[ আ ন্ত র্জা তি ক ]

কংগ্রেস ডাকছে, নেতৃত্ব হাতে নাও প্রিয়াঙ্কা

আপডেট : ২৬ মে ২০১৪, ২১:২৭
‘আকাশ অংশত মেঘলা’। দাবদহের উগ্র মেজাজ আপাতত একটু শান্ত। ভারতের নানা প্রান্তে মৃদু বাতাস বইছে। বৃষ্টি আসতে পারে, শিগগিরি। দিল্লিতে, দেশের হূদপিণ্ডে, পূর্ব আর পশ্চিমেও, শ্বাস-প্রশ্বাসে খানিকটা স্বস্তির আভাস। টানা তিন মাসের অচলাবস্থা কাটিয়ে মঙ্গলবার থেকে কাজের মেজাজে ফিরতে থাকে প্রশাসন। আবহাওয়া আর মানুষের অনুভূতির বন্ধন কী অদ্ভুত। সামাজিক উত্তেজনা এবং পারিপার্শ্বিকের উত্তাপ কখনো কখনো মানব প্রজাতিকে অস্থির, অশান্ত, ধৈর্যচ্যুত করে তোলে। ভারতের সদ্যসমাপ্ত ভোটের মুহূর্তে, পরেও এসব চালচ্চিত্র লক্ষ্য করেছি। এখনো করছি। নির্বাচনের বৃষ্টিহীন ঝড়ে, কোমর ভাঙা কংগ্রেস নেতৃত্ব ‘অন্তরে বাহিরে’ দহনে নিরন্তর পুড়ছেন। ৫৪৩ আসনের লোকসভায় তাঁদের সদস্য মাত্র ৪৪। বিরোধী নেতার কুরসিতে বসার শক্তিটুকুও তাঁরা হারিয়ে ফেলেছেন। কংগ্রেসের নির্বাচনী ইতিহাসে এ এক অচিন্তনীয়, তুলনাহীন বিপর্যয়। দলের নেতাকর্মীদের ভেতরে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। বাইরেও অন্তর্দহনের প্রখর আঁচ। পাঞ্জাব থেকে আসাম, প্রকাশ্যে উড়ছে বিদ্রোহের ধ্বনি। উত্তর ও দক্ষিণও মুখ খুলছে। সবার ক্ষোভ আকবর রোডের হাইকমান্ডের অদূরদর্শিতা আর ১০ জনপথের পরিবারতন্ত্রের নবপ্রজন্মের বিঘোষিত পূজারী রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে। সোনিয়া গান্ধী স্থিতধী, পোড় খাওয়া মহিলা। কিছুটা উদ্ধত, বাকপটু ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে পরাজয়ের নৈতিক দায় স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁর এই সত্সাহস, বুদ্ধি তীক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে যেতে হয়। ওর দলের সাধারণ কর্মী আর নেতৃত্বের একাংশের দ্রোহ থামছে না। আঁচ বাড়ছে। রহস্যময়, সুষমাময় প্রিয়াঙ্কা এরকম এলোমেলো পরিস্থিতিতেও নিভৃতচারিণীর মতো আড়ালে নিজেকে ঢেকে রাখছেন গান্ধী পরিবারের সবচেয়ে রহস্যময়, সুষমাময় একজন সদস্য? কে তিনি? প্রিয়াঙ্কা ভদ্র ওরফে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। বয়স ৪২। দুই সন্তান রায়হান আর মিরায়ার জননী। ব্যবসায়ী বরাটভদ্রের আত্মতৃপ্ত গৃহিণী। বংশ গৌরব সম্পর্কে সচেতন। দাদি শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী, বাবা রাজীব গান্ধী, মা সোনিয়া আর ভাই রাহুলের ব্যাপারে চূড়ান্ত সংবেদনশীল। প্রপিতামহ জওহরলাল নেহরু, দাদু ফিরোজ গান্ধীকে দেখেননি। তাঁদের মৃত্যুর অনেক পরে, ’৭২ সালে তাঁর জন্ম। এ পর্যন্ত, তাঁর যে দুটি