জন্মটা হয়েছিল আর্জেন্টিনার রোজারিওতে। তবে, তার ‘ভিনগ্রহের ফুটবলার’ হয়ে ওঠার পুরোপুরিই হয়েছে কাতালানদের সাথে। বার্সেলোনার হয়ে একেকটি অর্জন হয়ে উঠেছে তার অমরত্বের একেকটি মাইলফলক। জাতীয় দলের পারফরম্যান্স নয়, বরং স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে পারফরম্যান্স বিবেচনাতেই তিনি হয়েছিলেন টানা চারবারের বর্ষসেরা ফুটবলার।
আর মেসিও চেয়েছিলেন, স্পেন জাতীয় দল থেকে তাকে ডাকা হোক। চমকে যাবার মত এই কথা জানিয়েছেন মেসি নিজেই। কাতালান দৈনিক ‘স্পোর্টস’কে মেসি বলেন, ‘আমি আশা করছিলাম স্প্যানিশ দল আমাকে ডাকুক। অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ ছিল। কিন্তু আমি সব সময়ই বলেছি আমি আমার দেশের হয়ে খেলতে চাই, আমি আর্জেন্টিনাকে ভালোবাসি। আমি মনে করি আর্জেন্টিনার জার্সির রং আমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে। আর্জেন্টিনা আমার দেশ। আমি কেন আর্জেন্টিনার পরিচয় মুছে ফেলি না—মানুষ আমাকে জিজ্ঞাসা করে। কিন্তু আমি সেটা করি না। কারণ আমি মাতৃভূমির পরিচয় মুছে ফেলতে চাই না।’
২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে অভিষেক হয় লিওনেল আন্দ্রেস মেসির। এর আগে নিজের ১৩ বছর বয়স থেকেই আছেন বার্সেলোনার সাথে। আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের চেয়ে মেসি ক্লাব ক্যারিয়ারে বেশি যত্নবান বলে অভিযোগ রয়েছে। কেননা জাতীয় দলের চেয়ে ক্লাব ফুটবলেই বেশি উজ্জ্বল তিনি। জীবনের অধিকাংশ সময়ই দেশে না থাকায় আর্জেন্টিনার জনগণও মেসিকে সঠিকভাবে বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। অনেকটা যেমন কার্লোস তেভেজের মতই মেসিকে হতে না হয়। নিজ দেশ ত্যাগ করায় তেভেজ অনেক মানুষের কাছেই এখন প্রিয়।
তেভেজ আর্জেন্টিনা ছেড়েছিলেন ২২ বছর বয়সে আর মেসি ১৩ বছর বয়সে। কিশোর বয়স শেষ হওয়ার আগেই স্পেনের নাগরিকত্ব লাভ করেন মেসি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আর্জেন্টিনায়ও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন মেসি। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে মেসির ছন্দ দেখেছিল ফুটবল বিশ্ব। এবারো আলেসান্দ্রো সাবেলার দলের মধ্যমনি লিওনেল মেসি। বাছাইপর্বেও তার আলোকচ্ছটা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী। কদিন আগে আরেক আর্জেন্টাইন কিংবদন্তী ও ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের নায়ক ডিয়েগো ম্যারাডোনা বলেন, ‘মেসির নতুন করে প্রমাণ করার কিছু নেই। এমনিতেই ও বিশ্বসেরা একজন খেলোয়াড়। বিশ্বকাপ জয় হলে ওর অর্জনের পরিমাণটা বাড়বে আরেকটু। আশা করি ও সেটা করতে পারবে।’
মেসি সেটা করতে পারবেন কিনা; তা সময়ই বলে দেবে। আর বিশ্বকাপ জিতে ফেললে সর্বকালের সেরা হবার পথে তার সামনে আর কোন বাধাই থাকবে না।—ওয়েবসাইট
