গন্তব্য ‘গোল্ডেন বুট’

আপডেট : ২৮ মে ২০১৪, ২২:২৪
‘জয় পরাজয় নয় অংশগ্রহণই মূল কথা’ — খেলাধূলা নিয়ে পিয়েরে ডি কুবেরতিনের এই কালজয়ী বক্তব্য বহুল ব্যবহারের পর ক্লিশে হয়ে গেছে। ফুটবল বিশ্বকাপও এর বাইরে নয়। অনেক হাসি-কান্না, জয়-পরাজয়ের গল্প এই বিশ্বকাপ। যেন জীবন্ত একেকটা গল্প! ১৯৩০ সাল থেকে শুরু হওয়া সেই লড়াইয়ে নায়ক থেকে খলনায়ক কিংবা এর বিপরীতটা ঘটে যাবার নজির আছে অনেক। একই সাথে আছে অনেক তারকার উত্থানের বিজয়গাঁথা। দলীয় পারফরম্যান্সের সাথে সাথে তাই এখানে প্রত্যেকজন খেলোয়াড় থাকেন দর্শকদের আতস কাচের নিচে। অতিমানবীয় ফুটবল দিয়ে সর্বোচ্চ গোল করে এখানে খেলোয়াড় পান গোল্ডেন বুট। কে হবেন এবারের আর্জেন্টিনার গুইলেরমো স্ট্যাবিল কিংবা ব্রাজিলের রোনালদো? আসুন সম্ভাব্য বিজয়ীদের দেখে নেয়া যাক। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো পতুর্গাল তাদের স্বর্ণালী প্রজন্ম হারিয়েছে সেই ফিগোদের জমানায়। তবে, এখনও যে দলটি ইউরোপিয়ান ফুটবলারের অন্যতম সেরা একটি দল বলে বিবেচিত হয় তার কারণ হলেন একজন। তিনি হলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। নিন্দুকেরা বলেন, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে রোনালদোর পারফরম্যান্সটা পর্তুগালের জার্সিতে একেবারেই হারিয়ে যায়। কিন্তু, সেই রোনালদোই এবারের বাছাইপর্বে প্লে-অফ ম্যাচে হ্যাট্রিক করে একাই উড়িয়ে দিয়েছেন সুইডেনকে। এছাড়া ক্লাব ফুটবলে রিয়ালের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় ও ফিফা-ব্যালন ডি’অরের পুরস্কার জয়ের স্মৃতি তো আছেই। সব মিলিয়ে গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে রোনালদোকে রাখতেই হচ্ছে। সার্জিও অ্যাগুয়েরো ‘ম্যারাডোনার জামাতা’ — স্রেফ এই পরিচয়ের মধ্যে আবদ্ধ তিনি কোন কালেই ছিলেন না। আর্জেন্টিনার পাশাপাশি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল ম্যানচেস্টার সিটিরও মূল ভরসা তিনি। ক্লাবটির হয়ে জয় করেছেন দুটি লিগ শিরোপা। আর্জেন্টাইন ঘরোয়া লিগে সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে অভিষেক হওয়া অ্যাগুয়েরো ২০০৮ সালে দেশের হয়ে জয় করেন অলিম্পিক স্বর্ণ। এবার আরও বড় অর্জনের হাতছানি তার সামনে। ৪৭ ম্যাচে ২১ গোল করা অ্যাগুয়েরো পারবেন তো সর্বোচ্চ গোলদাতার বুট ছিনিয়ে নিতে? ফ্রেড ক্লাব পর্যায়ে তিনি কোন আলোচিত চরিত্র নন। কিন্তু তারপরও যে, তরুন ব্রাজিল দলটির সাথে ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছেন ফ্রেড, তার বড় প্রমান হল কনফেডারেশন্স কাপ। সেবার সিলভার বুট জয়ী এই তারকার বয়স ৩০। জাতীয় দলের হয়ে ৩১ ম্যাচে করেছেন ১৬ গোল। এবারের বিশ্বকাপে গোল করার জন্য নেইমারের পাশাপাশি তার দিকেও তাকিয়ে থাকবে ব্রাজিল। নিজের দেশে বিশ্বকাপ বলেই কি না, গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে আছেন ফ্রেডও! লিওনেল মেসি টানা চারবার বিশ্বসেরা ফুটবলারের খেতাব, বার্সেলোনার হয়ে অসংখ্য অর্জন — এই সব কিছু অর্থহীন হয়ে যায় যখন জাতীয় দলের প্রসঙ্গ আসে। বলা হচ্ছে, সেই ‘ভীনগ্রহের ফুটবলার’ লিওনেল আন্দ্রেস মেসির এটাই শেষ সুযোগ। গতবার দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদায় ঘটে জার্মানীর সাথে হারে। তবে, এবারের বিশ্বকাপের লড়াইয়ে এবার ভাল ভাবেই আছেন মেসিরা। একের পর এক গোল করে বিশ্বকাপের সহজেই পাড় করে ফেলেছেন লিওনেল মেসি। ৮৩ ম্যাচে ৩৭ গোল করা লিওনেল মেসির দিকে এবার অবশ্যই চোখ রাখতে হবে। গোল বানিয়ে দেয়ার সাথে সাথে সর্বোচ্চ গোলদাতার গোল্ডেন বুটও পেয়ে যেতে পারেন তিনি। আর সেটা হলেই তিনি হয়ে যাবেন সর্বকালের সেরা ফুটবলার। থমাস মুলার চার বছর আগে বিশ্বকাপ মিশনটা জার্মানিদের জন্য শেষ হয়ে গিয়েছিল সেমিফাইনালেই। কিন্তু একদিক থেকে থমাস মুলার ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন অনেককেই। সেন্ট্রাল স্ট্রাইকার সেবার দক্ষিণ আফ্রিকায় করেছিলেন পাঁচ গোল। তার সমান গোল করতে পেরেছিলেন আর মাত্র দুজন (ডেভিড ভিয়া ও ডিয়েগো ফোরলান)। অ্যাসিস্ট বেশি থাকায় গোল্ডেন বুটও পেয়েছিলেন তিনি। এবারও জোয়াকিম লো’র ইনজুরিগ্রস্থ দলের মূল ভরসা থমাস মুলার। এবারও কি ভরসার প্রতিদান রাখতে পারবেন এই সেন্ট্রাল স্ট্রাইকার? নেইমার কদিন আগে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তী পেলে বলেছিলেন, ‘ওর বয়স মাত্র ২২। উপর চাপ কমাও।’ তরুন ব্রাজিলিয়ান দলটির সবচেয়ে বড় তারকা হলেন নেইমার। স্যান্তোস ছেড়ে গত মৌসুম শেষে যোগ দেন সপ্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায়। মৌসুমটা মন মত না হলেও বলা হচ্ছে, তিনিই ব্রাজিলের প্রজন্মের সেরা ফুটবলার। গত বছর কনফেডারেশন্স কাপে নেইমারের দাপটেই শিরোপা জয় করে ব্রাজিল। তাও আবার বর্তমান বিশ্বকাপ জয়ী দল স্পেনকে হারিয়ে। আর বিশ্বকাপটা যখন ব্রাজিলে তখন নেইমার দ্যস স্যান্তোসের দিকে চোখ রাখতে হচ্ছেই।