সচরাচর আমি ইংরেজি উদ্ধৃতি সহযোগে কোনও লেখা শুরু করি না। কিন্তু আজ প্রথমেই সেই কাজটা করব। কথাটা আমার একটা মস্ত যুক্তির জায়গা বলেই কথাটাকে টানছি। অত্যন্ত ভয় ও বিপন্নতার মধ্যে আমি ওই একটা কথার স্মরণ নিচ্ছি। ভয়, উদ্বেগ, বিপন্নতা কিসের, পরে বলছি। তার আগে ওই কথা বা উক্তির দিকে তাকানো যাক।
প্রথমেই উক্তিটির মোটামুটি গোছের একটা বাংলা তর্জমা দিই। জাস্টিস রাজিন্দর সাচার বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালন ক্ষেত্রে সমদর্শিতার নীতি অনুসরণ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে পারাটাই কোনও দেশ প্রকৃত সভ্য কিনা তার অগ্নিপরীক্ষা।’
‘In any country the faith and the confidence of the minorities in the impartial and even functioning of the state is the acid test of being a civilized state.’
Justice Rajinder Sachar (‘Foreword’ to Basant, Rakesh and Shariff, Abusaleh (eds), Handbook of Muslims in India: Empirical and Policy Perspectives, Delhi,
oxford university Press 2010 p.xv.)
(From muslims in Indian cities, Trajectories of Marginalisation, Edited by Laurent Gayer & Christophe Jaffrelot).
যে বই থেকে উদ্ধৃতি দিলাম (muslims in Indian cities) সেই বইটি একটি তথ্যভিত্তিক গবেষণামূলক বই, এই বইয়ের পিছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। যে কোনও সভ্য দেশ সম্পর্কেই সাচার সাহেবের কথাটা খাটে। একটা দেশ হিন্দুর দেশ নাকি মুসলমানের দেশ, এই ভাবনা বড় কথা নয়, আসল কথাও নয়, আসল কথাটি হচ্ছে, দেশটা সভ্য দেশ কিনা।
যা হোক। মোদী-সুনামি হয়ে গেল। অকপটে বলছি, আমার ভয় কমেনি। আমার কমপ্লেক্স (Complex) হয়তো অকারণেই বেড়ে গেছে। থাকে বলা হয় মাইনোরিটি কমপ্লেক্স, তা আসলে ‘জানমাল’ নিরাপত্তাজনিত; সেই নিরাপত্তার অভাবজনিত ভয়।
কেন এমন হবে! ভয় কেন জন্মে! কমপ্লেক্স আবার কী? এই দেশে দেখেছি, অনেক শিক্ষিত পুরুষকেই এ কথা বলতে যে, ওই যে মাইনোরিটি কমপ্লেক্স (Minority Complex), কেন হবে ওই জিনিস! এই পুরুষগুলোকে দেখেছি, এরা নারীর নিরাপত্তাহীনতা ব্যাপারেও বোঝে না। শূদ্রের অভিমান ব্যাপারেও বোঝে না কিছু। দলিতের উপর অত্যাচার ব্যাপারেও উদাসীন। এরা ভারতবর্ষ দেশটার কোনও কমপ্লেক্সই জানে না। এরা কি কখনও মেয়েদের সম্পর্কে প্রচলিত এই বাংলা প্রবাদ-প্রবচনটা ভেবে দেখেছে? (মেয়েদের) ‘বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না’— কেন? নারীর ওই আচরণের মধ্যে বস্তুত রয়েছে কমপ্লেক্স (complex) ।