সাক্ষাত্কার আমাদের চোখে পড়েছে, সেখানে এই দুজন সম্পর্কে কোনো উচ্চবাচ্য নেই। অথচ মা, বাবা আর ভাইকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত। একাধিকবার বলতে শোনা গেছে— লোকে বলে আমি নাকি দেখতে, চালচলনে, আমার দাদি ইন্দিরাজীর মতো। না ওঁর মতো এত স্পষ্টবাদী, দুঃসাহসী, বিচক্ষণ নই। উনি ভিন্ন ধাতের মহিলা। তাঁর সাহস, তাঁর আত্মবিশ্বাস তুলনাহীন । মাথা নোয়াতে জানতেন না। দৃঢ়চেতা, বিশ্বাসে অটল এমন শক্তিমান এবং স্নেহপ্রবণ নারী আর দেখিনি। আমি অনেকটাই আমার বাবার মতো। যেমন দেখতে, তেমনি স্বভাবে। ভাই রাহুল সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী। স্মার্ট। বুদ্ধিমান। বাস্তবতার সঙ্গে লড়তে জানে। নেতৃত্ব দেবার মতো সব গুণই তাঁর আছে। রাহুলের প্রতি তাঁর প্রশ্নহীন দুর্বলতা কখনো চেপে রাখেনি প্রিয়াঙ্কা। রাহুলকে নিয়ে যতই প্রশ্ন উঠুক না কেন, রাহুলের বদলে নেতৃত্বে তাঁকে নিয়ে আসার দাবি যতবার বেজে উঠেছে, ততবারই এসব বাজনায় কান দেননি, উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন—আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। বাড়িতে, খাবার টেবিলে রাজনীতি নিয়ে, দেশের সমস্যা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়, অংশগ্রহণ করি, নেতৃত্বের স্বপ্ন দেখি না। আমি তো সাধারণ, অসাধারণত্ব কোথায়? আচরণে শৈশবের ইন্দিরা বিনয়ী প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে এখানে আমরা ১৯৩৪ সালের ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনীর চমত্কার মিল খুঁজে পেয়ে যাই। নেহরু কন্যা রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনে পড়তে এসেছেন। তাঁর লেখাপড়ার বিষয় ইংরেজি, ইতিহাস, হিন্দি, সমাজবিদ্যা আর ফারসি। ক্লাসে স্থায়ী শিক্ষক মাত্র দুজন। বৌদ্ধ সন্ন্যাসী লামা গোবিন্দ (এরনেস্ট হফম্যান) আর জার্মান পণ্ডিত ফ্র্যাঙ্ক ওভারড্রফ। শ্রেণিকক্ষের বাইরে ফ্র্যাঙ্ক ইন্দিরার একান্ত বন্ধু হয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। ইন্দিরা বন্ধুত্বের সীমা লঙ্ঘনের প্রয়াস লক্ষ্য করে সরিয়ে নিচ্ছেন, গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বঅর্জিত নিঃসঙ্গতাবোধের শুভ্রতাকে। নাছোড়বান্দা ফ্র্যাঙ্ক তবু বারবার আকারে ইঙ্গিতে, কখনো সরাসরি, কখনোবা চিঠিতে নিবিড় বন্ধনের প্রস্তাব পেশ করে প্রত্যাখ্যাত হচ্ছেন। বিদেশি ফ্র্যাঙ্ক হতাশ, ষোড়শী ইন্দিরার সঙ্গে তাঁর বয়সের তফাত্ ১৮। প্রশ্রয় দেয় না নির্মোহ সুন্দরী। একদিন সরাসরি প্রশ্ন করে বসে, আমার মতো কিশোরীর মধ্যে কী এমন খুঁজে পেলে, নিবিড় বন্ধন দাবি