গত প্রায় এক দশক ধরে ফ্রেঞ্চ ওপেন শুরুর আগে একটা প্রশ্নই আসছে ঘুরেফিরে। ব্যতিক্রম নয় এবছরও। রোলা গ্যারোর লাল কোর্টে রাফায়েল নাদালকে হারাতে পারবেন কেউ? তবে এই স্প্যানিয়ার্ডের সামপ্রতিক ফর্ম বলছে ক্লো কোর্টে স্মরণকালের সবচেয়ে বাজে ফর্ম নিয়েই এবার প্যারিসে পা রেখেছেন নাদাল। আর সেই সুযোগটা নাদালের প্রতিপক্ষরা নিতে পারলে এবার পুরুষ ওপেনে নতুন কোন চ্যাম্পিয়নই দেখতে যাচ্ছেন টেনিস প্রেমীরা। বরাবরের মতো এবারও মন্টে কার্লো মাস্টার্সের মাধ্যমে ক্লে কোর্ট মৌসুম শুরু করা নাদালকে বিশাল এক ধাক্কা দেন ডেভিড ফেরার। গত দশ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ক্লো কোর্টে নাদালকে হারিয়ে দেন তার স্বদেশী ডেভিড ফেরার। ফলে এক দশকেরও বেশী সময় বাদে এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হন নাদাল। দ্বিতীয় ধাক্কাটা ছিল বার্সেলোনা ওপেনে। সেখানেও ২০০৩ সালের পর নিজের প্রথম হারের স্বাদ নিতে বাধ্য হন র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ তারকাটি। এরপর কেই নিশিকরিকে হারিয়ে নিজের দেশে মাদ্রিদ ওপেনের শিরোপা জিতলেও রোম মাস্টার্সের ফাইনালে তাকে শিরোপা বঞ্চিত করেন নোভাক জোকোভিচ। ফলে নিশ্চিত হয়ে যায়, গত দশ বছরের মধ্যে এবার প্রথমবারের মতো মাত্র একটি ইউরোপিয়ান ক্লে কোর্ট শিরোপা ছাড়াই ফ্রেঞ্চ ওপেন খেলতে হচ্ছে গত বছরই ওপেন যুগের একমাত্র খেলোয়াড় হিসাবে কোন গ্র্যান্ড স্ল্যামে অষ্টম শিরোপা জেতা নাদালকে। তবে এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সফলতম খেলোয়াড়টিকে তার জয়রথ ধরে রাখতে হলে কঠিন এক পথই পাড়ি দিতে হবে। কারণ, ড্রতে তার সাথে একই গ্রুপে পড়েছেন ব্রিটিশ তারকা অ্যান্ডি মারে, অস্ট্রেলিয়ান ওপেন চ্যাম্পিয়ন স্তানিস্ল্যাস ওয়াওরিঙ্কাও। তবে এখনই এতদূরে দৃষ্টি দিতে চাইছেন না নাদাল। বরং সব প্রতিপক্ষকেই সমান বিবেচনা করে ম্যাচ ধরে এগোতে চাইছেন তিনি, ‘তারা আসলে এমন সব প্রতিপক্ষ যারা জানে ক্লে কোর্টে কিভাবে খেলতে হয়। মোটেই সহজ হবে না তাদের বিরুদ্ধে লড়াইটা।’এদিকে, অন্য গ্রুপে পড়েছেন নোভাক জোকোভিচ, ডেভিড ফেরাররা। অর্থাত্ ফাইনালের আগে দুই শীর্ষ বাছাইয়ের দেখা হবার সম্ভাবনা নেই।
