চাপ টের পাচ্ছে ব্রাজিল:পেরেইরা

আপডেট : ২৭ মে ২০১৪, ২২:৪০
ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জয়ের জন্য শুধু শুধু চাপে ফেলছে সমর্থক ও গণমাধ্যমগুলো। এ মত ১২ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের স্বাগতিক ব্রাজিলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর কার্লোস আলবার্তো পেরেইরার। তারপরও পেরেইরা ও কোচ লুই ফিলিপ স্কোলারি সাফল্যের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। ব্রাজিল দল বর্তমানে রিও ডি জেনিরো থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে টেরেসোপোলিসের গ্রানজা কোমারী অনুশীলন কেন্দ্রে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন। গত সোমবার সেখানে পৌঁছার পর সমর্থকদের পাশাপাশি প্রচুর বিক্ষোভকারীর মুখোমুখি হতে হয় নেইমারদের। এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিল ষষ্ঠবারের মতো শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে ‘এ’ গ্রুপে ক্রোয়েশিয়া, মেক্সিকো ও ক্যামেরুনের বিরুদ্ধে খেলে অভিযান শুরু করবে। বিক্ষোভকারীরা সোমবার রিও ডি জেনিরোতে খেলোয়াড়দের মুখোমুখি হয় এবং পেরেইরা মনে করেন এ বিষয়গুলো অনাবশ্যকভাবে দলটির মনোযোগ নষ্ট করছে। সেলেচাওদের ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ জয়ী কোচ পেরেইরা বলেন, ‘সমর্থকদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি খেলোয়াড়দের উপর চাপ বাড়াচ্ছে। আমরা যারা দলটির নেতৃত্বে আছি, এই খেলোয়াড়দের নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। স্রেফ আমাদের দলটির দিকে তাকিয়ে দেখুন। আমাদের রক্ষণভাগটাই বিশ্বের সেরা। আমাদের আছে বড় একটা দল। দলটি সত্যি ভাল। অভিজ্ঞতায় ভরপুর, উঁচু মানের খেলোয়াড় যারা আন্তর্জাতিকভাবেও সমীহ পাওয়া। এরাই দেশের মাটিতে খেলতে যাচ্ছে।’ পেরেইরা বলেন, ‘আমরা যা ভাল মনে করছি, এখানে তার সবকিছুই করছি। হ্যাঁ, আমরা ফেভারিট। আমরা জেতার জন্য বাধ্য নই, তারপরও আমরা ফেভারিট।’ এরপরও দেশটির বহু সাফল্যের কারিগর পেরেইরার মত হলো নিজেদের মাটিতে হচ্ছে বলে ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিততে মরিয়া। কেননা ১৯৫০ সালে তাদের মাটিতে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপটিতে উরুগুয়ের কাছে ফাইনালে হারের কারণে তারা এবার আরো বেশি মরিয়া। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এটা এমন একটা ব্যাপার; যা আমাদের ৬৪ বছর ধরে দুঃস্বপ্নের মতো তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। বড় দলগুলোর মধ্যে কেবল আমরাই নিজের মাঠে জিততে পারিনি। ইটালি দুবার আয়োজন করে একবার জিতেছে। ব্রাজিল একবার আয়োজন করে তাতে হেরেছিল। অবশ্যই আমরা এবারের আয়োজনে জিতে ইতিহাস বদলাতে পারবো বলে আশাবাদী।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের জন্য ১৯৫০ শেষ। আমরা তাদের অনেকবার হারিয়েছি। এমনকি বিশ্বকাপেও। তারপরও এ কাহিনী ঘুরে-ফিরে আসতে থাকে। আমরা তাই নিজের মাঠে জিতে এ ফুটবল ইতিহাসটা নতুন করে লিখতে চাই।’