দুজন যখন লা লিগায় পাশাপাশি দলে ছিলেন, তখনো লিওনেল মেসির আড়ালে ছিলেন সার্জিও আগুয়েরো। ইংল্যান্ডে চলে গিয়েও যে খুব একটা মেসির ‘ছায়া’ থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন, তা নয়। কারণ, আর্জেন্টিনার প্রসঙ্গ এলেই তো সেই ‘মেসির দল’-এর একজন হয়ে উঠতে হয় আগুয়েরোকে।
তাই কী এতো বছর পর খেপে গেলেন ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার। খেপে গিয়েই যেন বললেন, ‘আমি মেসির মতো হতে চাই না। বরং আপনাদের বলি, মেসি আমার মতো হওয়ার স্বপ্ন দেখে।’
এ পর্যন্ত পড়ে অনেকেই আর্জেন্টিনা দলে কলহ, মেসি-আগুয়েরো জুটিতে ভাঙ্গন; এমন অনেক কিছু কল্পনা করে নিতে পারেন। আসলে এসব কিছুই না। প্রিয় বন্ধুকে নিয়ে সুযোগ পেয়ে একটু রসিকতা করে নিলেন আগুয়েরো। রসিকতার সুযোগটা এসেছিল পুমার একটি নতুন বুট উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে। সেখানে বন্ধুকে নিয়ে মজা করেছেন, নিজের কথা বলেছেন এবং বলেছেন আর্জেন্টিনার এবারের বিশ্বকাপ প্রত্যাশার কথা।
আগুয়েরো শুধু নন, আর্জেন্টিনার সবাই মেনে নিচ্ছেন, তাদের অবস্থা অনেকটা ‘হয় এবার, নয় নেভার’। আর এই প্রত্যাশার চাপ নিয়েই গতকাল থেকে বুয়েন্স আয়ারসে অনুশীলন ক্যাম্প শুরু করেছে আর্জেন্টিনা দল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে সম্পৃক্ত অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার মতো দু-একজন ছাড়া প্রথম দিন থেকেই তারকাখচিত পুরো দলটাকেই অনুশীলনে পেয়েছে আর্জেন্টিনা। গঞ্জালো হিগুয়েইন, এভার বানেগা, সার্জিও আগুয়েরো, হ্যাভিয়ের মাচেরানোদের নিয়ে কাজ শুরু করেছেন কোচ আলেসান্দ্রো সাবেলা। তবে স্বাভাবিকভাবেই চোখটা ছিল সবার বার্সেলোনা তারকা লিওনেল মেসির ওপর; চাপটাও বুঝি বেশিরভাগ এই তারকার ওপরই।
এই কথাটার অবশ্য প্রতিবাদ করেছেন মেসির বার্সা ও আর্জেন্টিনা সতীর্থ মাচেরানো। অনুশীলনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি মেনে নিয়েছেন তাদের ওপর চাপ থাকবে। তবে সেই চাপ বিশ্বকাপ জয়ের চাপ হিসেবে মাচেরানো নিতে রাজি নন। তিনি বরং বলছেন, তারা নিজেদের ভুল কমানোর চাপ হিসেবে দেখছেন এটাকে। আর সেই চাপটা সবাই মিলে নেবেন বলেই বলছেন এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য নিজেদের ভুল যতোটা সম্ভব কমিয়ে আনা। সেটাকেই আমরা বাস্তবায়িত করতে চাচ্ছি। তাহলে ফল এমনিতেই আসবে। আর এই ফল আনার চাপটা মেসির একার ওপরে নয়, আমাদের সবার ওপরেই।’
ঠিক একই কথা পুনরাবৃত্তি করলেন যেন মেসির বাল্যবন্ধু ও জাতীয় দলের জুটি আগুয়েরো। তিনিও বলছেন, দলে এখন এমন অনেক খেলোয়াড় আছেন, যারা মেসির ওপর থেকে চাপ সরিয়ে নিতে পারেন। মেসিকে সেরা ফুটবলার মেনেও আগুয়েরো বলছেন, তারা সবাই মিলেই দলকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করবেন।
লক্ষ্যটা কী, সেটাও পরিষ্কার আগুয়েরোর। তিনি কোনো রাখঢাক না করেই বলছেন, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই ব্রাজিলে পা রাখবেন তারা, ‘বিশ্বকাপ খুব কঠিন টুর্নামেন্ট। ভালো খেলা, ভাগ্য অনেক কিছু লাগে এটা জিততে। তবে আমি মনে করি, আর্জেন্টিনাই এবার চ্যাম্পিয়ন হবে। হ্যা, স্পেন, ব্রাজিল, জার্মানিও শক্ত দল। তবে শুধু নামে শক্ত হলে হবে না। জিততে হবে। সেটা করার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’
যদিও অনেকে বলছেন, আর্জেন্টিনা গ্রুপপর্বে অন্তত অন্য অনেকবারের চেয়ে সহজ একটা গ্রুপে পড়েছে। ফলে তাদের ভালো শুরুতে খুব সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু আগুয়েরো এটা মানতে রাজি নন, ‘আমি মোটেও মনে করি না আমরা সহজ গ্রুপে পড়েছি। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে সহজ দল, সহজ গ্রুপ বলে কিছু নেই।’
আগুয়েরোর এই আত্মবিশ্বাস ও কথাবার্তা বলে দেয়, নিজেদের সাফল্য নিয়ে এবং নিজেকে নিয়ে খুব একটা সংশয় নেই তার। এই আত্মবিশ্বাসের রহস্যটাও পরিষ্কার করে দিলেন ম্যারাডোনার সাবেক এই জামাতা, ‘আমার নিজের ওপর সবসময়ই বিশ্বাস আছে। আমি হয়তো প্রথম রাউন্ডে গোল পেলাম না, পরের রাউন্ডে পাবো। বেইজিংয়ে (২০০৮ অলিম্পিক) তাই হয়েছিল। আসলে এটা সবার ক্ষেত্রে সত্যি। ফুটবল খুব মজার খেলা। আপনি ভালো খেলতে থাকলে সাফল্য পাবেন। আমরা সেই ভালো খেলাটাই চালিয়ে যেতে চাই।’
