কয়েক বছর আগের হিসাব অনুয়ায়ী ব্রাজিলে নথিভুক্ত ফুটবলার হলেন প্রায় ৬ কোটি। সংখ্যাটা বর্তমানে আরো বেড়েছে। এতো ফুটবলারের দেশ ব্রাজিলে তাই জাতীয় দলেই জায়গা হয় না সময়ের অনেক প্রতিভাধর খেলোয়াড়ের। এদের অনেকে ভিন দেশের জার্সি গায়ে খেলতে বাধ্য হন। এবারের বিশ্বকাপেও এই ঘটনার ব্যতিক্রম ঘটবে না। জন্মভূমিতে অতিথি হয়ে খেলতে আসবেন অনেকেই। তাদের নিয়ে গঠিত একাদশটাও বেশ শক্তিশালী।
গোলরক্ষক — মাউরিসিও ভিয়ানা (চিলি)
ইতিহাস বলে, ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষকরা কখনোই বিশ্বমানের হন না। তাই ব্রাজিলে থাকলে হয়তো নিশ্চয়ই মাউরিসিও ভিয়ানাকে বিবেচনা করতেন লুই ফিলিপ স্কোলারি। জন্মের পরপরই সাও পাওলো ছেড়ে চলে আসেন চিলিতে। স্যান্টিয়াগো ওয়ান্ডারার্সের যুব দলের হয়েই গড়ে উঠেন ২৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার। ক্লাব পর্যায়ে সাহসী গোল রক্ষক হিসেবে ব্যাপক নাম-ডাক আছে তার। অডাক্স ইতালিয়ানোর বিপক্ষে এক ম্যাচে ইনজুরি সত্ত্বেও পেনাল্টি বাঁচিয়ে দেয়ার অভাবনীয় কীর্তি গড়েছিলেন একবার। ক্যারিয়ারের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন চিলির ক্লাবটির সাথেই। চিলির যুব দল হয়ে ২০১১ সালে সুযোগ পান জাতীয় দলে।
সেন্টার ব্যাক - পেপে (পর্তুগাল) ও মার্কোস গঞ্জালেস (চিলি)
নিজেদের পজিশনে তারা এর মধ্যেই নিজেদের নিয়ে গেছেন বিশ্বসেরাদের কাতারে। পেপে ১৮ বছর পর্যন্ত ব্রাজিলেই ছিলেন। আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে পর্তুগালে স্থায়ী হওয়া এই তারকা ২০০৭ সাল থেকেই পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দলের নিয়মিত সদস্য। স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তার অর্জনটাও মনে রাখার মতো। অন্যদিকে মার্কোস গঞ্জালেস অনেক ছোট থাকতেই রিও ডি জেনিরো ছেড়ে চলে আসেন চিলিতে। চিলিয়ান লিগ দিয়ে শুরু করেন, এরপর ব্রাজিলে ফিরে খেলা শুরু করেন ফ্ল্যামেঙ্গোর হয়ে; কিন্তু জাতীয় দল হিসেবে বেছে নিয়েছেন চিলিকেই। ১৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মার্কোসই ছিলেন বাছাইপর্বে চিলির মূল সৈনিক।
ফুল-ব্যাক — ম্যাটিয়াস অ্যাগুইরেগ্যারে (উরুগুয়ে) ও ডগলাস (নেদারল্যান্ড)
ব্রাজিলেই জন্ম হয়েছে বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম সেরা কয়েকজন ফুল-ব্যাকের। আর এখনো যারা খেলছেন তারাও ছাড়িয়ে গেছেন অনেককে। সেই পিছিয়ে পড়াদের মধ্যে দুইজন হলেন ম্যাটিয়াস অ্যাগুইরেগ্যারে ও ডগলাস। পোর্তে অ্যালেগ্রেতে জন্ম নেয়া ম্যাটিয়াস উরুগুয়ের হয়ে অনূর্ধ্ব ২০ বিশ্বকাপ ও ২০১২ সালের অলিম্পিক খেলেছেন। জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন আসন্ন বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব ও গত বছরের কনফেডারেশন্স কাপ। অন্যদিকে অনেকদিন ধরে নেদারল্যান্ডে বসবাসের পর দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়া ডগলাস দুইবছর আগে প্রথমবারের মতো ডাক পান জাতীয় দলে। খেলেন ডাচ ক্লাব টুয়েন্টের হয়ে।
সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার — থিয়াগো মোতা (ফ্রান্স) ও থিয়াগো আলকানতারা (স্পেন)
বার্সেলোনার অ্যাকাডেমি লা মেসিয়া থেকে বেড়ে উঠেছেন থিয়াগো মোতা ও থিয়াগো আলকানতারা। থিয়াগো মোতা এখন খেলেন পিএসজিতে, জাতীয় দলের নাম ফ্রান্স। আর বায়ার্নে খেলা আলকানতারা বেছে নিয়েছেন স্পেনকে। মোতা অবশ্য ব্রাজিলের বয়সভিত্তিক বিভিন্ন দলে এর আগে খেলেছেন। তবে, আলকানতারা সেই সুযোগটাও পাননি। ছোট বেলা থেকে স্পেনই তার ঘরবাড়ি। ইনজুরি সত্ত্বেও সুযোগ পেয়েছেন বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ৩০ সদস্যের প্রাথমিক দলে।
অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার/ উইঙ্গার — রোমুলো (ইতালি) ও সামির (ক্রয়েশিয়া)
আক্রণভাগে ইতালি ও ক্রয়েশিয়া দলে দেখা যাবে দুইজন ব্রাজিলিয়ানকে। এদের মধ্যে রোমুলো খেলেন সিরিএ দল ভেরোনাতে। সেখান থেকেই সর্বশেষ মৌসুমের পারফরম্যান্সে সিজার প্রাণদেল্লির নজরে আসেন তিনি। রোমুলো মূলত খেলেন রাউট উইংয়ে। প্রয়োজনে রাইট ব্যাকেও খেলার সামর্থ্য আছে তার। আর ক্রয়েশিয়ার সামির এখন স্প্যানিশ ক্লাব গেটাঢেতে খেললেও ইউরোপিয়ান ফুটবলে তার আবির্ভাব ঘটে ডায়নামো জাগরেব থেকে। সেই সময়ই ক্রয়েশিয়ার নাগরিকত্ব পান। ৪-৪-২ ফর্মেশনে লেফট-উইং কিংবা ৪-৩-১-২ ফর্মেশনে ফরোয়ার্ডের নিচে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে খেলার ক্ষমতা আছে তার।
ফরোয়ার্ড — ডিয়েগো কস্তা (স্পেন) ও এডোয়ার্ডো ডা সিলভা (ক্রয়েশিয়া)
সময়ের অন্যতম সেরা দুই ফরোয়ার্ডকে এবার ব্রাজিলিয়ান জার্সিতে দেখা যাবে না। এদের মধ্যে প্রথম নামটি হলো ডিয়েগো কস্তা। ১৮ বছর পর অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে লা লিগার শিরোপা জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ব্রাজিলের হয়ে প্রীতি ম্যাচও খেলেছিলেন; কিন্তু পরে তিনি স্পেনের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন। যদিও ইনজুরির কারণে স্পেনের বিশ্বকাপ ধরে রাখার মিশনে আদৌ খেলতে পারবেন কি না সেটা নিয়ে সন্দেহ থাকছে। কস্তা বাদে অপরজন হলেন আর্সেনালের এডোয়ার্ডো ডা সিলভা। ক্রয়েশিয়াতে আছেন সেই ১৬ বছর বয়স থেকে। অনূর্ধ্ব ২১ দল হয়ে সুযোগ পেয়েছেন জাতীয় দলে।
