সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ। এ বছর ৭০৬ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের ৭০৬ জনই পাস করেছে। পাসের হার শতভাগ। ৫৭০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। সাফল্যের দিক থেকে ঢাকা বোর্ডের এই প্রতিষ্ঠানটি এবার মেধা তালিকায় নবম স্থান অর্জন করেছে। তবে ২০১৩ সালে সেরাদের তালিকায় জায়গা হয়নি তাদের। এক বছরের ব্যবধানে এমন ফলাফলে অবাক অনেকেই।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা এ প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে মেধাবীদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়। ভালো ফলের নেপথ্যে আছে অনেক কিছুই। অভিভাকরা সচেতন থাকেন, শিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান করেন। ছাত্ররাও নিয়মিত পড়াশোনা করেন। এসবের সমন্বয়ে ভালো ফল হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা পরীক্ষার আগে বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করি। এছাড়া বিশেষ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিয়ে থাকি। আমাদের এই প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকলে যে কেউ ভালো ফল করবে।
বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, আমার প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। আমার ছেলে পড়াশোনায় নিয়মিত ছিল। আর শিক্ষকরাও সঠিক দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন।
জিপিএ-৫ পাওয়া বিজ্ঞানের এক ছাত্রী বলেন, শিক্ষকরা আমাদের যত্ন নিয়ে পড়ান। তাদের সহায়তা আর আমাদের পরিশ্রমের ফসল ভালো ফল। এ দুয়ের সমন্বয় না হলে ভালো ফল করা কষ্টসাধ্য।
রাজধানীর ডেমরায় ১৯৮৯ সালে জুনিয়র হাইস্কুল হিসেবে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। এভাবে পার হয় পাঁচ বছর। ১৯৯৩ সালে সরকারি স্বীকৃতির মাধ্যমে কার্যত হাইস্কুলে রূপ লাভ করে। সেই বছরই নবম শ্রেণিতে প্রথম ছাত্র ভর্তি করা হয়। ১৯৯৫ সালে এই স্কুল প্রথমবারের মত এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
পরে নানা রকম শৃঙ্খলার বিধানও করা হয়। প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পুনর্বিন্যাস হয়। ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে ক্লাসের সময়কে প্রভাতী ও দিবা দুটি অংশে বিভাজিত করা হয়। প্রশাসনিক সুবিধার জন্য শিফট প্রচলিত হয়। শিক্ষকদের দায়িত্ববোধ, একনিষ্ঠতা, শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণ সুনিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়।