Complex -এর ব্যাপারে সহজ করে কথা বলা কঠিন। তবু চেষ্টা করা যাক। এক্ষেত্রে কমপ্লেক্স হল কোনও ব্যাপারে অতি-চেতনাজনিত ভয়। কমপ্লেক্স-এর একটি অর্থ কিন্তু ‘ভীতি’। অর্থাত্ অতি-সচেতনতাও কমপ্লেক্স-এর জন্ম দেয়। যদি আমাকে মাত্র একবার বলা হয়, তুমি ভারতীয় নাগরিক আর দশ বার বলা হয় মুসলমান, তা হলে আমাকে অতি-চেতনার দিকে ঠেলা হচ্ছে এই বলে যে, তুমি মুসলমান ছাড়া কিছু নও। ভোট এলে বুঝিয়ে দেয়া হবে, তুমি মুসলমান বৈ আর কী, কিছু না, কিস্যু না, তুমি সংখ্যা মাত্র এবং সংখ্যায় কম (হিন্দুর তুলনায়), সুতরাং দুর্বল, তাই তোমাকে দিনকে দিন প্রান্তিক স্তরে ঠেলে দেয়ার ব্যবস্থা মোটামুটি পাকা করা গেছে। ফের তুমি ‘অনুপ্রবেশকারী’ কিনা সেটাও মন বললে যাচাই করে নেয়া যাবে। তুমি শরণার্থী না মুসলমান দেখতে হবে না? ভোট আসুক, তখন বড় মঞ্চ করে, বিরাট বক্তৃতা করে বুঝিয়ে দেয়া যাবে। এবং তখন বুঝতে পারবে, তুমি আসলে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক, ভারতীয় মূল জীবন-প্রবাহে তুমি প্রান্তিক। তুমি অধোমুখ এবং বঞ্চিত, কারণ তুমি মুসলমান।
অথচ রাষ্ট্রের চোখে ‘অনুপ্রবেশ’ হচ্ছে বেআইনী অনুপ্রবেশ, তার কোনও হিন্দু-মুসলমান হয় না। কিন্তু মোদীজী কী বললেন? তুমি বাংলাদেশি হিন্দু হলে স্বাগত। বাংলাদেশি মুসলমান হলে বাংলাদেশে ফেরত যেতে হবে। এমনই একজন ধূর্তবাক হিন্দু-মুসলমান বিভাজনকারী ব্যক্তিই অবশেষে ভারতের মতো প্রাচীন সভ্য দেশের প্রধানমন্ত্রী। অবাক হই একথা ভেবে যে, তিনি কি জানেন না, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক অনুপ্রবেশ সমস্যাকে কী চোখে দেখে? নিশ্চয় জানেন। এখন তা হলে প্রশ্ন, ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী অনুপ্রবেশ সমস্যাকে কী চোখে দেখবেন! তিনি কি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কোনও নতুন আইন তৈরি করবেন। ধর্মীয় চরম মেরুকরণমূলক আইন?
তা হলে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কী দাঁড়াবে? হাসিনাকে কি তিনি বলবেন মুসলমান অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত নাও, হিন্দু হলে তাকে আমি সহজেই ভারতীয় নাগরিকত্ব দেব। ফেরত নিতে হবে না। এভাবেই কি জলবণ্টনের মতো হিন্দু-মুসলমান বণ্টন শুরু হবে? কী চান নরেন্দ্রভাই দামোদরদাস মোদী? বিভাজনই কি বিজেপির গেরুয়া নীতি? দার্জিলিংকে কি তিনি আলাদা রাজ্য বানাবেন? নাম হবে গোর্খাল্যান্ড? মজার ব্যাপার এই যে, গোর্খারা যেমন মোদীজীকে ভোট দিয়েছেন, বিশেষ আশ্চর্যের ঘটনা, মুসলমানদের একাংশ এই পশ্চিমবাংলাতেও মোদীজীর দলের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। কী করে এমনটা ঘটে, মোদীভাইকে কিন্তু ভেবে দেখতে হবে।
হাসিনা মোদীভাইকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে দীর্ঘ চিঠি দিয়েছেন, তাতে বলেছেন মোদীভাই যেন বাংলাদেশকে ‘দ্বিতীয় ঘর’ মনে করেন। এমন আন্তরিক আমন্ত্রণ খুব কমই পাবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এই আমন্ত্রণ পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানকে কেন যেন আশ্বস্ত করেছে; বাংলার মুসলমান মনে করছেন, মোদীজী একজন সমদর্শী প্রধানমন্ত্রী হবেন, অটলজীর চেয়েও রাজধর্ম পালনকারী একজন ঐতিহাসিক পুরুষ।
প্রধানমন্ত্রী রূপে প্রথম সফর হোক মোদীজীর বাংলাদেশ। তিনি অনুসরণ করুন তাঁর পরাণপ্রিয় পূজ্যনদী গঙ্গাকে। বারানসী থেকে বাংলা— এই হোক তাঁর গঙ্গা-সংস্কৃতির সফর-পরিক্রমা। তিনি যখন গঙ্গাপুজো দিচ্ছিলেন আমার তখন কেমন এক আনন্দ হচ্ছিল। বোঝাতে পারব না, কী গভীর সেই আনন্দের উত্সার।
গঙ্গা তো বাংলাদেশে পদ্মারূপে প্রবেশ করেছে, তাঁকে কিন্তু অনুপ্রবেশকারী বলা যায় না। তিনি স্বভাবত প্রসারিত এক আশ্চর্য অমৃতপ্রবাহিনী নদী। আমি মুর্শিদাবাদের মানুষ, আমার চৌদ্দ পুরুষ মুর্শিদাবাদী। এই জেলাতেই জন্ম পদ্মার। এই পদ্মাকে সুদ্দো ধরতে হবে গঙ্গার মহিমা। পদ্মার ইলিশ তো আসলে গঙ্গারই ফসল। যাও মোদীভাই দেখে এসো, ওখানের মানুষের অবচেতনায় কীভাবে বেঁচে রয়েছে গঙ্গার উপলব্ধি।
বাংলাদেশের মহত্ এক কবির নাম আল মাহমুদ। তাঁর লেখা একটি বিস্ময়-ব্যাপৃত ছোটগল্প আমাকে নিতান্ত অবাক করেছিল। এপারে তাঁর সম্বন্ধে এক বাজে ধারণা প্রচলিত আছে আর তা হল তিনি নাকি বাংলাদেশের ধর্মীয় মৌলবাদ সম্পর্কে দুর্বল মনোভাব পোষণ করেন। এটি আসলে অপপ্রচার ছাড়া কিছু নয়। তাঁর ওই ছোটগল্পে রয়েছে এমন এক বার্তা যা প্রধানমন্ত্রী মোদীভাইকে বাস্তবিকই বিশেষরূপে তুষ্ট করতে পারে।
গল্পটি মাত্র এক-দু’লাইনে বিবৃত করা যায়। একটি পুকুর খোঁড়ার গল্প। গল্পে দেখা যায়, পুকুরটা খুঁড়তে-খুঁড়তে লোকেরা দেখতে পায় একটি প্রাচীন মূর্তি উঠে এসেছে। অবাক কাণ্ড, মূর্তিটি গঙ্গা দেবীর মূর্তি। আল মাহমুদ দেখাতে চেয়েছেন বাঙালি হিন্দুই হোক আর মুসলমানই হোক তাদের সমষ্টি অবচেতনায় (কালেকটিভ কনসাশনেসে) রয়েছে গঙ্গার লৌকিক মূর্তি। রবীন্দ্রনাথের কথায় হিন্দু-মুসলমান সম্মিলিত বাঙালি এক সুবৃহত্ ভাষাগোষ্ঠী হয়েছে গঙ্গানদীর কল্যাণে, এই নদীই তার ভাষাকে বহন করে নিয়ে গেছে অঙ্গবঙ্গ বিধৌত করে। এই বাঙালিকে কি পৃথক করা ঠিক? মোদীভাই?
