বিজেপি’র জয় :ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

আপডেট : ২৮ মে ২০১৪, ২১:৫২
দুই দেশের জনগণের স্বার্থের দিকে নজর দিলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বন্ধুত্বপূর্ণ যোগসূত্র রয়েছে। কিন্তু দুই দেশের মধ্যকার কয়েকটি চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ক্ষোভ। শুধু এক দেশের স্বার্থের কথা ভুলে সবার স্বার্থের কথা ভাবতে হবে। বিজেপির বিজয় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও বৃদ্ধি করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ফারজানা রহমান ব্যবসায় প্রশাসন, শাহ্জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট। মোদি সরকারের কাজ ইতিবাচক হবে এমনটাই আশা করছি বিশ্বজুড়ে গত কিছুদিন থেকে চলছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা। আলোচনার মূল বিষয় হল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি কেমন হবে তাঁর পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক কেমন থাকবে ইত্যাদি। হিন্দুত্ববাদী নেতা হিসেবে মোদির পরিচিতি ব্যাপক। এই ক্ষেত্রে আমার যা মনে হয়, মোদি সরকার নেতিবাচক কোন কিছু করবে না। কারণ সব দলেরই ক্ষমতায় টিকে থাকার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকে, আর এই আকাঙ্ক্ষাই ইতিবাচক কাজ করতে সহায়তা করবে। বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে যদি বলি মনমোহন সরকার কিন্তু বাংলাদেশকে খুব বেশি সাহায্য করতে পারেনি, বরং বাংলাদেশ থেকে অনেক সুবিধা পেয়েছে। কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কটা দারুণ ছিল কিন্তু সুবিধা ভাগাভাগির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিল অনেকটা। এই ক্ষেত্রে মোদি সরকারের সহায়তার মাত্রাটা বেশি হতে পারে । মো. আবু সালমান (শুভ্র) ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, শাহ্ জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট । বিজেপির জয় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক মিশ্র প্রতিক্রিয়া বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের যেহেতু কংগ্রেসের সাথে বিজেপির থেকে ভাল সম্পর্ক তাই বিজেপি বাংলাদেশ সরকারের কংগ্রেস-প্রীতি এবং বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ হওয়াতে নরেন্দ্র মোদি কট্টর হিন্দুত্ববাদী হওয়ায় বাংলাদেশের মানুষ ভাবছে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কিছুটা হলেও অবনতির দিকে যাবে। এমনকি বিএনপির বিজেপি জয়লাভে অতি উল্লাসেও ইঙ্গিত পাওয়া যায় বিজেপি জয়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কেমন হবে। তবে আশার বাণী হল নরেন্দ্র মোদি তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্কোন্নয়নের জন্যই মনে হয় প্রতিটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান সফরে থাকায় জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পীকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী সেই অনুষ্ঠানে গিয়েছেন। তাহলে বোঝা যাচ্ছে ঢাকা-দিল্লী সম্পর্কোন্নয়নের জন্যই নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো আর ড. শিরীন শারমীন চৌধুরীর ভারত সফর। মো. জাহিদুল ইসলাম জাহিদ প্রাণরসায়ন এবং অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল-১৩৩ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা। পারস্পরিক স্বার্থরক্ষার ভিত্তিতেই প্রতিবেশী দু’দেশের সামনে এগিয়ে চলা উচিত যেহেতু বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভারতের বিরাট অবদান রয়েছে তাই আমরা চাই প্রতিবেশী দেশের সাথে দক্ষ ও বিচক্ষণ পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। কাজেই বিরাজমান সীমান্ত, তিস্তার পানি বণ্টন, ট্রানজিট, ছিটমহল সম্পর্কিত সমস্যায় বাংলাদেশ সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। কারো কাছে মাথা নত করে নয়, বাংলাদেশের জনগণের ন্যায্য হিস্যা আদায় করেই ঢাকা-দিল্লী সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। রেজাউল ইসলাম চৌধুরী ১ম বর্ষ, ২য় সেমিস্টার, ব্যবসায় প্রশাসান বিভাগ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট। দেশের স্বার্থ প্রাধান্য দেয়া উচিত অনেকটা আগেই আঁঁচ করা গিয়েছিল যে, এবার নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপিই ক্ষমতার মসনদে আরোহণ করবে। কংগ্রেসের দ্বিতীয় মেয়াদকালীন দুর্নীতি, অপনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতা যার জন্য দায়ী। যদিও দীর্ঘকালীন ক্ষমতায় থাকার সুবাদে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার ও বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের মাঝে আন্তরিকতা ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিরাজিত ছিল। তার মানে এই নয় যে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সাথে সম্পর্ক ভালো হবে না। পৃথিবীতে উন্নত এবং উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি পূর্ব থেকেই পরিকল্পনা করা থাকে। যে দলই ক্ষমতায় যাক না কেন পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন হয় না। বার বার পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন হলে দেশ উন্নত, সমৃদ্ধি এবং স্বীয় অগ্রগতির পথে এগোতে পারে না। ভারত অন্যতম সুপার পাওয়ার একটি দেশ। যেটা অর্থনৈতিক শক্তি অর্জনে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সাথে ভারতের রয়েছে একটি মধুরতম সম্পর্ক। আজীবন এ সম্পর্ক থাকবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আমাদের অনেক পণ্য ভারত থেকে আমদানি করা হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ ইলেক্ট্রোনিক্স সামগ্রীও ভারত থেকে আমদানি করা হয়। বাংলাদেশ হচ্ছে ভারতের বিরাট একটি বাণিজ্যিক ক্ষেত্র। তানসেন রোজ মার্কেটিং বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন