ঢাকা-দিল্লি
সম্পর্কের ভাটা
পড়বে না
ভারতের জাতীয় লোকসভা নির্বাচনের দৃশ্যপটে ক্ষমতার পালাবদলের সাথে সাথে ঢাকা-দিল্লী সম্পর্ক নিয়ে চলছে নানা সমীকরণ আর হিসাব-নিকাশ। কট্টর হিন্দুত্ববাদের চেতনাবাহী দল বিজেপির সার্টিফিকেটে দিল্লীর মসনদে আসীন হতে চলেছেন সম্প্রদায়িক নেতা নরেন্দ্র মোদী সরকার। অতীত বলে বিদায়ী কংগ্রেসের বন্ধুপ্রতিম ঢাকার বর্তমান সরকারের সাথে বিজেপির সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়। তাই বলে ঢাকার ডানপন্থি-ইসলামিস্টদের খুশিতে মাতামাতি করাটা বোকামির নামান্তর। কারণ মুসলিম-বিদ্বেষী মোদী তার নির্বাচনী প্রচারাভিযানে ‘খেদাও মুসলিম’ স্লোগান দিয়ে হিন্দু মৌলবাদের জানান দিয়েছে। কেউ কেউ বলছে, দাঙ্গাবাজ মোদী জনগণের হিন্দুত্ববাদ সেন্টিমেন্টকে কবজা করে নির্বাচনে জয়ীর হওয়ার জন্য কিছুটা সাম্প্রদায়িক বক্তব্য দিয়েছেন। আর তাতে যদি ঢাকার জাতীয়তাবাদী-ইসলামীদের সাথে বিজেপির সখ্য গড়ে ওঠে এতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সর্বোপরি, ভাসমান জাহাজ কোন ঘাটে গিয়ে ভিড়বে-সেটাই দেখার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনতে হবে।
শরীফুল ইসলাম শরীফ
৪র্থ বর্ষ,বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা।
০০০০০০০০০০০
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক
সবসময় বন্ধুত্বপূর্ণ
থাকবে
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সহযোগিতা এবং প্রতিবেশী হিসেবে ঢাকা ও দিল্লীর মধ্যে সবসময় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। যদিও ভারতের বিগত কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট সরকারের আমলে সীমান্তে হত্যা, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি, ছিটমহল বিনিময় ইত্যাদি বিষয় নিয়ে এ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা ফাটল ধরে। তাই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার এই সকল অমীমাংসিত বিষয়ে বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদির কার্যকরি পদক্ষেপই ভারতের নির্বাচন-পরবর্তী ঢাকা-দিল্লী সম্পর্ক নির্ধারণ করবে। আশা করা যায়, দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বিজেপি এই সকল অমীমাংসিত বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিবে এবং ঢাকা-দিল্লী সম্পর্ক সবসময় বন্ধুত্বপূর্ণ থাকবে।
আজিজুল হক
ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
০০০০০০০০০০০০০
ঢাকা-দিল্লি
সম্পর্ক আরো
সুদৃঢ় হবে
বিজেপি ক্ষমতায় আসায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ভেঙে পড়বে তা ভাবার কোনা কারণ নেই। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে নরেন্দ্র মোদী বিজয় লাভ করে জনগণের কল্যাণের জন্য সবাইকে নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাই দেশের স্বার্থে প্রতিবেশী দেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখবেন বলে আমি মনে করি। দু’টি দেশের সম্পর্ক দেশের প্রধানদের পারিবারিক সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না বরং দেশের স্বার্থের ওপর নির্ভর করে। তাই আমাদের দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বার্থেই ভারতের নতুন সরকারের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবেন বলে মনে করি। তাছাড়া দু’টি দেশের মধ্যে চলমান চুক্তিগুলো সম্পন্ন করতে এবং তিস্তা চুক্তি সম্পন্ন করতে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে হবে। তাই স্পষ্টভাবে বলা যায় যে বিজেপির বিজয়ে ঢাকা-দিল্লী সম্পর্কে কোন ভাটা পড়বে না বরং সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
সঙ্গিতা সরকার
১ম বর্ষ, ২য় সেমিস্টার, বাবসায় প্রশাসন বিভাগ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় , সিলেট ।
০০০০০০০০০০০০০০০
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক
কেমন হবে তা
সময়ই বলে দেবে
কিছুদিন আগে হয়ে গেল ভারতের ১৬তম লোকসভা নির্বাচন এবং বিজেপি পেল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা। এই নরেন্দ্র মোদী নিয়ে আমাদের দেশে অনেকেরই অনেক শংকা। তাঁর হিন্ধুত্ববাদী রাজনীতি এই অঞ্চলে সামপ্রদায়িক উস্কানি বাড়িয়ে দিয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। মোদীর সমালোচক ভারতেও আছেন অনেকে। ২০০০-২০০১ সালে গুজরাটে দাঙ্গায় ২০০০-এর বেশি মুসলমান সংখ্যালঘু নিহত হয়েছেন। অভিযোগের তীর মোদীর দিকে, কেননা তিনি ক্ষমতায় ছিলেন। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অনেকগুলো বিষয় অমীমাংসিত রয়ে গেছে। এগুলোর সুরাহা হওয়া দরকার। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সমস্যা শুধু তিস্তা নিয়ে নয়; আরও অনেক সমস্যা আছে। প্রধান সমস্যাটি হল মনস্তাত্ত্বিক। আমরা এখনও ১৯৪৭ সালের বিভাজনের ঋণ বা লিগেসি বয়ে বেড়াচ্ছি। এই উপলব্ধি থেকেই আমাদের বসতে হবে খোলা মন নিয়ে। সেজন্য দরকার কৌশলী কূটনীতিকের। এখন যারা এ দায়িত্ব পালন করছেন তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁদের ব্যর্থতার দায় বইতে হচ্ছে শেখ হাসিনাকে। ভারতের অবস্থাও একই রকম। যদি সামনের দিকে এগোতে হয়, নরেন্দ্র মোদীকেও এই অচলায়তন ভাঙতে হবে। আমি আশাবাদী।
বিশ্বজিত্ ভট্টাচার্য
১ম বর্ষ, ২য় সেমিস্টার; ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।
সুস্থ গণতন্ত্রের চর্চাই পারে সকল সমস্যার সমাধান দিতে
সমপ্রতি ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সমর্থিত প্রার্থী নরেন্দ্র মোদী বিজয় লাভ করেন। বাংলাদেশের এক পক্ষ ভাবছেন এতে ঢাকার সাথে দিল্লির সম্পর্কের টানাপোড়ন ঘটবে আরেক পক্ষের মতামত অন্যরকম। বিজেপি সরকার গঠন হচ্ছে ভারতে আর এ নিয়ে গুঞ্জন হচ্ছে বাংলাদেশে। আমাদের মনে রাখতে হবে ভারত এমন একটি দেশ যার সাথে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ভারত সরকারের সাথে নয় দেশ ভারতের সাথে সুসর্ম্পক বজায় রেখে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে হবে । সুস্থ গণতন্ত্রের চর্চাই পারে সকল সমস্যার সুন্দর সমাধান দিতে। তাই আমাদের দেশের স্বার্থে সুস্থ গণতন্ত্র চর্চা করা উচিত।
সিকদার আনিছুর রহমান
বি এ অনার্স (ইংরেজী), এম এ অধ্যয়নরত
সরকারি বি. এম. কলেজ, বরিশাল
বরিশাল সদর, বরিশাল
