প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ,ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ের ২য়পত্র হলো ব্যবস্থাপনা। পূর্বের সিলেবাসে এই বিষয়ে ব্যবসায় নীতি ও প্রয়োগের ১ম পত্রের একটি অংশ হলেও বর্তমানে দ্বাদশ শ্রেণির সিলেবাসের জন্য এটি ২য়পত্র হিসাবে ১০০ নম্বরের সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মোট ১০টি অধ্যায় হতে ৯টি উদ্দীপক দেওয়া হবে এর মধ্যে থেকে ৬টি উদ্দীপকের উত্তর দিতে হবে। আর বহুনির্বাচনিতে ৪০টি নৈব্যত্তিক উত্তর দিতে হবে। তার মানে কোন অধ্যায় থেকে উদ্দীপক বাদ যাবে না। তাই শুরুতে তোমাদের কোন পদ্ধতিতে পড়াশুনা করবে কিভাবে সহজে সকল উত্তর আয়ত্ব করতে পারবে বা কিভাবে কম সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি নিবে সেই সম্পর্কে পাঠদান চলা অবস্থায় নিকুঞ্জ মডেল কলেজ, ঢাকা এর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ছাত্রী রেশমা আক্তার, মোছেনা আক্তার, সাথি আক্তার ও চামেলী আক্তার সহ বেশ কিছু শিক্ষার্থীর প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন অত্র কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মো. কবির হোসেন (সুজন)।
চামেলী: পরীক্ষায় জ্ঞানমূলক উত্তর বের করতে না পারলে ঐ মুহূর্তে আমাদের করণীয় কী?
উত্তর: ঐ মুহূর্তে তোমাদের উচিত হবে উদ্দীপকটি কয়েকবার ভালো করে মনোযোগ দিয়ে পড়া। কারণ উদ্দীপক এমনভাবে তৈরী করা হবে বা তৈরী করতে হবে যার মধ্যে জ্ঞানমূলক উত্তরের অবশ্যই ইঙ্গিত থাকবে। তবে উদ্দীপকটি যে অধ্যায় সংশ্লিষ্ট সেই অধ্যায়ের প্রশ্নসমূহ মাথায় রেখে স্থিরভাবে উদ্দীপক পড়তে হবে। সব কৌশল অবলম্বন করার পরও কোন সুনির্দিষ্ট জ্ঞানমূলক উত্তর স্থির করতে ব্যর্থ হলে উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করে উত্তর লেখা শুরু করতে হবে। লেখার ভিতর দেখবে কোন না কোনভাবে জ্ঞানমূলক উত্তর চলে আসছে। তবে জ্ঞানমূলক উত্তর প্রশ্নের শুরুতে না থাকলে লেখার ভিতর থাকলেও পরীক্ষক জ্ঞানমূলক উত্তর খুঁজে নেয়ার চেষ্টা করবে। তবে এই অবস্থায় প্রশ্নের উত্তর সাজানো সুন্দর হয় না বিধায় মানে সৃজনশীলের কাঠামোর বাহিরে যাবার কারনে পুরো নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
চামেলী: পরীক্ষায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৬টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য সময় পাওয়া যায় না। তখন আমাদের করণীয় কী?
উত্তর: ৬টি প্রশ্নের উত্তর ২ঘণ্টা ১০ মিনিটের মধ্যে দেওয়া সম্ভব। তোমরা জ্ঞানমূলক উত্তরের জন্য বেশি সময় ব্যয় করে ফেল বলে এই অবস্থা। তবে প্রশ্ন পাবার সাথে সাথে তোমরা তোমাদের পছন্দের ৬টি প্রশ্নের গ ও ঘ নং স্তরের জ্ঞানমূলক উত্তর মনে মনে স্থির করে নিবে। তার পর লেখা শুরু করবে। একটি স্থির করে একটি প্রশ্নের উত্তর শেষ করে আরেকটির উত্তর বাহির করা হলে সব মিলিয়ে তোমাদের সময় বেশি ব্যয় হবে। তাই প্রতিটি উদ্দীপকে যেহেতু প্রায় ২১ মিনিট সময় পাওয়া যায় তাই সময় ভাগ করে উত্তর লিখতে তবে। তবে শুরুতে একটি দুটি প্রশ্নে সময় একটু বেশি লাগতে পারে। পরের প্রশ্নসমূহে তা কমিয়ে নিতে হবে।
সাথি: প্রশ্নের উত্তরের আয়তন কিভাবে নির্ধারণ করবে?
উত্তর: পুরো একটি উদ্দীপকের উত্তর সাধারণত ৩৫/৩৬ লাইনের ভিতর শেষ করতে পার। এর বেশি হলে কোন সমস্যা নেই। তবে তোমাদের সময়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। জ্ঞানমূলক উত্তর খুব বড় না করাই ভালো। প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতার অংশ একটু বিশ্লেষণ করতে হবে। বিশ্লেষণ না করলে উত্তর প্রমাণ হয় না। তবে প্রত্যেকে তাদের লেখার গতির এবং সময়ের সীমাবদ্ধতা দুটির সমন্বয়ের উপর ভিত্তি করে আয়তন নির্ধারণ করলে ভাল। নতুবা সব কয়টি প্রশ্নের উত্তর সবার জন্য দেওয়া দুষ্কর হবে।
সাথি: উদ্দীপকের গ ও ঘ নং প্রশ্নের উত্তর বের করার কৌশল কী?
উত্তর: উদ্দীপকে শুধু কোন ঘটনা থাকতে হবে এমন কিন্তু নয়। যে কোন সূত্র, চার্ট, গ্রাফ, সংখ্যা, ডাটা এমনটি ছবিও হতে পারে। তাই এই সবের ভিতর জ্ঞান মূলক প্রশ্নের উত্তরের কোন না কোন ইঙ্গিত অবশ্যই থাকবে । এই ইঙ্গিতের সূত্র ধরে জ্ঞানমূলক উত্তর বের করতে হবে। তবে জ্ঞানমূলক উত্তর বের করতে পারলে বাকী স্তরগুলো তোমার তোমাদের কল্পিত জ্ঞানের আলোকে সহজে লিখতে পারবে।
সাথি: উদ্দীপকের ঘ নং প্রশ্নে বেশিরভাগ সময় যথার্থতা মূল্যায়ন কর,সাদৃশ্য, বৈশাদৃশ্য, হ্যাঁ অথবা না এই ধরনের উত্তর চাওয়া হয়।এই ধরনের ক্ষেত্রে জ্ঞানমূলক উত্তর বের করার সহজ উপায় কোনটি?
উত্তর: বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উদ্দীপকের শেষের অংশে উচ্চতর দক্ষতা স্তরের প্রশ্নের জ্ঞানমূলক উত্তর সন্নিবেশিত থাকে। যথার্থতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কোন বিষয়টির যথার্থতা মূল্যায়ন করতে বলা হলো সেটিই মূলত জ্ঞানমূলক উত্তর । হ্যাঁ অথবা না এর বিপরীতে যে ব্যাখ্যাটি আসবে ওখানেই জ্ঞানমূলকের উত্তর নিহিত থাকে। সাদৃশ্য ও বৈশাদৃশ্য এর ক্ষেত্রে কোন একটি বিষয়ের নাম উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে তার বিপরীতে যে বিষয়টি থাকবে এর আলোকে জ্ঞানমূলক উত্তর স্থির করতে হবে।
