প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা

আপডেট : ২৪ মে ২০১৪, ১৯:৪৭
মানুষের মানবাধিকার বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় সি এম মিরাজুল ইসলাম প্রভাষক ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ মানবাধিকার প্রশ্ন-ক: মানবাধিকার কাকে বলে? উত্তর: মানুষের ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অধিকারগুলোকে মানবাধিকার বলে। যেমন– স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও মতামত প্রকাশের অধিকার। প্রশ্ন-খ: মানবাধিকারের প্রয়োজনীয়তা লেখ। উত্তর: মানুষের ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অধিকারগুলোকে মানবাধিকার বলে। মানব জীবনে মানবাধিকারের প্রয়োজনীয়তাগুলি হচ্ছে– মানুষের জীবনকে ভালোভাবে গড়ে তুলতে মানবাধিকারগুলো সাহায্য করে। মানবাধিকার মানুষকে লেখাপড়া শিখে যোগ্যতা ও মর্যাদার সাথে সমাজে বসবাসের সুযোগ করে দেয়। মানবাধিকার মানুষের ভালো গুণগুলোকে বিকশিত হতে সাহায্য করে। মানবাধিকার বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সমপ্রীতি তৈরিতে সহায়তা করে। মানবাধিকার সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করে থাকে। সুন্দর সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় মানবাধিকারের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। প্রশ্ন-গ: নারী ও শিশু পাচার বন্ধ হওয়া প্রয়োজন কেন? উত্তর: আমাদের দেশ থেকে প্রায়ই নারী ও শিশুদের বিদেশে পাচার করা হয়। ছোট ছেলে শিশুদের পাচার করে সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পাঠানো হয়। সেখানে তাদেরকে উটের দৌঁড় প্রতিযোগিতার জকি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ কাজটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। নারী ও শিশু পাচার বন্ধের প্রয়োজনীয়তা: নারী ও শিশু পাচার বন্ধের প্রয়োজনীয়তা নিম্নরূপ– নারী ও শিশু পাচার জঘন্যতম মানবধিকার বিরোধী কাজ। অনেক ছোট শিশু কাজ করতে গিয়ে পঙ্গু হয় এবং মারাও যায়। মেয়ে শিশু ও নারীদের বিদেশে কাজের জন্য বিক্রি করে দেওয়া হয়। শিশু ও নারীদের অনেক সময় অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়। শিশু ও নারীদের শারীরিক মানসিক নির্যাতন করা হয়। উপরোক্ত কারণে নারী ও শিশু পাচার বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। প্রশ্ন-ঘ: আমরা বাড়িতে কীভাবে মানবাধিকার চর্চা করতে পারি? উত্তর: মানুষের মানবাধিকার বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কাজ থেকে আমরা মানবাধিকার পেয়ে থাকি। মানবাধিকার চর্চার প্রথম স্তর হচ্ছে পরিবার। বাড়িতে মানবাধিকার চর্চার উপায়: বাড়িতে মানবাধিকার চর্চার উপায়গুলি হচ্ছে– বাড়িতে কেউ যদি মানবাধিকার বিরোধী কোন কাজ করে, তাকে এ বিষয়ে সচেতন করব। প্রয়োজন হলে প্রতিবাদ করব। আমরা বড়দের সম্মান করব এবং ছোটদের স্নেহ করব। আমরা বাড়িতে কাউকে নির্যাতন ও অত্যাচার করব না। অন্যের অধিকার নষ্ট হয় এ ধরনের কোনো কাজ করব না। বাড়ির কাজের লোকদের প্রয়োজনীয় খাবার, পোশাক ও চিকিত্সা দিব। বাড়িতে মানবাধিকার চর্চার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।