হঠাত্ দু’একটি ছাড়া শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র গতকাল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণই চালাতে পারেনি। বরং ১২ মিনিটে তিন গোল করে শেখ জামাল চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় শিরোপাধারীদের। সনি নরদে এবং ওয়েডসন উভয়েই জোড়া গোল করেন। শেখ জামাল ১৮ খেলায় ৪২ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষে থেকে লিগের দ্বিতীয় পর্ব শেষ করলো।
শেখ রাসেল থেকে বরখাস্ত হওয়া কোচ মারুফুল হক টেকনিক্যাল এডভাইজার হিসাবে শেখ জামালে যোগ দেয়াটা উপভোগ করেছেন এ জয়ে। তারপরও আক্ষেপ হতে পারে দুই হাইতিয়ান সনি এবং ওয়েডসনের হ্যাটট্রিক বঞ্চিত থাকায়। দুর্বার ওয়েডসনকে ঠেকাতে পারেননি শেখ রাসেলের রক্ষণভাগের রজনী, হাসান আল মামুনরা, আমিনুল, রেজাউলরা। তাদের রক্ষণভাগ তছনছ করে দিয়ে ১৯ মিনিটে সনি, ২১ মিনিটে ওয়েডসন গোল করেন। নয় মিনিটের মধ্যে সনির দ্বিতীয় গোলে ফল দাঁড়ায় ৩-০। গোল উত্সবের দিনে সনিকে দিয়ে হ্যাটট্রিক করাতে চাইলেও স্বদেশী ওয়েডসন উড়ন্ত বলে মাথা লাগাতে না পারায় হ্যাটট্রিকের প্রথম সুযোগটি হাতছাড়া হয়। ওয়েডসনের দ্বিতীয়বার বাড়ানো বলে সনির শট শেখ রাসেলের অধিনায়ক ও গোলকিপার বিপ্লবকে ফাঁকি দিয়ে ক্রসবারে লাগে। অধিনায়ক মামুনুল ইসলামের বদলি রনির জোগানে ওয়েডসন ৭০ মিনিটে গোল করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-০। তিন মিনিটের মধ্যে শেখ রাসেলের আনোয়ার ব্যবধানটি ১-৪ করেন। গেল মৌসুমে ‘ট্রেবল’ জয়ী শেখ রাসেল ছন্নছাড়া ফুটবল খেলার মাশুল দিলো এদিন। মারুফের বিদায়ের পর তার উত্তরসূরি মন্টিনেগ্রোর কোচ দ্রাগান দুকানোভিচ দায়িত্ব নিয়ে পাঁচ ম্যাচের একটিতেও জয়ের দেখা পাননি। শ্রীলংকায় প্রেসিডেন্ট কাপে সাফল্যের পর লিগে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও বিজেএমসির কাছে হার, চট্টগ্রাম আবাহনী ও বড় দল আবাহনীর সাথে ড্রয়ের পর এলো এই পরাজয়। কোচ খেলা শেষে স্বীকার করেন,‘সনি এবং ওয়েডসন পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন।’ এক প্রশ্নের জবাবে কোচ বলেন, ‘হতে পারে পারিশ্রমিক সমস্যা। বকেয়া আছে। সেটা নিয়ে শংকিত নই। খেলোয়াড়দের দেখেছি অনুশীলনে গিয়ে মন খারাপ করে থাকেন। মনসংযোগের সমস্যা হয়।’ খেলা শেষের সংবাদ সম্মেলনে আসেননি শেখ জামালের কোচ ও খেলোয়াড়। শেখ রাসেল ১৫ খেলায় আগের ১৭ পয়েন্টেই আছে। তাদের ম্যাচ বাকি তিনটি। আজকের খেলা ঃ ব্রাদার্স ঃ বিজেএমসি, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, ৬টা।
মুক্তিযোদ্ধার জয়
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে রাতে অনুষ্ঠত দ্বিতীয় ম্যাচে মুক্তিযোদ্ধা ২-০ গোলে হারিয়েছে উত্তর বারিধারা ক্লাবকে। উত্তর বারিধারা ম্যাচের প্রথমার্ধটা আটকে রেখেছিল মুক্তিযোদ্ধাকে। দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে গোল হজম করে। সানডে এবং ইব্রাহিম গোল করে ম্যাচ জেতান। মুক্তিযোদ্ধা ১৭ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠলো। বারিধারা দ্বিতীয় পর্ব শেষ করলো ১৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে।
