭ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩১ জন। মানবিক বিভাগে ২০ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন। গত বছর মেধা তালিকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি চতুর্থ স্থানে ছিল। তবে এবার ৬ষ্ঠ স্থান অধিকার করলেও ফলাফলে খুশি প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা। একাধিক অভিভাবক জানান, ভালো ফলাফলের কারণ অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন প্রশাসন, সুযোগ্য নেতৃত্ব ও সঠিক দিকনির্দেশনা। আমরা ফলাফলে খুশি। প্রশংসনীয় ফলাফলের পেছনে রয়েছে নিবিড় তত্ত্বাবধান। ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থীদের পাঠোন্নতির নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, একাধিক মডেল টেস্ট এবং অপেক্ষাকৃত দুর্বল ছাত্রদের বিশেষ যত নেই আমরা। এসব বিষয় ছাড়াও ছাত্রদের নিষ্ঠা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ভালো ফলাফলে সহায়ক হয়েছে। বাংলা বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় ফাঁকি দেয় না। শিক্ষকরা খুবই নিবেদিত। তারা শিক্ষার্থীদের পড়া আদায়ে দায়িত্বশীল। এছাড়া অভিভাবকরা খুবই সচেতন। সব সময় তাদের সন্তানদের পড়ালেখার খোঁজখবর নেন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করা শামীম হাসান বলেন, আমরা কয়েক বন্ধু মিলে একসঙ্গে পড়তাম। সবাই আলোচনা করে পড়াতে বিষয়টা সহজ মনে হতো। আর আমাদের স্কুলে ফাঁকি দেয়ার সুযোগ নেই। সিস্টেমটাই এমন যে, পড়তেই হবে। আর পড়লে ভালো ফলতো হবেই! ১৯৬০ সালে শেরেবাংলা নগরের পাশে মোহাম্মদপুরে এ প্রতিষ্ঠানটি স্কুল কার্যক্রম শুরু করে। ব্রিটিশ পাবলিক স্কুলের আদলে বিশেষত ইটন স্কুলের আদলে প্রতিষ্ঠিত হয় এটি। ১৯৭৬ সালে কলেজ কার্যক্রম শুরু করে। ৫২ একর জমির ওপর কলেজটি দাঁড়িয়ে আছে। স্কুল ও কলেজের জন্য আছে পৃথক ভবন। ছোট ও বড়দের জন্য পৃথক ছয়টি হাউস (হোস্টেল) আছে। কলেজটিতে ৪ হাজার ৪৫ জন শিক্ষার্থী ও ১৬৯ জন শিক্ষক রয়েছেন। ৩০ হাজার বইয়ের একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি রয়েছে। কলেজে সহশিক্ষা কার্যক্রম নিয়মিত। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক ইত্যাদি কার্যক্রম চালানো হয় নিয়মিত।