করছ? ফ্র্যাঙ্কের উত্তর—তুমি ভারি সুন্দরী। অন্যদের থেকে আলাদা। শুনেই চটে গেলেন। একেবারেই স্বতন্ত্র বা অসাধারণ নই। হ্যাঁ, আমি দুই সংগ্রামী, আত্মত্যাগী, খ্যাতিমান মা-বাবা জওহরলাল নেহরু আর কমলা নেহরুর একমাত্র কন্যা। এটাই আমার পরিচয়, একান্ত বৈশিষ্ট্য। ফ্র্যাঙ্কের সঙ্গে ফিরোজের পরিচয় ছিল কি না জানা নেই আমাদের। তাঁর সঙ্গে ইন্দিরার মেলামেশার খবর সম্পর্কে কতটা ওয়াকিবহাল ছিলেন—এই তথ্যেরও হদিশ মেলে না। কিন্তু কী অদ্ভুত ঘটনা। ঠিক ওই একই সময়ে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ইন্দিরাকে চিঠি লিখলেন কমলার রহস্যময় অনুরাগী ফিরোজ গান্ধী। চিঠি পেয়েই ইন্দিরা অপ্রস্তুত, ক্ষুব্ধ। সঙ্গে সঙ্গে কঠিনতম পত্রাঘাত—তোমার চিঠি পড়ে প্রথমে আমি স্তম্ভিত, পরে কেবল কাঁদতেই থাকলাম। কারণ বিয়ের ব্যাপারটাই আমার কাছে একটা আতঙ্ক। দিন কয়েকের মধ্যেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলেন ইন্দু। চিঠি লিখলেন ফিরোজকে। জানালেন আমি নিজের মতোই থাকতে চাই। মনে রেখো আমরা দুজনেই দেশের জন্য লড়ছি। প্রিয়াঙ্কা বলেন বটে, আচরণে, অভ্যাসে, মুখশ্রীতে তিনি তার বাবার মতো। তিনি পিতৃমুখী কন্যা, একথা যেমন সত্য, ঠিক তেমনি স্বভাব আর সতর্ক পদক্ষেপের সঙ্গে অল্প বয়সি ইন্দিরার প্রতিচ্ছবিও ভেসে উঠে রবার্ট গিন্নির দৈনন্দিন অভ্যাসে। ইন্দিরা যেমন গত শতাব্দীর তিরিশ ও চল্লিশের দশকে নিজের মধ্যে অসাধারণের প্রতিবিম্ব খুঁজে পাননি, খুঁজে পেলেও অস্বীকার করেছেন। প্রায় দুদশক জুড়ে, রাজীব হত্যার পর থেকে প্রিয়াঙ্কাও তেমনি মানতে চাননি তাঁর ভুবনমোহিনী আকর্ষণ আর নির্মীয়মাণ ব্যক্তিত্বের সুষমাকে। আজও আড়ালে থাকতে চাইছেন। নেপথ্যে মাকে, আর সামনে দেখতে চান রাহুলকে। এ কি শুধু নিভৃতচারীর বিনয়, না কৌশল? বারবার তাঁকে সরাসরি রাজনীতিতে নিয়ে আসার আবদার উঠছে। ‘নেতৃত্বে রাহুলের ব্যর্থতা’ এবং কংগ্রেসের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পর দাবি আরো জোরালো হয়ে উঠছে। পোস্টার পড়েছে এলাহাবাদে। এসব নতুন নয়। ২০০৪ সাল থেকে মায়ের ভোট কেন্দ্রে প্রচারের তদারকি যখন শুধু করলেন, তখনই তাঁকে ঘিরে তারুণ্যের জৌলুস উপচে পড়তে দেখা যাচ্ছে। ২০০৯ ও ১৪ সালে, ভাইয়ের নির্বাচনী কেন্দ্রে তাঁর সমাবেশের ভিড় প্রকারান্তরে ঘোষণা করেছে—প্রার্থী রাহুল হলেও প্রিয়াঙ্কাই আকর্ষণের উত্স। তাঁর জনপ্রিয়তা, তাঁর সুষমার মহিমা, সংযত অথচ অপরূপ সৌন্দর্যের ব্যাপারে আত্মসচেতনা স্মরণ করিয়ে দেয় মির্জা আসাদ-উল্লাহ গালিবের চিরস্মরণীয় পংক্তি—তোমার প্রতিটি উচ্চারণই বুঝিয়ে দেয় তুমি অনন্যা। মন্দার বাজার তিনি যে কংগ্রেসের উজ্জীবনের শক্তি হয়ে উঠেছেন, উঠবেন, এই সত্য কি অস্বীকার করেছেন তাঁর জীবনবোধের অন্যতম আদর্শ শ্রীমতী সোনিয়া গান্ধী? নিজেও একদিন না না করতে করতে দলের চাপে, অসংখ্য হিতাকাঙ্ক্ষীর আর্জিতে গ্রহণ করেছিলেন নেতৃত্ব। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস রবার্ট ভদ্র-এর পরিবারের স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রেখে ধীর পদক্ষেপে রাজনীতির প্রাঙ্গণে বেরিয়ে আসবেন তিনি। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে, এভাবে নিঃশব্দ-চরণে প্রেমও একদিন এসেছিল। গোড়াতে কাউকে জানতে দেয়নি গান্ধী পরিবার। প্রেম আর স্বামী রবার্ট সম্পর্কে আমেথির মুন্সিগঞ্জে ২০০৯ সালে বলেছিলেন প্রিয়ঙ্কা—আমি ওঁকে ১৮ বছর ধরে চিনি। আমার বয়স যখন ১৩ তখনই প্রথম আলাপ। সে আমাকে বিশেষ পরিবারের সন্তান ভাবেনি। সহজভাবে দেখেছে, সহজভাবে মিশেছে। ওঁর ব্যক্তিত্বের শুদ্ধতায় আমি মুগ্ধ। ‘হি ইস অ্যা স্ট্রং ম্যান’। সফল ব্যবসায়ী। বিশ্বভারতীতে পড়তে এসে রবীন্দ্রনাথের চিত্রাঙ্গদা নাটকে মহাভারতের অর্জুনের পৌরুষ আবিষ্কার করেছিলেন কিশোরী ইন্দিরা। ফিরোজের মধ্যেই অর্জুনকে খুঁজে পেয়েছিলেন। মতানৈক্য ও মনান্তর সত্ত্বেও আমৃত্যু অন্য কোনো পুরুষের বিশেষ জায়গা মেলেনি ইন্দিরার হূদয়ে। রবার্ট-এর মধ্যে তেমনি পুরুষাকার দেখতে পেয়েছেন প্রিয়াঙ্গা। এখানেও তিনি ইন্দিরা অনুসারী। ইন্দিরা আর ফিরোজের রাজনীতি একখাতে প্রবাহিত হয়নি। মতভেদ হয়েছে। মনের অমিলও হামলা করেছে। স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিত্বের পূর্বপরিচিত সঙ্কট থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতেই সম্ভবত রাজনীতির প্রতিটি পদক্ষেপে সতর্ক, অতি সতর্ক থাকতে হচ্ছে প্রিয়াঙ্কাকে। কিন্তু দলের প্রয়োজন, অনুরাগীদের দাবিতে নেতৃত্বে তাঁকে আসতেই হবে। এটা কংগ্রেসের, সমাজেরও চাহিদা। সমাজের কথা বলতে হচ্ছে এ কারণেই যে, সংগঠিত, ইতিহাস সচেতন আর সঙ্ঘবদ্ধ বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্রের পূর্ণতা অসম্ভব। ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় আর ঐক্যসাধনার দেশে আঞ্চলিকতার ছেঁড়া পাতা দিয়ে প্রয়োজনের শূন্যতা ভরাট করা দুঃসাধ্য। দেশ টুকরো হয়ে যাবে। কংগ্রেস রাজনৈতিক সংগঠন নয় শুধু, বহুত্ববাদের একটি মঞ্চ। ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক- তার অস্তিত্বের সংকট বড়ো বিপদ ডেকে আনবে। শুধু কি পরিবারতন্ত্র? নেহরু ঘরানাকে ঘিরে আমরা পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে সুস্থ-অসুস্থ শ্লোগান তোলার আগে পরে ইতিহাসের একটি বাস্তবতা এড়িয়ে যাই। তা হচ্ছে, কাশ্মীর থেকে দিল্লি, আগ্রা থেকে এলাহাবাদ এরপর আবার দিল্লিতে-পরিবারটির কয়েক পুরুষের বসবাসে তাঁদের পদবি, পেশা, বৈবাহিক সম্পর্ক বারবার বদলেছে। মিশেছে দেশ-বিদেশের একাধিক সে াতে। কাশ্মীরে বৌদ্ধ ও শাক্তধর্ম প্রভাবিত বীজ বিহারায় তাঁদের পদবি ছিল কাউল। দিল্লিতে এসে নেহরু। নেহরুর পর গান্ধী। এবার যুক্ত হয়েছে ভদ্র। যে পরিবারের সংস্কৃতির এতো সে াত, ধর্মবোধের এতো রদবদল এবং পদবিরও পরিবর্তন- তাঁর গায়ে কেবল পরিবারতন্ত্রের চিহ্ন এঁকে দেয়া ঠিক নয়। বিশ্বাস পরিবর্তনের ধারাবাহিকতার শেষ দৃষ্টান্ত প্রিয়াঙ্কা। তাঁর স্বামী খ্রিস্টান। মা ইতালীয় ক্যাথলিক। আর তিনি নিজে বৌদ্ধ দর্শনের অনুরাগী। এ প্রসঙ্গে তিনি নিজেই বলেছেন, হঠাত্ হঠাত্ রেগে যাওয়ার দোষ ছিল একসময়। এস এন গোয়েঙ্কার প্রশিক্ষণে আসন শুরু করি। শর্ট টেম্পারের অসুখ কেটে যায়। এখানেও শ্রীমতী গান্ধীর সঙ্গে তাঁর মেজাজ কী অভিন্ন! ইন্দিরাও শৈশবে রেগে যেতেন। একসময় ধ্যান তাঁকে মুক্তি আর আত্মউন্মোচনের পথ দেখালো। তিনিও সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ধীর পায়ে। স্বাধীনতার পর। বাবার হাত ছুঁয়ে। প্রিয়াঙ্কার সুদৃঢ় প্রবেশও অবশ্যম্ভাবী এবং তা ঘটবে তাঁর মা সোনিয়া গান্ধীর আশীর্বাদ ও অনুচ্চ ইঙ্গিতকে স্পর্শ করে। ১০ জনপথ রোড অপেক্ষায় আছে, দাবি তুলুক কংগ্রেসের সবস্তর- সামনে প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে এসো, দেশ বাঁচাও, কংগ্রেসকে বাঁচাও। এই দাবিকে গুরুত্ব দিয়েই সম্মতি জানাবেন সোনিয়া। আগে তিনি দেখতে চান- জনমত কতটা সম্মত, কতটা জোরদার। নেতৃত্বে নিজের বিলম্বিত প্রবেশের আগে নিজেও খতিয়ে দেখছেন সমর্থনের ভিত কতটা মজবুত। মেয়ের ক্ষেত্রেও ধৈর্যচ্যুত, নিজের রাজনীতি থেকে ধর্মচ্যুত হওয়ার কারণ নেই। ঠাণ্ডা মাথার অদ্ভুত রহস্যময় মহিলা। রাজনীতির টিউশন নিয়েছেন। ছাত্রের মতো হিন্দি লিখতে, পড়তে, বলতে শিখেছেন। বিদেশিনী রটনা শুনে বিচলিত হননি। ’৯০-এর দশকে ভিন্নতর বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন কংগ্রেস নামের এমন একটি মঞ্চকে, যেখানে ভারতীয় ধর্মবোধের বহু শাখা-প্রশাখা আর সহিষ্ণুতা একাকার হয়ে আছে তার দেহে, দলীয় আদর্শে। সবশেষে আত্মপক্ষ সমর্থনে একটি কৈফিয়ত পেশ করছি, রাজনীতি আমার পেশা নয়। ইতিহাস আর দর্শনকে সামনে রেখে তাঁর উত্থান আর পতন আমাদের ব্যাখ্যা করতে হয়। কংগ্রেসের শতবর্ষের ইতিহাসের গতিপথ অনায়াসে জানিয়ে দেয়, রণক্লান্ত, আপাতত ছত্রভঙ্গ দলটি আবার পুনরুজ্জীবিত হয়ে উঠবে। পরাজয় ঘটবে আবসাদ আর হতাশার। লেখক : ভারতীয় সাংবাদিক, সম্পাদক আরম্ভ পত্রিকা