ফের কথাটা বলছি, গঙ্গার উভয় তীরের মানুষ একই প্রাকৃত ভাষায় কথা বলেছে, যে-প্রাকৃত অপভ্রংশ থেকেই বাংলা ভাষার বিকাশ, এ ভাষা তাই গঙ্গা-নির্ভর ভাষা, যতদূর গঙ্গা গিয়েছেন, ততদূর গিয়েছে এই ভাষা; বাঙালির একভাষিতার কারণ গঙ্গা এবং এই বাঙালি হিন্দুও বটে, মুসলমানও বটে। এক্ষেত্রে মুসলমান বাঙালিই সংখ্যাগরিষ্ঠ। কেননা বাংলাভাষার কথা বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে তো হবে না, সেখানকার হিন্দু-মুসলমানকে একত্রে ধরতে হবে। সুতরাং আল মাহমুদের গল্পটি মোদীভাইকে, শ্রদ্ধেয় প্রধানমন্ত্রীকে পড়াতে পারলে ভাল হয়।
কিন্তু আমার কমেপ্লক্স, তার কী হবে! আমি বাঙালি, আমি ভারতীয় বাঙালি। আমি ভারতীয় বাঙালি মুসলমান। শুধুমাত্র মুসলমান তো নই। আমার ভারতীয়ত্ব সম্বন্ধে সন্দেহ প্রকাশ করবেন না মোদীভাই, আপনি আজ ভারতবাসীর গৌরব। আপনার ‘দ্বিতীয় ঘর’ বাংলাদেশ। যেখানকার মুসলমানরাও আপনাকে চায়। পাকিস্তানও আপনাকে চায়। উপমহাদেশের শান্তি ও উন্নয়ন চলুক আপনার নেতৃত্বে। আপনি গড়ে তুলুন দাঙ্গামুক্ত ভারতবর্ষ।
আপনাকে সহজ করেই বলি। আমার ধর্ম ইসলাম। কিন্তু কালচার ভারতীয়, ভারত-সংস্কৃতিই আমার সংস্কৃতি। আপনাকে কানে কানে একটা কথা বলি। বাংলা আসলে কবির দেশ। আমি বাংলার প্রধান পাঁচজন কবির কথা বলছি, পাঁচজনই কিন্তু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ছিলেন একজন খ্রিস্টান। রবীন্দ্রনাথ ও জীবনানন্দ ছিলেন ব্রাহ্ম। কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন মুসলমান। লালন শাহ একজন ফকির। মহাবিস্ময়কর ব্যাপার এই যে ভারতীয় জাতীয় সংগীতের স ষ্টা রবীন্দ্রনাথ একজন ব্রাহ্ম এবং সেই ব্রাহ্মই বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতেরও রচয়িতা। খ্রিস্টান মধুসূদন রামায়ণের কাহিনী-উত্স থেকেই মেঘনাদবধ কাব্য প্রণয়ন করেছেন। এসবই আমার ট্রাডিশন। এস.ওয়াজেদ আলি যখন লেখেন, ‘সেই ট্রাডিশন সমানে চলেছে’, তখন তিনি রামায়ণের কথা উল্লেখ করেন।
এই বাংলার বৈষ্ণব কবিদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন মুসলিম পদকর্তা। এই বাংলা কৃষ্ণ-প্রেমে, চৈতন্য-প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছে একদা- এ হল জগাই-মাধাই-এর বাংলা। কৃষ্ণপ্রেমের সঙ্গে লোক-ইসলামের মিলন ঘটেছে এখানে। লোকস্তরে মিলন-গান গেয়েছেন লোক-কবির দল। একজন মহামতি লালন শাহ্ কম কথা নয়। রবীন্দ্রনাথ-লালন এমন ব্যাপার এই বাংলাতেই সম্ভব হয়েছে। এখানে পীরের মাজারে মানত করে হিন্দু-মুসলমান উভয়ে। এখানকার লোকধর্মগুলো সমন্বয়প্রবণ। এখানে আল্লা আলজিহ্বায় থাকেন, কৃষ্ণ থাকেন টাকরাতে।
কবীর জোলার সমন্বয়-চিন্তা সারা ভারতবর্ষের লোকস্তর অবধি প্রসারিত। তিনি হিন্দুও ছিলেন, মুসলমানও ছিলেন। এমনটি এই দেশে হয়েছে। কবীরের দোহা ভারত-সংস্কৃতির মহত্ সম্পদ। এই দেশেই সম্রাটপুত্র হিন্দু-মুসলমানের মিলন-সাধনার শ্রেষ্ঠতম অভিব্যক্তি ছিলেন। নাম তাঁর দারাশিকো, তিনি মনে করতেন কোরানের আত্মায় রয়েছে উপনিষদের প্রতিধ্বনি। তাঁর মতো মহত্প্রাণকে নিয়ে বাংলার লেখক লিখেছেন মহত্ উপন্যাস। পদবী পরিচয়ে তিনি ব্রাহ্মণ। নাম শ্যামল, পদবী গঙ্গোপাধ্যায়। বাংলা সাহিত্যে চিরস্থায়ী কাজ রেখে গেছেন শ্যামলদা (শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়) এই বাংলায় এসে যখন হিন্দু-মুসলমানকে আলাদা করেন মোদীজী এবং অনুপ্রবেশ-তত্ত্বের সাম্প্রদায়িক ব্যাখ্যা দেন, তখন আমার মনে এক উদ্বেগের জন্ম হয়। আবার বলছি, অনুপ্রবেশ বেআইনী এবং তার হিন্দু-মুসলমান হয় না। তথাপি মুসলমান আপনাকে ভোট দিয়েছে। ভেবে দেখুন, কেন এমন হল!
আমি একজন ভারতীয় বাঙালি মুসলমান। আমি ভয় পাচ্ছি, ফের ভাবছি, দাঙ্গা-কলঙ্কমুক্ত এক বিকাশ-পুরুষ মোদীকেই আমরা পাব। এক গঙ্গা-পূজারী লৌকিক মোদী; মুসলমানকেও যিনি অভয় দিতে পারেন। দিদি বলেছেন, ভয় কী, আমি তো আছি। সে কথাই অধিকাংশ মুসলমানের মনে ধরেছে। আপনাকে দাঙ্গার সুখ বলেছেন দিদি। মুসলমান এ কথা বিশ্বাস করেছে। ফের মুসলমানের একটা অংশ আপনাকে ভোট দিয়েছে। বলুন, কেন এমন হল!
আমার একটি অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীকে। আপনি এই বাংলায় উন্নয়নের বান ডাকিয়ে দিন। উন্নয়নই হোক আপনার মন্ত্র। সারাদেশ দারিদ্র্যের শাপে অভিশাপগ্রস্ত। এত বছর দেশ স্বাধীন হয়েছে। কী উন্নতি করেছে এই দেশ? আজও এই দেশে ৭৭ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। সত্যিই কি এই দারিদ্র্য দূর করতে পারবেন নরেন্দ্রভাই দামোদরদাস মোদী? নাকি দারিদ্র্য যা তাইই রইল আর দাঙ্গায় বিধ্বস্ত হল দেশ! সে হবে এক কঙ্কালময় ভারতবর্ষ। না না একথা আমি আমার কমপ্লেক্স থেকে বলছি, এ ঠিক কথা নয়। সুদিন আসছে। আমরা ভারতবর্ষে সুশাসন দেখতে পাব।
এই বাংলায় দেখা দেবে উন্নয়নের প্রতিযোগিতা। দিদিও করবেন। মোদীজীও করবেন। সেই উন্নয়নের ধাক্কায় আমার মনের কমেপ্লক্স হবে দূর। আমি হব ভারতের মূল জীবন ও সংস্কৃতি-প্রবাহের অংশী। প্রান্তিক থাকব না। দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক রব না আর। আমি মানুষ হব।
সুদিন আসছে।
কিন্তু শেয়ারের বাজার অভূতপূর্ব চাঙ্গা হয়েছে। শেয়ারসূচক আকাশ-ছোঁয়া। এদিকে জিনিসের দামও আকাশ-ছোঁয়া। বাজার চাঙ্গা হলে জিনিসের দাম কমে না কেন? আচ্ছা কী করলে জিনিসের দাম কমে? কী করলে জিনিসের দাম কমে জাতীয় কংগ্রেস স্বাধীনতার এত বছরেও বুঝে উঠতে পারেনি। কী করলে দুর্নীতি কমে তা-ও তারা, ওই কংগ্রেস দল জানত না। কেন জানত না?
সুদিন আসছে। সুশাসন বর্তাবে।
কংগ্রেস যা জানত না। ভাজপা তাই জানে।
মোদী-ম্যাজিক দাম কমাবে জিনিসের। মন্ত্রীরা খুব-কেলেঙ্কারি করবেন না। দাঙ্গা হবে না দেশে। শান্তিকল্যাণ হবে সর্বত্র। আপনি উন্নয়ন দিন নরেন্দ্রভাই, আমরা আপনাকে উপহার দেব ভারত তীর্থের কবি রবীন্দ্রনাথের সংস্কৃতি। কিন্তু হলে হয়! আগামী ৬ মাসেই সব বোঝা যাবে। সুদিন না দুঃসময়!
লেখক : কথাসাহিত্যিক
