ই-সিগারেট ধূমপানের মত একই রকম ক্ষতিকর। অনেক ক্ষেত্রে সিগারেটের চেয়ে বিপজ্জনক। এমন একটি বিতর্ক যখন চলে আসছে, ঠিক তখনই ইউরোপ, নর্থ আমেরিকা, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার অন্তত: ৫৩ জন পাবলিক হেলথ এবং নিকোটিন বিশেষজ্ঞ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) মহাপরিচালক ম্যাগারেট চ্যানের কাছে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞগণ ই-সিগারেটকে একবিংশ শতাব্দির যুগান্তকারী উদ্ভাবন হিসাবে আখ্যায়িত করে ই-সিগারেটকে টোবাকো প্রডাক্টস হিসাবে শ্রেণিভুক্ত না করার অনুরোধ করেছেন হু প্রধানকে।
বিশেষজ্ঞগণ এটাও বলছেন, ই-সিগারেট বিশ্বের লক্ষ লক্ষ ধূমপায়ীর জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখছে। মূলত: গত নভেম্বরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফাঁস হয়ে যাওয়া একটি তথ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ই-সিগারেটকে রেগুলার সিগারেটের মতই ক্ষতিকর হিসাবে বিবেচনা করে। এব্যাপারে কানাডার অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ডেভিড স্যুয়েনর মনে করেন সিগারেটকে বিদায় জানাতে আমাদের অবশ্যই প্রযুক্তির সহযোগিতা নিতে হবে। আর অন্তত: বিশ্বের ১০৩ কোটি ধূমপায়ীর জন্য এটা হবে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
বিশেষজ্ঞদের এ খোলা চিঠি সম্পর্কে তাত্ক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটিশ লাঙ্গ (ফুসফুস) ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী পেনি উডস উল্লেখ করেছেন, ই-সিগারেট থেকে জনস্বাস্থ্যের ওপর সামগ্রিক প্রভাব এখনও অস্পষ্ট। তবে ধূমপান ত্যাগের জন্য এটা একটি উপায় হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন অনিয়ন্ত্রিত ই-সিগারেট জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এ ক্ষেত্রে ই-সিগারেটের প্রবক্তাদের যুক্তি হচ্ছে, যারা ধূমপান ছাড়তে চান তারাই ই-সিগারেট পান করেন। তবে তরুণ যারা ধূমপান শুরু করতে চান তারা ই-সিগারেট দিয়ে শুরু করেন না।
তবে কানাডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অনূর্ধ্ব ১৯ বছরের তরুণদের ই-সিগারেট না খাওয়ার আইন পাস করতে যাচ্ছে। হেলথ কানাডা ই-সিগারেট-এর বিরুদ্ধে তাদের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ই-সিগারেট ধূমপান ছাড়তে সহায়ক হচ্ছে। এর সপক্ষে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন।
লেখক : চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ
