এক যুগ কংগ্রেস শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে দিল্লির মসনদে আনুষ্ঠানিকভাবে বসলেন ভারতের হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ৬৪ বছর বয়স্ক বিজেপি নেতা নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী। দু’ দফায় মোদীর শপথবাক্য শেষ হওয়ার সঙ্গে-সঙ্গেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত দেশ-বিদেশের আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানালেন মোদীকে। এর আগে ভারতে কোনও প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ ঘিরে এত প্রতিবেশী রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিশিষ্টজনরা আসেননি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি তো একটি কল্পনাতীত ব্যাপার। নরেন্দ্র মোদী সকালে রাজঘাটে পৌঁছে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে ফুলের মালা দিয়ে দিনের যাত্রা শুরু করেন। পরে আশীর্বাদ নিতে গিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির বাড়িতে। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী আসন গ্রহণ করার পর-পরই জাতীয় সঙ্গীত বেজে ওঠে, তার পর-পরই দর্শকদের মধ্যে থেকে ’ জয় শ্রীরাম’ স্লোগান বেজে ওঠে, যে স্লোগান দিয়ে হিন্দুবাদী সংগঠন আর এস এস এবং বজরং দল বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে দিয়েছিল।
বিজেপির আদর্শ যাই থাকুক, তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, এই বৈশিষ্ট্যই সবকিছুর উপরে। নয় ধাপে নির্বাচন সমাপ্তির পর ১৬ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে ৫৪৩ আসনের মধ্যে বিজেপি এবং তার সহযোগী দল ৩৩৬ আসন লাভ করে। বিজেপি একাই ২৮২টি আসন পায়। এই নির্বাচনের মাধ্যমে বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদী হলেন পঞ্চদশ প্রধানমন্ত্রী। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ২৬ মে সন্ধ্যা ছ’টা বার মিনিটে শুরু হয় এবং একঘন্টা তিরিশ মিনিট স্থায়ী হয়। এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ২১ মে অর্থাত্ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পাঁচদিন পর হওয়ার কথা শোনা গিয়েছিল। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী সেদিন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে রাজী হননি, কারণ সেদিন ছিল ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর মৃত্যু দিবস। এখান থেকে আমাদের শিক্ষণীয় বিষয় আছে, আমরা শিক্ষা গ্রহণ করবো কিনা জানি না। ১৯৯১ সালের ২১ মে ভারতের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে দক্ষিণ ভারতের চেন্নাইয়ে শ্রীপেরেমবুদরি-এর এক সভাস্থলে এলটিটিই বা তামিল টাইগারদের এক মহিলা সদস্য আত্মঘাতী বোমার সাহায্যে নির্মমভাবে হত্যা করে। আদর্শগত তফাত্ থাকলেও এক নেতার প্রতি অন্য এক নেতার বা পার্টির সম্মান প্রদর্শন করা প্রকৃত গণতান্ত্রিক ধারার বৈশিষ্ট্য।
