চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল

দুই পড়শির শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই

আপডেট : ২৩ মে ২০১৪, ২২:২১
স্পানিশ রাজধানীর দুই ক্লাবের শতাব্দি প্রাচীন বৈরিতা আজ নতুন মাত্রা যোগ করবে যখন রিয়াল মাদ্রিদ ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে। পর্তুগালের লিসবনে অনুষ্ঠেয় এ ফাইনাল হচ্ছে প্রতিযোগিতার ৫৯ বছরের ইতিহাসে একই শহরের দুই দলের মধ্যে ইউরোপীয় ফুটবলের শীর্ষ পুরষ্কারের প্রথম লড়াই। রিয়াল মাদ্রিদ এতে ১২ বছরের খরা কাটিয়ে লা ডেসিমা বা দশম ইউরোপীয় শিরোপা জয়ের জন্য মাঠে নামবে। সে তুলনায় একই শহরের দল হলেও অনেক পিছিয়ে অ্যাটলেটিকো যারা কিনা কেবল দ্বিতীয়বারের মতো কোন ইউরোপীয় ফাইনালে খেলছে। ক্লাবটির অনুপ্রেরণা একটাই, ১১১ বছরের ইতিহাসে তারা লা লিগা জয় ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ওঠার মধ্য দিয়ে এই প্রথম নিজেদের শ্রেষ্ঠ মৌসুমটি কাটাচ্ছে। অ্যাটলেটিকোর সাথে রিয়ালের ব্যবধান বোঝা যায় দুদলের ব্যয়ের হিসেব থেকেও। রিয়াল বাজেট যেখানে সাড়ে ৫১ কোটি ইউরোর, তাতে একই যাত্রায় অ্যাটলেটিকোর সামর্থ কেবল ১২ কোটি ইউরোর। শিরোপা লড়াইয়ের প্রাক্কালে উভয় দলই ইনজুরি সমস্যায় ভুগছে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে ইনজুরির সমস্যা থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে লিসবনে বেনফিকার মাঠ এস্তাদিও দ্য লুজ এ পর্তুগীজ স্ট্রাইকারটি খেলতে নামবেন। অ্যাটলেটিকোর তারকা দিয়েগো কস্তাও ইনজুরি নিয়ে সমস্যায় আছেন। তিনি এরই মধ্যে সার্বিয়ায় গিয়ে ইউরোপের সেরা থেরাপিস্টের কাছ থেকে শুশ্রষা নিয়েছেন। এমনকি গতকাল দলের অনুশীলনের যোগ দেন তিনি। তাকে নিয়ে সংশয় থাকলেও রোনালদো গত মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন তাকে খেলার জন্য পাওয়া যাবে। রোনালদোর খেলতে নামা মানেই গ্যারেথ বেল এর সাথে মিলে কোচ অ্যানচেলোত্তির দলের সম্ভাবনা আরো জোরদার হওয়া। তবে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে করিম বেনজেমার খেলা নিয়ে সংশয় আছে। মাদ্রিদ সেন্টার ব্যাক পেপেও আছেন এ তালিকায়। চলতি মৌসুমে কোচ অ্যানচেলোত্তির অন্যতম প্রধান অস্ত্র জাবি অ্যালোনসোর শাস্তিমুলক অনুপস্থিতিতে রিয়ালের মধ্যমাঠে সমস্যা দেখা দিতে পারে। স্যামি খেদিরা, আসিয়ের ইলারামেন্ডি কিংবা কাসামিরোর মধ্য থেকে কাউকে অ্যালোনসোর বিকল্প হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে অ্যাটলেটিকো যাতে আক্রমন গড়তে না পারে সে চেষ্টা চালাবেন। এ ক্ষেত্রে ইলারামেন্ডিই হলেন স্বাভাবিক পছন্দ। যদিও মাদ্রিদের হয়ে নিজের অভিষেক মৌসুমে তাকে মানসিক চাপে ভুগতে দেখা গেছে। মধ্যমাঠই যে খেলাটিতে নিয়ামক ভূমিকা রাখবে, এ নিয়ে দ্বিমত নেই অ্যাটলেটিকো কোচ দিয়েগো সিমিওনির। তাই তিনি বলেন,‘এটা হবে খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ এবং আমার ধারণা মধ্যমাঠই খেলার দিক নির্ণয় করবে।’ কোচ অ্যানচেলোত্তির মত হলো-‘এ খেলায় কোন গোপন ব্যাপার নেই। দুই দলই একে অপরকে ভালভাবে জানে।’ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অভিজ্ঞতায় ঘাটতি আছে অ্যাটলেটিকোর। দলটি সে ঘাটতি পূরণ করতে পারবে ডেভিড ভিয়ার অভিজ্ঞতা থেকে। কস্তার অনুপস্থিতিতে জ্বলে ওঠা স্পেন জাতীয় দলের এ স্ট্রাইকার তার বর্তমান দলে নিয়মিতদের মধ্যে একমাত্র সদস্য যিনি এর আগেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলেছেন। শুধু তাই নয়, ২০১১ সালে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেডকে ৩-১ গোলে হারানো ফাইনালটিতে গোলও করেছিলেন ভিয়া। একই অভিজ্ঞতা আছে রিয়াল স্ট্রাইকার রোনালদো ও গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াসের। রোনালদো ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেডে থাকাকালে এবং ক্যাসিয়াস মাদ্রিদের ২০০০ ও ০২ সালের বিজয়ী দলটিতে ছিলেন। এমনকি রিয়ালের সহকারী কোচ জিনেজিন জিদানও হতে পারেন অনুপ্রেরণার উত্স। কেননা স্পানিশ জায়ান্টদের সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ে বায়াল লেভারকুসেনের বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানের জয়টিতে জিদানই অবিস্মরণীয় জয়সূচক গোলটি করেছিলেন। আরেকটি মাদ্রিদ ডার্বির প্রাক্কালে ইতিহাস অবশ্য রিয়ালের পক্ষেই। কেননা ১৯৪টি লিগ ও স্পানিশ কাপের খেলার পর উভয় দল সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইটিতে মুখোমুখি হচ্ছে। রিয়াল অবশ্য সবচেয়ে বেশি ১০২ বার জিতেছে নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের এই লড়াইয়ে। বিপরীতে অ্যাটলেটিকোর অর্জন কেবল ৪৬টি জয়। স্পানিশ লিগে এবারের মৌসুমে দুটি খেলার একটিতে জয় ও অপরটি ড্র করেছে অ্যাটলেটিকো। তবে কোপা ডেল রে’র দুটি খেলাতেই জয়ী হয় রিয়াল। ইউরোপীয়ান কাপে অবশ্য এর আগে একবার মুখোমুখি হয়েছিল দলদুটি। সেটি অবশ্য ১৯৫৯ সালের ঘটনা। তবে সেবার রিয়াল খেলাটির রিপ্লেতে জয়ী হয়েছিল। এ খেলাটি অ্যানচেলোত্তি ও সিমিওনি উভয়কেই নতুন ইতিহাসের দোরগোড়ায় এনে দাড় করিয়েছে। কেননা জিতলে অ্যানচেলোত্তি বব পেইসলির তিনটি ইউরোপীয়ান কাপ জয়ের কৃতিত্বের সমকক্ষ হবেন। এর অন্যথা হলে আর্জেন্টাইন সিমিওনি হবেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী তৃতীয় অইউরোপীয় কোচ।