এমন একটা দেশ যেখানে শিরোপা বাদে অন্ন যে কোন ফলাফলকেই মানা হয় ব্যর্থতা হিসাবে। আর এবার তো বিশ্বকাপটা নিজেদেরই মাটিতে। সুতরাং, পর্বত প্রমান চাপ নিয়েই আগামী ১২ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে নামতে হচ্ছে ব্রাজিলকে। তবে দলের অতিরিক্ত গোলরক্ষক জেফারসনের বিশ্বাস চাপ যত বেশীই হোক না কেন, সেটা নিতে প্রস্তুত ব্রাজিলের এই দল। গত বুধবার দলের প্রথম অনুশীলন সেশন শেষ করে বোটাফাগোর এই গোলরক্ষকের বিশ্বাস এমনটাই।
জুলিও সিজারের পর লুইস ফেলিপে স্কলারির দ্বিতীয় পছন্দের গোলরক্ষক জেফারসন বলেন, ‘সব দলের কাছ থেকেই ব্রাজিল তাদের মর্যাদা আদায় করে নিয়েছে। আমরাই চ্যাম্পিয়ন হতে যাচ্ছি। এটা মোটেই চাপ মনে করছি না আমরা। কারন, ফেভারিট হিসাবে আমাদের কাজটা কেমন হবে সেটাও আমরা জানি। তবে আমরা বরাবরের মতোই বিনয়ী এবং শ্রদ্ধাশীল থাকতে চাই। (একসাথে) দারুন শক্তিশালী একটা দল আমরা।’
রিও থেকে ব্রাজিল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ দিয়ে আগামী ১২ জুন মাঠে গড়াচ্ছে বিশ্বকাপ। আর রেকর্ড ষষ্ঠ বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে অনুশীলন ক্যাম্পও শুরু হয়ে গেছে তাদের। রিও ডি জেনিরো থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে ট্রেসপোলিসে এই অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন নেইমার, ডেভিড লুইজ সহ দলের প্রায় সব তারকাই। আর গত বুধবার নিজেদের প্রথম অনুশীলন সেশনে নতুন বিশ্বকাপ বল ব্রাজুকার সঙ্গে হয়ে গেছে পরিচিতিটাও।
একমাত্র মার্সেলো বাদে বিশ্বের বিভিন্ন লিগে খেলা ব্রাজিলের প্রায় সব খেলোয়াড়রা দেশে পৌছে গিয়েছিলেন আগেই। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল খেলা রিয়াল মাদ্রিদের এই ডিফেন্ডার ২৪ তারিখের সেই ম্যাচ খেলেই উড়াল দেন দেশের পথে। ফলে, ট্রেসোপোলিসে জাতীয় দলের অনুশীলন কমপ্লেক্সে প্রথম দিনের অনুশীলন হয়ে উঠলো নেইমার-মার্সেলো-ডেভিড লুইজদের এক ধরনের মিলনমেলাই।
কমপ্লেক্সের ঠিক সামনেই সবাইকে বরন করে নিতে দাড়িয়েই ছিলেন কোচ লুই ফেলিপে স্কলারি। একে একে আসছেন সবাই। আর, বুক মেলানোর পাশাপাশি সবার সাথেই করলেন ছোট-বড় নানা রসিকতাও।
নেইমার-ড্যানিয়েল আলভেজ পৌছালেন এক সাথে। দুই বার্সেলোনা সতীর্থ কোচকে জড়িয়ে ধরে সেখানেই মেতে উঠলেন আড্ডায়। এরপর গ্র্যাঞ্জা কমারি মেডিক্যাল সেন্টারে হয়ে গেল সবার প্রাথমিক স্বাস্থপরিক্ষাও। ডেভিড লুইজ, উইলিয়ান, দান্তেদের দাঁত, চোখ থেকে শুরু করে ছোট-বড় প্রায় সব পরিক্ষাই হয়ে গেল। আর প্রাথমিক ফিটনেস পরিক্ষা উত্রানোর পর সবাই নামলেন আসল অনুশীলনে।
সেখানে একটা আকর্ষন অপেক্ষা করছিল সব খেলোয়াড়ের জন্যই। কারন, এদিনই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বল ব্রাজুকা তুলে দেয়া হয় তাদের পায়ে। প্রথম দিনের অনুশীলন শেষে গোলরক্ষক-খেলোয়াড় প্রায় সবাই জানিয়েছেন তাদের সন্তুষ্টির কথা।
বার্সেলোনায় নিজের প্রথম মৌসুম শেষে পায়ে সামান্য চোট নিয়ে দেশে ফেরা নেইমারও যোগ দিলেন বল দখলের লড়াইয়ে। স্কলারির রনকৌশলের সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে বেশ কিছুক্ষন দান্তে, আলভেজ, মার্সেলোদের সাথে একসাথে কাজও করলেন।
আর প্রথম দিনের অনুশীলনের শেষটা হলো ব্রাজিল দলের আনুষ্ঠানিক বাহনের পরিচিতি প্রদানের মধ্য দিয়ে। বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে এক শহর থেকে অন্য শহরে যাতায়াতের জন্য জাতীয় দলকে আস্ত একটা বোয়িং ৭৪৭ই উপহার দিয়েছে দেশটির একটি বেসরকারি একটি পরিবহন প্রতিষ্ঠান। দুই যময ভাই অটাভিও ও গুস্তাভিও প্যানডোলফোর অঙ্কনে বর্নিল এক রূপ লাভ করা এই বিমানটিই আগামী একমাস বহন করবে নেইমারদের। ওয়েবসাইট।
