ব্যর্থতা, লজ্জা ও প্রতিজ্ঞা...

আপডেট : ২৪ মে ২০১৪, ২২:১৭
ডি-বক্সে ডিফেন্ডার কিংবা গোলরক্ষকদের সামনে ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক। সেটা ক্লাব ফুটবলেই হোক কিংবা জাতীয় দলেই হোক। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে ছিলেন আরও ভয়াবহ। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ দলে থাকলেও খেলা হয়নি একটি ম্যাচও। কিন্তু ১৯৯৮ থেকে পরের তিনটি বিশ্বকাপে ছিলেন দলের নিয়মিত সদস্য। জিতেছেন দুটি বিশ্বকাপ, একটিতে দলকে নিয়ে গিয়েছেন ফাইনালে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৫টি গোলের রেকর্ডটিও তার ঝুলিতেই আছে এখনও। তবে, প্রশাসনিক দক্ষতায় যে বিশ্বকাপের লোকাল অর্গানাইজিং কমিটির সদস্য রোনালদো লুইস নাজারিও ডি লিমা নিজের খেলোয়াড়ী জীবনকে ছাড়িয়ে যেতে পারেননি সেটা সামপ্রতিক পরিস্থিতি থেকেই স্পষ্ট। কয়েকটি স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ এখনও বাকি। বিমান বন্দর, বাস লেন, মেট্রো লেন—অবকাঠামোগত কোন সমস্যাই এখন পর্যন্ত সমাধান করতে পারেনি ব্রাজিল। কাজের ধীরগতির জন্য রোনালদো প্রথমেই সামনে নিয়ে আসলেন। বিব্রত রোনালদো এই প্রসঙ্গে সাও পাওলো নিজের অফিসে বসে বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য বড় একটা লজ্জা। এটা আমার দেশ। আর আমি এর আসল চিত্রটা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছি। তাই অবশ্যই আমি লজ্জিত। ২০০৭ সালে যখন এখানে বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়, তখন থেকেই দুর্নীতি ও কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় কাজ শেষ করতে আমাদের দেরী হচ্ছে।’ ব্রাজিল ফুটবল দলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা বলতে তাই তার মত যোগ্য মানুষ গোটা দুনিয়াতেই আছেন হাতেগোনা ক’জন। রোনালদো এবারের বিশ্বকাপে এগিয়ে রাখছেন নিজের দেশ ব্রাজিলকেই। ক্যারিয়ারে রিয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনা ও এসি মিলান-রিয়াল মাদ্রিদের মত ক্লাবে খেলা রোনালদোর মতে লড়াইয়ে আছে জার্মানি, আর্জেন্টিনা ও স্পেন। সর্বশেষ ১৯৫০ সালে সর্বশেষ ব্রাজিলে আয়োজিত হয়েছিল বিশ্বকাপ। সেবার উরুগুয়ের কাছে ফাইনাল হারায় কেঁদেছিল মারাকানা স্টেডিয়ামের এক লাখ সত্তর হাজার মানুষ। সর্বশেষ ১৪টি ম্যাচের মধ্যে ১৩টি ম্যাচই জিতেছে ব্রাজিল। গত বছর কনফেডারেশন্স কাপে স্পেনকে বিধ্বস্ত করার মধ্য দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপের জন্য যোগ্য বলেই ঘোষণা করেছে সেলেচাওরা। তবে পরিসংখ্যান বলছে, কনফেডারেশন্স কাপ জয়ী দল কখনওই পরের বছরের বিশ্বকাপ জিততে পারে না। আর ৩৭ বছর বয়সী রোনালদোর চোখে দলটির বড় সমস্যা হচ্ছে অভিজ্ঞতা, ‘দলটাতে ২০ বছর বয়সী কয়েকজন খেলোয়াড় আছেন যাদের অনেকেরই এটা প্রথম বিশ্বকাপ। অনেকের আবার বিশ্বকাপ দিয়েই আন্তর্জাতিক অভিষেক হবে। তাই ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করলেও টুর্নামেন্টটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ উদ্বোধনী ম্যাচে আগামী ১২ জুন ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ ক্রয়েশিয়া। প্রথম ম্যাচটার দিকে আলাদা নজর দিচ্ছেন রোনালদো, ‘প্রথম ম্যাচটা ব্রাজিলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচ দিয়েই সামনে ব্রাজিল কেমন করতে যাচ্ছে সেটা বোঝা যাবে।’ ব্রাজিলে খেলা বলে দক্ষিণ আমেরিকান দলগুলোর সুযোগ বেশি থাকবে কিনা? -এমন এক প্রশ্নের জবাবে রোনালদো জানান, আবহাওয়াজনিত বিশ্বকাপে বাড়তি সুবিধা পাবে না কোন দলই, ‘ইউরোপে খেলোয়াড়দের আরও বেশি তাপমাত্রায় খেলতে হয়। মানাউসে তাপমাত্রা একটু বেশি। গরমকালে সেখানে সর্বোচ্চ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা হয়। শীতের সময় থাকে ২৮-২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফুটবল খেলার জন্য আদর্শ একটা আবহাওয়া। আমাদের বিশ্বকাপ আয়োজনে অনেক ব্যর্থতা থাকতে পারে, তবে আবহাওয়ার যে ব্যাপারটা নিয়ে আমাদের সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হচ্ছে সেটা পুরোই ভিত্তিহীন।’ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডধারী রোনালদোর ঘাড়ের উপর নি:শ্বাস ফেলছেন জার্মান ফরোয়ার্ড মিরোস্লাভ ক্লোসা। রোনালদোর থেকে মাত্র এক গোল পিছিয়ে আছেন তিনি। বিশ্বকাপ শুরুর আগে পোলিশ বংশোদ্ভূত ল্যাজিওর এই ফুটবলারের জন্য শুভকামনা জানালেন রোনালদো, ‘সে যদি আমার চেয়ে বেশি গোল করতে পারে তাহলে সেটার পুরো কৃতিত্বটাই তাকে দিতে হবে। আমি তার হয়েই মাঠে চিত্কার করবো। রেকর্ড গড়াই হয় ভাঙার জন্য। কোন একদিন রেকর্ড ভাঙবে। আমি জানি আজীবন আমি কোন রেকর্ডই ধরে রাখতে পারবো না।’