রাষ্ট্রপতি ভবনের সামনে খোলা আকাশের নিচে মোদীকে শপথ বাক্য পড়ালেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী। শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশের প্রধানসহ বিভিন্ন দেশের চার হাজার গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন দশ হাজার নিরাপত্তাকর্মী। ছয় হাজার সেনাসহ আরও চার হাজার বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিয়েছিল দিল্লিসহ আশপাশের দুই কিলোমিটার এলাকা। তল্লাশি চলছিল শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। দূরদর্শনের মাধ্যমে প্রচারসহ রাষ্ট্রপতি ভবনের বাইরে দিল্লির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে বড় স্ক্রিন লাগিয়ে অনুষ্ঠান দেখানো হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফও ছিলেন এই অনুষ্ঠানে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাপান সফরে থাকায় তার প্রতিনিধিত্ব করছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। তবে দেশের দু্ই রাজ্যর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জয়ললিতা অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন। দেশের সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও মুখ্যমন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মোদী। সার্কভুক্ত সব রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে জয়ললিতার সঙ্গে মতবিরোধ হয়। শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাহেন্দ্র রাজাপাকসেকে আমন্ত্রণ জানানোয় ঘোর আপত্তি তুলেন জয়ললিতা। কারণ, তামিল সমস্যা নিয়ে রাজাপাকসের সাথে দীর্ঘদিন ধরেই তামিলনাড়ুর সঙ্গে শ্রীলংকার সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। জয়ললিতা বলেছেন, ’ সরকার পরিবর্তন হওয়ায় তামিলনাড়ুর সঙ্গে শ্রীলংকার শীতল সম্পর্কে পরিবর্তন আসার কোন সম্ভাবনা নেই। তার মতে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের সম্পর্ক ভালো রাখার কথা মাথায় রেখে মোদীর এ আমন্ত্রণ জানানো থেকে বিরত থাকা উচিত ছিল।’ তামিলনাড়ুর দুই বিরোধীদল ডিএমকে এবং এমডিএমকে জয়ললিতার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুষ্ঠানে যোগ না দিলেও তার দুই প্রতিনিধি মুকল রায় ও অমিত মিত্র যোগ দিয়েছিলেন।
পরমাণু শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও ভারত। তাদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে সেই পাকিস্তান ও ভারত সৃষ্টির পর থেকে, মাঝে মাঝে এই সম্পর্ক মারাত্মক উত্তেজনায় রূপ নেয়, যুদ্ধাংদেহী অবস্থার সৃষ্টি হয়। এই উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ভারতের এ্ই নতুন প্রধানমন্ত্রীর সাথে গোপন কূটনৈতিক চ্যানেল স্থাপনের চিন্তা-ভাবনা করছেন আর তারই অংশ হিসেবে তার এই সফর ও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের সাথে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজও ছিলেন অনুষ্ঠানে। এই বিশেষ দিন উপলক্ষে পাকিস্তানের কারাগারে আটক ১৫৫ জন ভারতীয় মত্সজীবীকে মুক্তি দেন । তারা মোদীর সাথে হায়দরাবাদ হাউসে বৈঠক করছেন ২৭ মে। উভয় নেতার মধ্যে বরফগলা ও নতুন পরিচিতির মাধ্যমে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটানোই মূল উদ্দেশ্য। কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারাও ছিলেন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী পদে মোদীর শপথ গ্রহণে কংগ্রেস নেতারা খুব একটা থাকেননি, কিন্তু এটি গোটা ভারতের নির্বাচন, গোটা ভারতের অনুষ্ঠান তাই তারা থেকেছেন। এটি একটি দেখার মতো দৃশ্য, এটিই গণতন্ত্র । আমরা ভারতের এত কাছে থেকেও এই সংস্কৃতি এখনও রপ্ত করতে পারিনি। এ অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন ভারতের দুই প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আবুল কালাম ও প্রতিভা পাতিল, ভারতের ক্রিকেট ও চিত্রজগতের বেশ কিছু নামীদামী তারকা। রাষ্ট্রপতি ভবনের নৈশভোজে মোদীর সম্মানে গুজরাটি নিরামিষ, কলা, মেথি আর আমগন্ধী শিখন্ডি মিষ্টি ছিল। ভোজের তালিকায় রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর পছন্দের বাংলার পটোলের দোলমা আর সন্দেশ ছিল। আরও ছিল আমিষ চিকেন টিক্কা, গলাওটি কাবাব, প্রন, চিকেন চেট্টিনাড।
নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী তের বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী। চার দশকেরও বেশী সময় ধরে সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত। তার অন্ধ ভক্তের সংখ্যা অগণিত। আবার তাকেই ভারতের রাজনীতির কলঙ্ক মনে করেন অনেকে। নজিরবিহীন হাইপ্রোফাইলের নির্বাচনী প্রচারের পর অবশেষে যুদ্ধজয় করলেন মোদী। ষোড়শ লোকসভা নির্বাচন ঘোষণার কয়েক মাস আগে থেকেই যাকে ঘিরে ঘুরেছে দেশের রাজনীতির চাকা। লালকৃষ্ণ আদভানীর বাঁধা উপেক্ষা করে গত সেপ্টেম্বরে বিজেপির নির্বাচনী লড়াইয়ের নেতা হিসেবে নরেন্দ্র মোদীর নাম ঘোষণা করা হয়। আর কাল থেকে দিল্লির সাত নম্বর রেসকোর্সের নতুন বাসিন্দা হলেন নরেন্দ্র মোদী। ভারতের কট্টর হিন্দুবাদী দল রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ-এর প্রচারক থেকে রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেও মোদী অন্তত সূচনাতে রাজনীতির সুস্থ সংস্কৃতিটি যে বজায় রেখেছেন এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। যে প্রশ্নটি নরেন্দ্র মোদীর ভূমিধস বিজয়ের পর থেকেই এখন পর্যন্ত সর্বত্র আলোচিত হচেছ সেটি হচ্ছে কেমন হবে নরেন্দ্র মোদীর সরকার? প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গেই বা কেমন সম্পর্ক হবে নতুন মোদী সরকারের? ভারতীয় লেখক ও মানবাধিকার কর্মী অরুন্ধতী রায় পাকিস্তানের ডন পত্রিকার সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন, ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বে যে সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে তা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হলেও একটি কর্তৃত্ববাদী সরকার হবে। ভারতের নির্বাচন সম্পর্কে অরুন্ধতী রায় আরও বলেন, ‘ভারতের নির্বাচন আসলে একটি করপোরেট কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে এবং একই শক্তির কাছে গণমাধ্যমও বিক্রি হয়ে গেছে। নরেন্দ্র মোদীকে করপোরেট শক্তির পক্ষ থেকে নির্বাচিত করার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন তিনি রক্তপাতের মতো ঘটনাকে উপেক্ষা করতে পারেন।’ নরেন্দ্র মোদীকে প্রধানমন্ত্রী পদের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রজেক্ট করার পেছনে শুধু যে সংঘ পরিবার বা আর এস এস বিজেপি ছিল তা নয়। নির্বাচনের আগে থেকেই গোটা ভারত জুড়ে আলোচনা হয়েছে যে নরেন্দ্র মোদী শুধুমাত্র সংঘ পরিবারের নয় ভারতের করপোরেট বিজনেসেরও প্রার্থী। বলা হয়েছে হাজার হাজার কোটি রুপি করপোরেট হাউজগুলো খরচ করেছে মোদীর পেছনে। এসব বিশ্লেষণ যদি সতি হয় তা হলে বলা যায় যে, করপোরেট অর্থনীতিকে নির্বিঘ্নে অপারেট করার পরিবেশ তৈরি করে দেয়াই হবে মোদীর প্রধান অর্থনৈতিক নীতি।
কলিকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার একটি নিবন্ধে মোদী ও সংঘ পরিবার থেকে যেভাবে মন্তব্য করেছে তা হচেছ- নরেন্দ্র মোদীর বিজয়কে নিশ্চিত করতে ভোটের সময় হাজার হাজার নতুন মুখ যোগ দিয়েছে সংঘ পরিবার ও তার ছত্রছায়ায় থাকা বিভিন্ন সংগঠন। সরাসরি মোদীকে ভোট দেয়ার ডাক না দিয়ে এরা ভোটযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। আর এস এস প্রধান মোহন ভাগবত ভারতবাসীর কাছে একশত শতাংশ ভোট সুনিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছিলেন এবং সংঘের নেতা রাম মধাব বলেছেন, ‘১৯৭৭ সালে কংগ্রেস গণতন্ত্রের ওপর আঘাত করলে তখনও জরুরী অবস্থার বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়েছিল সংঘ’। কিন্তু এবার একটা নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংঘের প্রচারক মোদী বিপুল জনসমর্থন নিয়ে দেশ শাসনের ভার নিতে চলেছেন আজ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। এ অবস্থায় মোদী হাওয়ায় ভর করে নিজেদের শক্তি আরও বাড়িয়ে দিতে চাইছে আর এস এস। শুধু তাই নয়, যেসব রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন আসছে সেখানেও সংগঠনের শক্তি বাড়াতে আরও সক্রিয় হচেছ সংঘ। সংঘ পরিবারের বিস্তৃতি পুরো ভারত জুড়ে। বিভিন্ন সামাজিক আর্থিক প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন রয়েছে সংঘ পরিবারের। সারা ভারতে পঁচিশ হাজার বিদ্যালয় পরিচালনা করে আর এস এস। আদিবাসী এলাকায় বনবাসী কল্যাণ আশ্রমের মাধ্যমে আর এস এস চালাচেছ আটাশ হাজার বিদ্যালয়। এই সবগুলো আদর্শের দিক দিয়ে কট্টর হিন্দুত্ববাদী। প্রশ্ন হচ্ছে এই বিপুল ধর্মীয় এবং সামাজিক চাপের বাইরে গিয়ে এবং করপোরেট অর্থনীতির আওতায় কতটা গণতান্ত্রিক আচরণ করতে সক্ষম হবেন নরেন্দ্র মোদী? তার পক্ষে আদৌ কি সংঘ পরিবার এবং করপোরেট ভারতের কর্তৃত্বের বাইরে গিয়ে সরকার পরিচালনা করা সম্ভব হবে?
আগেই জানান দেওয়া হয়েছিল যে, মোদীর মন্ত্রিসভা হবে ছোট অতিরিক্ত হলে ৪০ কিংবা ৪৫ জন। ২৩ জন মন্ত্রী, ১০ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং ১১ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছে মোদীর মন্ত্রিসভায়। প্রবীণ নেতাদের মধ্যে লালকৃষ্ণ আদভানী ও মরলিমোহন যোশী মন্ত্রী হচেছন না। যোশী স্পিকার হতে পারেন। মন্ত্রী হলেন রাজনাথ সিং , তিনি পেতে যাচ্ছেন স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব, ভেংকাইয়া নাইডু রেল মন্ত্রণালয়ের এবং অনন্তকুমার সংসদীয় দায়িত্ব পেলেন। অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন অরুণ জেটিল। গ্রামোন্নয়নের দায়িত্ব পেলেন অনন্ত গীতে, বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন বিজেপির সংখ্যালঘু মুখ শাহনেওয়াজ হুসেইন। তবে পুরো মন্ত্রিসভায় মাত্র একজন মুসলিম প্রতিনিধি আছেন, তিনি হলেন নাজমা হেপাতুল্লা। যদিও ভারতে ১৫ কোটি মুসলিম রয়েছে, তাদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য মাত্র একজন মন্ত্রী একটু বেমানানই মনে হচ্ছে। মন্ত্রী পরিষদের বহর বিশাল করে রাষ্ট্রীয় অর্থ খরচ করার পক্ষে নরেন্দ্র মোদী নন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এখান থেকেও আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। জনগণের অর্থ যদি তাদের প্রতিনিধিদের ভরণপোষণ, আনন্দবিলাসেই বেশী ব্যয় করা হয়, তাহলে তারা কিভাবে জনগণের জন্য কাজ করবেন? মোদীর এ দিকটিও প্রশংসার দাবি রাখে। মোদীর শপথের মাধ্যমে ভারতে যে নতুন সরকার তথা নতুন যুগের সূচনা হলো তা যেন ভারতের একশত বিশ কোটি জনগণের শান্তি ও সমৃদ্ধি ডেকে আনে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে যেন প্রকৃত বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
লেখক: আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক
ইমেইল: [email protected]
