পেলে-বেকেনবাওয়ার থেকে শুরু করে দিয়েগো ম্যারাডোনারা সবাই আসন্ন বিশ্বকাপের হট ফেভারিট হিসাবে বলছেন ব্রাজিলের নাম। তবে, সেস ফ্যাব্রেগাস বললেন, কনফেডারেশন্স কাপ ফাইনালে বড় ব্যবধানে হারলেও ব্রাজিলের মোকাবেলা করতে মোটেই ভয় পাচ্ছে না স্পেন। বরং, ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের এই লড়াইয়ে সবাই নতুন এক স্পেনকে দেখবেন বলেই তার বিশ্বাস।
এদিকে, দলের আরেক তারকা মিডফিল্ডার জাভি হার্নান্দেজ বলেছেন, প্রথাগত সেই পাসিং ফুটবলই এবারের বিশ্বকাপেও স্পেনকে সাফল্য এনে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। কেবল, একটি হার কখনোই তাদের স্টাইলকে পাল্টাতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০০৮ সালে ইউরো জেতার পর দক্ষিণ আফ্রিকায় সর্বশেষ বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ফর্মে থাকা স্পেন জিতে নেয় শিরোপা। এরপর ইউক্রেনে ইউরোর গত আসরেও শিরোপা জেতে স্পেন।
পুমা ট্রিকসের উদ্বোধন অনুষ্ঠান উপলক্ষে এক সাক্ষাত্কারে বার্সেলোনা মিডফিল্ডার ফ্যাব্রেগাস বলেন, ‘শিরোপা জয় করাটাই গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। এখানে অন্য কিছুর ভাবার সুযোগ নেই। ২০০৮ সালে আমাদের প্রতি কারোই বিশ্বাস ছিল না এবং সেই থেকে আমরা নিজেরাই আমাদের একটা অবস্থান তৈরি করেছি এবং একটি প্রতিদ্বন্দ্বী দলে পরিণত হয়েছি, যারা সব কিছুই জিতেছে।’
গত বড় তিনটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের শিরোপা জয় করলেও ভিসেন্তে দেল বস্কের শিষ্যরা ব্রাজিলে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্ট বলে স্বীকৃত কনফেডারেশন্স কাপের ফাইনালে ৩-০ গোলে হেরে যায় স্বাগতিকদের কাছে। দল দু’টির মধ্যে গ্রুপ পর্যায়ে একটি শীর্ষ স্থান এবং অপরটি দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত হলে দ্বিতীয় রাউন্ডে মুখোমুখি হতে পারে স্পেন-ব্রাজিল। তবে ফ্যাব্রেগাস মনে করছেন দল দু’টি মুখোমুখি হলেও কনফেডারেশন কাপের ফলের পুনরাবৃত্তি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।
‘ব্রাজিলকে নিয়ে আমরা মোটেও ভীত নই। আমি মনে করি ব্রাজিল খুবই শক্তিশালী একটা দল... এবং পুনরায় আমরা তাদের মোকাবেলা করলে সেটা হবে সম্পূর্ণ নতুন একটা ম্যাচ।’
চার বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে পরাজিত হয়ে স্পেনের বিশ্বকাপ স্বপ্ন প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং ফ্যাব্রেগাসের আশা গত টুর্নামেন্ট থেকে তার দল শিক্ষা গ্রহণ করবে।
চার বছর আগের সেই স্মৃতি স্মরণ করে বার্সেলোনা থেকে আগামী মৌসুমে অন্য কোন ক্লাবে পাড়ি জমানোটা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলা ফ্যাব্রেগাস বলেন, ‘সেটা ছিল একটা কঠিন সময় এবং আমার মনে আছে আমরা খুব নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম। সবাই মনে করেছিল গ্রুপে এটা ছিল সবচেয়ে সহজ ম্যাচ। এটা ছিল একটা শিক্ষা এবং এই বিশ্বকাপের আগেও আমাদের এটা মনে রাখা উচিত। এটা নিয়ে আমি এবং দল চিন্তিত, কারণ আমরা বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করতে চাই।’
এদিকে, স্পেনের সাম্প্রতিক সাফল্য খরায় যারা তাদের চিরচরিত খেলার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাদের স্পেনের অতীত সাফল্য মনে করিয়ে দিয়ে জাভি বলেন, ‘এটা সত্যি যে, আমরা বিরক্তিকর ফুটবল খেলি এমন সমালোচনা গত ইউরোতে আমাদের নিয়ে হয়েছিল। তবে, এটা সবার মনে রাখা উচিত এই দলটিই কিন্তু ফাইনালে তাদের চার গোলে পরাজিত করেছিল।’
তাই মানুষের সমালোচনা স্পেনের খেলার ধরন পাল্টাতে পারবে না বলেও জানান বার্সেলোনা এবং স্পেন দলের এই মিডফিল্ডের এই প্রাণভোমরা, ‘ইতালিয়ানরা সব সময়ই রক্ষণকাজটা ভালো করে থাকে। তাদের মতো একটা দলকেও আমরা বড় ব্যবধানে হারাতে পেরেছি। সুতরাং, মানুষ কি ভাবলো তা নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজন আমাদের নেই।’
আর কনফেডারেশন্স কাপের ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে হেরে গেলেও ঐ সফরের অভিজ্ঞতা এই বিশ্বকাপে স্পেনকে সাহায্য করবে বলেও জানান জাভি। ৩৫ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ‘আমি মনে করি ব্রাজিলে ঐ সফরটার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। এবার আমরা এমন কন্ডিশনে খেলবো যেটার সাথে আমরা আগে থেকেই পরিচিত। কোন সন্দেহ নেই এটা সাহায্য করতে যাচ্ছে আমাদের।’ গোল ডট কম।
