কোচের অবহেলায় হতাশ ডনোভন

আপডেট : ২৫ মে ২০১৪, ২২:০৬
টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে নিজেকে মেলে ধরার দারুণ এক হাতছানি ছিল। কিন্তু লেন্ডন ডনোভনের জন্য সেই সুযোগটা অধরাই থাকলো। সুযোগ না পাওয়াকে নিজের প্রতি অবহেলা হিসেবেই দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা এই ফরোয়ার্ড। কোচ জার্গেন ক্লিন্সম্যানের ২৩ দলের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা হয়নি ডনোভনের। ফলে ৩২ বছর বয়সী স্ট্রাইকারের জীবনে আর বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ খুবই কম। সেই অপ্রাপ্তি থেকেই হতাশা ঝরলো মেজর লিগ সকার ক্লাব লস অ্যাঞ্জেলস গ্যালাক্সির এই তারকার কণ্ঠে। ক্লাবের অনুশীলনে তিনি মুখোমুখি হন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় দুটি পত্রিকা ইউএসএ টুডে ও লস অ্যাঞ্জেলস টাইমের সাথে। বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি হতাশ, আমি খুশি নই। আমিও মানুষ। আর সত্যিই আমি বিশ্বকাপ খেলার জন্য মুখিয়ে ছিলাম। আমি সিদ্ধান্তটাকে অবশ্যই শ্রদ্ধা করি। কিন্তু হূদয় থেকে আমি এখনও অনুভব করি যে, আমার বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া উচিত ছিল। আর এই হতাশার কোনো ওষুধ নেই।’ জার্মান কোচ জার্গেন ক্লিন্সম্যানের সমালোচনা করে ডনোভন বলেন, ‘ঠিক কোন যুক্তিতে আমাকে বাদ দেয়া হল সেটা আমার ঠিক বোধগম্য নয়। অনুশীলন ক্যাম্পটা যদি তিনি ভালভাবে দেখে থাকেন তাহলে তার কাজের কোনো ব্যাখ্যা নেই। আমি এখনও মনে করি আমার সামনে ব্রাজিলে যাওয়ার সুযোগ ছিল।’ তাহলে কি ব্যক্তিগত টানাপোড়েন ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রর দল গঠনে? - এমন এক প্রশ্নের জবাবে ডনোভন বলেন, ‘আমার মতে আমি ক্যাম্পের সবচেয়ে ভাল খেলোয়াড়দের একজন ছিলাম। আমি যদি যোগ্য না হতাম তাহলে ব্যাপারটা নিয়ে আমি আর কোনো কথা বাড়াতাম না। কিন্তু এখানে আসল ঘটনা সেটা নয়। নিশ্চয়ই আমাকে নিয়ে কোচের আরও কিছু সমস্যা আছে। ক্যাম্পের পারফরম্যান্স, প্রস্তুতি, ফিটনেস, পরিশ্রম করার মানসিকতা, আমার খেলার ধরন - সব কিছু মিলিয়ে আমার ২৩ জনের দলে সুযোগ পাওয়া উচিত ছিল।’ মেজর লিগ সকারের সর্বশেষ মৌসুমে প্রথম চার মাস ইনজুরির কারণে খেলা হয়নি লেন্ডন ডনোভনের। সেখান থেকে ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে তিনি খেলেছেন বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ম্যাচ। গত গ্রীষ্মে কনক্যাকাফ গোল্ড কাপেও আমেরিকান দলের মধ্যমণি ছিলেন ডনোভন। তবে, ঘরোয়া লিগের যে সাতটি ম্যাচে ছিলেন, তার একটিতেও গোলের মুখ দেখেননি ডনোভন। সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে সুযোগ না পেয়ে আমার কোনো রাগ নেই। কিন্তু আমি হতাশ। বয়স হবার পর থেকে আমি অধিকাংশ সময় ফুটবলের পিছনেই ব্যয় করেছি। আর দেশের প্রতিনিধিত্ব করাটা আমার জন্য বিরাট সম্মানের ব্যাপার। এবারের বিশ্বকাপ খেলার জন্য আমি মুখিয়ে ছিলাম। ১০ দিন আমি ক্যাম্পে ছিলাম। কিভাবে দলের জন্য বিশ্বকাপে আরও কার্যকর হওয়া যায় তার জন্য ছক আঁঁকছিলাম। কিন্তু সব কিছু শেষ হয়ে গেল। সময়টা এখন তাই আমার জন্য খুবই হতাশাজনক। মনে হয় আমার সতীর্থরাও আমার অভাব বোধ করবে।’ গত দুটি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র দলের মূল খেলোয়াড় ছিলেন লেন্ডন ডনোভন। চার বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় আলজেরিয়ার বিপক্ষে শেষ মিনিটের গোলে গ্রুপ ‘সি’ থেকে নক আউট পর্বে উঠে যায় যুক্তরাষ্ট্র।