করদাতাবান্ধব কর প্রশাসন

আপডেট : ২৬ মে ২০১৪, ২০:৪৯
রাজস্ব আদায়ে প্রত্যক্ষ করের উপর নির্ভরশীলতা ক্রমশ বাড়িতেছে। আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি লোকে আয়কর দিয়া থাকেন। সরকারের লক্ষ্য আরো বেশি লোককে আয়করের আওতায় আনিয়া করজিডিপির অনুপাত বাড়ানো। যাহাতে করিয়া উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ‘গর্ব’ করিয়া বলা যায় যে, বাংলাদেশে করদাতার সংখ্যা বাড়িয়াছে। আর এই কাজটি করিতেই সরকার করদাতার সংখ্যা বাড়াইতে নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়াছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মাঠ পর্যায়ে বৈঠক করিয়াও করদাতা শনাক্ত করিবার কাজ করিতেছে। আর এই প্রক্রিয়ায় এখন আয়কর খাতই হইতে যাইতেছে রাজস্ব আয়ের প্রধান খাত। কেননা, বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার সদস্য দেশ হিসাবে পর্যায়ক্রমে আমদানি শুল্ক হ্রাসের পদক্ষেপ নিতে হইতেছে। আসছে নূতন অর্থবত্সরের বাজেটেই আমদানি খাতে সম্পূরক শুল্ক পুরোপুরি উঠিয়া যাইতেছে। সরকার রাজস্ব আদায় বাড়াইবার জন্য এই প্রথমবার প্রত্যক্ষ করের উপর জোর দিয়াছে। ফলে, ২০১৪-১৫ অর্থবত্সরে আয়কর, ভ্রমণ কর ও অন্যান্য কর হইতে সবচাইতে বেশি রাজস্ব আদায়ের ঘোষণা দিতে যাইতেছে। যাহার পরিমাণ হইবে ৫৭ হাজার ৫শ’ কোটি টাকার মতন। পক্ষান্তরে, আগামী অর্থবত্সরে আমদানি শুল্ক থেকে ৩৫ হাজার ৭২০ কোটি টাকা এবং স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট হইতে ৫৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আয়ের টার্গেটের কথা জানা গিয়াছে। আমাদের দেশে সবাই আয়কর না দিলেও পরোক্ষ করের বোঝা সবার মাথায় রহিয়াছে। প্রতিটি সেবা বা পণ্যের ক্ষেত্রে ইহা কার্যকর হইয়া থাকে। তবে প্রত্যক্ষ কর দিতেও মানুষের মধ্যে আগ্রহ আগের তুলনায় বাড়িয়াছে। ইহা আরো বাড়িতো, যদি মানুষের মধ্যে বিদ্যমান করভীতি দূর করা সম্ভব হইতো। বর্তমানে আয়কর খাতে ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া কার্যকর রহিয়াছে। তথাপি আয়কর দপ্তরের ভয় মন থেকে দূর হইতেছে না। অন্যদিকে, আয়করমুক্ত সীমাও বাংলাদেশে মাত্র ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। বেশিরভাগ করদাতাই শহরে বসবাস করিয়া থাকেন। বত্সরে এই পরিমাণ টাকা আয় করিয়া দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করিতেই হিমশিম খাইতে হয়। ছেলেমেয়ের লেখাপড়া হইতে শুরু করিয়া বাজারদর, বাড়ি ভাড়া সব হিসাব করিলে আয়কর নিম্নসীমা আরো বাড়াইবার যৌক্তিকতা খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে। কিন্তু কেহ কেহ উন্নত দেশের উদাহরণ টানিয়া বলিয়া থাকেন, আয় থাকিলেই আয়কর দিতে হয়। কিন্তু তাহারা ইহা ভুলিয়া যান যে, উন্নত দেশের একজন নাগরিককে সরকার যেইসব সুবিধাদি দিয়া থাকে, বাংলাদেশে তাহা চিন্তা করাও যেন অবান্তর। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত একবার বলিয়াছেন, ৫ বত্সরের জন্য আয়করের নিম্নসীমা স্থির করিয়া দিবেন। যদিও তাহা আর হইতেছে না। কেননা, এই ধরনের সিদ্ধান্ত লইবার ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতিসহ আরো কিছু বিষয়ও বিবেচনায় রাখিতে হয়। সে যাহাই হউক, প্রত্যক্ষ কর সামনের দিনগুলোতে রাজস্ব আদায়ের প্রধান খাত হইবে। কাজেই কর্মকর্তারাও আয় বাড়াইতে যারপরনাই চেষ্টা করিবেন। ইহা করিতে গিয়া করদাতা হয়রানি হইবার সমূহ সম্ভাবনা উড়াইয়া দেওয়া যায় না। তবে করদাতাদের হয়রানি না করিলে কর আদায় যেমন বাড়িবে, তেমনি করের আওতায় আসিবে আরো বহুলোক। যাহা জিডিপিতে করখাতের অবদানও বাড়াইয়া তুলিবে। তাই সর্বাগ্রে দরকার করদাতা বান্ধব কর প্রশাসন।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন