প্রতিষ্ঠিত শক্তিদের বাইরে কেন তাদের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট বলা হচ্ছে তার প্রমাণ ভালভাবেই দিলো বেলজিয়াম। রোমেলো লুকাকুর হ্যাটট্রিক আর আদনান জানুজাজের অভিষেকের রাতে তারা প্রীতিম্যাচে লুক্সেমবার্গকে উড়িয়ে দিয়েছে ৫-১ গোলে। এদিকে, রাতের অন্য ম্যাচে মেসিডোনিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়েছে ক্যামেরুন। আর, জাপান আতসুতো উছিদার একমাত্র গোলে সাইপ্রাসকে হারালেও আরেক এশিয়ান পরাশক্তি ইরান গোলশূন্য ড্র করেছে মন্টেনেগ্রোর সাথে।
সাইপ্রাসের বিরুদ্ধে ম্যাচে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে না পারলেও শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে জাপান। প্রথমার্ধ শেষ হবার মিনিট দুয়েক আগে শালকে মিডফিল্ডার উছিদার একমাত্র গোলটিই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়।
দলের অন্যতম প্রধান স্ট্রাইকার ক্রিশ্চিয়ান বেনটেকের চোটে ব্রাজিল বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের আক্রমণভাগ সামলানোর দায়িত্ব থাকবে লুকাকুর উপরেই। আর দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিকে এই চেলসি ফরোয়ার্ড জানিয়ে দিলেন সেই দায়িত্ব পালনে পুরোপুরিই প্রস্তুত তিনি। মাউরেন ফেলানির পাসে ম্যাচের মাত্র তিন মিনিটেই বেলজিয়ামকে এগিয়ে দেন লুকাকু। তবে, ত্রিশ গজ দূর থেকে নেয়া অবিশ্বাস্য এক শটে বেলজিয়াম গোলরক্ষক স্যামি বসাতকে পরাস্ত করে মিনিট সাতেক পরেই লুক্সেমবার্গকে সমতায় ফেরান অরেলিয়েন জোয়াকিম। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে অ্যাটলেটিকোর গোলপোস্ট সামলানো দলের প্রধান গোলরক্ষক থিওবট কোর্তের বদলে বসাতই এদিন পালন করেন মূল গোলরক্ষকের ভূমিকা। কিছুক্ষণ বাদেই আরেকটি সুযোগ পেয়েছিলেন জোয়াকিম। তবে, বসাত ঠেকিয়ে দেন তার প্রচেষ্টা। খেলার ধারার অনেকটা বিপরীতেই দ্বিতীয় গোল পেয়ে যায় বেলজিয়াম। ২৩ মিনিটে দ্বিতীয় গোল পেয়ে যান লুকাকু। এরপর, দ্বিতীয়ার্ধের নয় মিনিটে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে বক্সে ঢুকে দারুণ এক শটে লুক্সেমবার্গ গোলরক্ষককে পরাস্ত করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এই মৌসুমে চেলসি থেকে এভারটনে ধারে খেলা এই স্ট্রাইকার। বেলজিয়ামের পক্ষে ২০০১ সালের পর যা কিনা ছিল প্রথম হ্যাটট্রিক। এরপর ৭১ ও অতিরিক্ত সময়ে চাডলি ও ডি ব্রুইনের দুই গোলে বড় জয় নিশ্চিত হয় বেলজিয়ামের। যদিও ম্যাচের ফল মার্ক উইলমর্টের দলের সহজ জয়ের কথা বললেও সামগ্রিক দৃষ্টিতে যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক ছিল না তাদের পারফরম্যান্স।
এদিকে, দলের জয়ে বড় কোনো অবদান রাখতে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসাবে নেমেই আলোচনার জন্ম দেন জানুজাজ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ১৯ বছর বয়সী তরুণের বহু প্রতীক্ষিত আন্তর্জাতিক অভিষেক ঘটলো এই ম্যাচ দিয়েই।
এদিকে, ক্যামেরুনের ২৮ জনের দলকে ২৩ জনে নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে কোচের কাজকে আরো কঠিন করে তুলেছেন পিয়েরো ওয়েবো। মেসিডোনিয়ার বিরুদ্ধে দলের প্রথম গোলটি করে ক্যামেরুনকে এগিয়ে দেন এই স্ট্রাইকারই। স্যামুয়েল ইতোর বদলে নেমে প্রধান স্ট্রাইকারের ভূমিকায় পুরো ম্যাচেই দারুণ খেলা এই তারকা অবশ্য ঐ গোলের সময়ই প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের সাথে সংঘর্ষে কাঁধে আঘাত পেয়েছেন। তবে, দ্রুতই সেড়ে উঠতে পারলে আগামী দুই তারিখ ঘোষিত হতে যাওয়া ২৩ জনের দলে তাকে দেখতে পেলে অবাক হবার কিছু থাকবে না। দলের অন্য গোলটি আসে এরিক ম্যাক্সিম চুপো-মোটিংয়ের কাছ থেকে। জাপান জয় পেলেও মন্টেনেগ্রোর সাথে ড্র করে বিশ্বকাপের আগে নিজেদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছে আরেক এশিয়ান পরাশক্তি ইরান। বেলারুশের সঙ্গে অস্ট্রিয়ায় আট দিন আগে গোলশূন্য ড্র করার পর গত সোমবার তারা আবারো একই ফল দেখিয়েছে কার্লোস কুইরোজের দল। ওয়েবসাইট।
