ওরা এগারো জন...

আপডেট : ২৫ মে ২০১৪, ২২:০৭
সুন্দর খেলা ফুটবলে অসুন্দরের আনাগোনা নতুন কোন ঘটনা নয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত চার বছর আগের বিশ্বকাপেও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন ১৭ জন! এবারও পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে সেই ঘটনার। ফিফা.ডট কম তেমন সম্ভাব্য ১০ জনের নাম প্রকাশ করেছে। সেই তালিকায় ইতালির মারিও বালোতেল্লি তো আছেনই। সাথে যুক্ত হয়েছেন আরও ১০ জন- মারিও বালোতেল্লি (ইতালি) পাগলাতে চরিত্রের জন্য বর্তমান ফুটবল বিশ্বে আলোচিত নাম মারিও বালোতেল্লি। মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে অদ্ভুত আচরণের জন্য ‘ব্যাড-বয়’ ইমেজ তার অনেকদিনের। বিশ্বকাপে ইতালি দলের আক্রমণ ভাগের দায়িত্ব তার হাতে। লাল কার্ড দেখাটা যে কোন পর্যায়ের ফুটবলেই তার জন্য ওয়ান-টুর ব্যাপার। সব ধরনের ফুটবল মিলিয়ে কতবার যে লাল কার্ড দেখেছেন তার কোন হিসাব নেই। এবার ব্রাজিল বিশ্বকাপেও নিসন্দেহে দেখা যাবে তার চিরাচরিত রূপ। মাইকেল উমানা (কোস্টারিকা) কোস্টারিকার সেন্টার ব্যাক মাইকেল উমানা শেষ চারটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে দেখেছেন চারটি হলুদ কার্ড। ৩১ বছর বয়সী এই তারকা জাতীয় দলের হয়ে গোটা ক্যারিয়ারে পেয়েছেন দুটি লাল কার্ড। ডি গ্রুপে ইতালি, উরুগুয়ে ও ইংল্যান্ডের মত শক্তিশালী দলের আক্রমণ ভাগের জন্য ত্রাস হয়ে উঠতে পারেন তিনি। খেলতে হবে পা বাঁচিয়ে! মিশেল ল্যাঙ্গারেক (অস্ট্রেলিয়া) পজিশনটা গোলরক্ষকের। কিন্তু তারপরও ‘পাপমুক্ত’ থাকাটা বেশ কষ্টকরই হবে মিশেল ল্যাঙ্গারেকের জন্য। ক্লাব ফুটবলে তার ইতিহাস তেমনটাই বলছে। জার্মান ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের ব্যাক-আপ এবার অস্ট্রেলিয়ানদের এক নম্বর গোলরক্ষক। আর বাছাইপর্বে তেমন কোন ভূমিকা না রাখা ২৫ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়ের জন্য চাপটা তাই একটু বেশি। সেই চাপ থেকেই স্পেন, নেদারল্যান্ড ও চিলির সাথে গ্রুপে লাল কার্ড দেখে ফেলতে পারেন তিনি। নাইজেল ডি লং (নেদারল্যান্ড) ২০১০ সালের ফাইনালে জাবি অ্যালোনসোর বুকে বুট দিয়ে আঘাত করে প্রথম দফাতেই লাল কার্ড দেখেছিলেন নেদারল্যান্ডের নাইজেল ডি লং। গোটা টুর্নামেন্টেই ‘অতিরিক্ত’ আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য বেশ সমালোচিত হয়েছিলেন এই ডিফেন্ডার। সম্প্রতি মিলানের মৌসুম সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়া লং এবার উদ্বোধনী ম্যাচেই খেলবেন স্পেনের বিপক্ষে। ব্রাজিলে কি ফিরে আসবে দক্ষিণ আফ্রিকা? ওরেস্টিস কারনেজিস (গ্রিস) তার কাজটাও গোলরক্ষকের। আর গ্রিক সুপার লিগে নিজ দলের হয়ে তিনটি হলুদ কার্ড ও একটি লাল কার্ড প্রমাণ করছে তিনিও পেতে পারেন সর্বোচ্চ শাস্তি। ২০০৪ সালের ইউরো জয়ের পর থেকে গ্রিস দলও লড়াইয়ের মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামে। তাই কলোম্বিয়া, জাপান, আইভোরি কোস্ট সাবধান। আসছেন ওরেস্টিস কারনেজিস! পেপে (পর্তুগাল) ক্লাব বা জাতীয় দল—মঞ্চ যাই হোক না কেন সতর্ক বার্তা পাওয়ার জন্য বিশেষ কুখ্যাতি আছে পর্তুগালের সেন্টার ব্যাক পেপের। সর্বশেষ মৌসুমে সব ধরনের টুর্নামেন্ট মিলিয়ে ৪৮ টি ম্যাচে পেপে পেয়েছেন মোট ১৩ টি লাল কার্ড। অর্থাত্ প্রতি চার ম্যাচে একটি করে কার্ড! জাতীয় দলের হয়ে যদিও একবারও লাল কার্ড না দেখলেও জার্মানি, ঘানা ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে গ্রুপ ম্যাচগুলোতে লাল কার্ডের অভিষেকও হয়ে যেতে পারে পেপেন। ফিলিপ সেন্ডেরস (সুইজারল্যান্ড) গত জানুয়ারিতেই স্প্যানিশ ক্লাব ভ্যালেন্সিয়াতে আগমন ঘটে তার। আর মাত্র ১১ টি ম্যাচেই চারবার দেখে ফেলেছেন হলুদ কার্ড। এর আগে ফুলহ্যামেও একইরকম ‘আত্মহত্যা’র স্বভাবের জন্য পরিচিত ছিলেন সুইজারল্যান্ডের ডিফেন্ডার সেন্ডেরস। ফ্রান্স, ইকুয়েডর, হন্ডুরাসের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচেও কি সেরকম কিছু করবেন সেন্ডেরস? রামিরেস (ব্রাজিল) ট্যাকলিংয়ের জন্য ব্রাজিলের রামিরেসেরও ব্যাপক ‘খ্যাতি’ আছে। আর জাতীয় দলে তার উপযুক্ত সাজাও পেয়েছেন তিনি। সেলেচাওদের হয়ে ৪১টি ম্যাচে একবার লাল কার্ড ও নয়বার হলুদ কার্ড দেখেছেন তিনি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সর্বশেষ মৌসুমেও ছিলেন একই রূপে। ৩০ ম্যাচে আটটি হলুদ কার্ড ও একটি লাল কার্ডই তার প্রমাণ। দেশের মাটিতেও একই রূপে দেখা যেতে পারে এই মিডফিল্ডারকে। স্টিফেন এম্বিয়া (ক্যামেরুন) ফরাসী লিগ ওয়ানে মার্সেইলি ও রেনেসের হয়ে চারবার দেখেছিলেন লাল কার্ড। ক্যামেরুনের মিডফিল্ডার স্টিফেন এম্বিয়ার এমন রূপ দেখা গেয়ে কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্স কিংবা সেভিয়ার হয়েও। চলতি লা লিগা মৌসুমের মাত্র ১৮ টি ম্যাচে সাত হলুদ কার্ডের মুখোমুখি হয়েছেন এই খেলোয়াড়। আর ব্রাজিল, ক্রয়েশিয়া ও মেক্সিকোর সাথে শক্ত গ্রুপে এম্বিয়াও দেখাতে পারেন নিজস্ব স্বভাব। উইলসন প্যালাসিয়াস (হন্ডুরাস) স্টোক সিটির ২৯ বছর বয়সী ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হন্ডুরাসের অন্যতম অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। আর তার ট্যাকলিংয়ের ‘খ্যাতি’ ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বশেষ মৌসুমে ১৬ ম্যাচে দেখেছেন তিনটি হলুদ কার্ড। অর্থাত্ প্রতি ১৭৩ মিনিটে একটি করে কার্ড পেয়েছেন তিনি। ফ্রান্স, ইকুয়েডর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে রেফারিদের জন্য বড় পরীক্ষা নিয়েই হাজির হতে যাচ্ছেন তিনি। ক্লিন্ট ডেম্পসি (যুক্তরাষ্ট্র) লেন্ডন ডনোভনের অনুপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র দলের সবচেয়ে বড় তারকা ক্লিন্ট ডেম্পসি। বদ মেজাজের জন্য তারও বেশ কুখ্যাতি আছে। ৩১ বছর বয়সী এই অধিনায়কের মূল কাজটা হল আক্রমণভাগে। আর জার্মানি, পর্তুগাল ও ঘানার মত দলের বিপক্ষে গ্রুপ পর্যায়ের ম্যাচে তার এই স্বভাব প্রকাশ পেয়ে যেতে পারে।