ঠিক এমনই বিশ্বকাপের ডামাডোলে তখন মেতেছিল বিশ্ব।
সেই সময়ে তামিম ইকবাল বাংলাদেশের ক্রিকেটকে তুলে নিয়ে গেলেন এক অনুমেয় উচ্চতায়। সেই দৃশ্যটার কথা বাংলাদেশের ক্রিকেটের কখনোই ভোলা সম্ভব নয়—লর্ডসে সেঞ্চুরির পর হাত দিয়ে বোর্ড চিহ্ন দেখিয়ে নিজের নামটা অনার্স বোর্ডে তোলার অনুরোধ করছেন বাংলাদেশি এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান!
নিয়তির কী অপূর্ব খেলা! সেই ঘটনার ঠিক চার বছর পর আরেক জুলাই মাসে সেই লর্ডসে আরও একবার বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য অনন্য এক অর্জন করতে যাবেন সেই তামিম ইকবাল। মূলত গ্রীষ্মের শুরুতে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং প্রতিকূল পরিবেশে টানা দুই সেঞ্চুরি করেই ইংলিশদের মন জিতে নিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। সেই সূত্রে সে বছরের উইজডেন বর্ষসেরা ক্রিকেটারও হয়েছিলেন। আর এবার সেই লর্ডসেরই দ্বিশতবার্ষিকী ম্যাচ খেলতে দুনিয়ার নামকরা সব বর্তমান ও সাবেক তারকার সঙ্গে বিশ্ব একাদশের হয়ে খেলতে নামবেন তামিম ইকবাল।
তামিম যে প্রতিভা নিয়ে ক্রিকেটে এসেছেন, সেই প্রতিভার উপযুক্ত মঞ্চায়ন এখনও পর্যন্ত করতে পেরেছেন কি-না, সে নিয়ে অনেকেরই সন্দেহ আছে। তবে লর্ডস ও ম্যানচেস্টারে পরপর দুটি সেঞ্চুরি তার সেরা মঞ্চায়ন সে সম্পর্কে সন্দেহ নেই। বিশ্ব একাদশে তাকে অর্ন্তভুক্ত করে লর্ডস কর্তৃপক্ষ তার ওয়েবসাইটে লিখেছে, ‘তর্কসাপেক্ষে তামিমের ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত হল, এই লর্ডসে ২০১০ সালে অভিজাত এক ১০৩ রানের ইনিংস খেলে নিজের নাম অনার্স বোর্ডে তোলা এবং বাংলাদেশের ক্রিকেট রূপকথা রচনা করা।’
তামিম সম্পর্কে লর্ডস কর্তৃপক্ষের প্রশংসা শুধু এটুকুই নয়। তার পরিচিতি লিখতে গিয়ে ক্রিকেট আইনের অভিভাবক এমসিসির এই আতুরঘর কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘তামিম ইকবাল শুধু বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে অনার্স বোর্ডে নামই তোলেননি; তার বিস্ফোরক ব্যাটিং তাকে দুনিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় ব্যাটসম্যান করে তুলেছে।’
এই অনার্স বোর্ডে নাম তোলা নিয়ে তামিমের নিজের মধ্যেও কম মিথ ছিল না। বলা হয়, তামিম ব্যাপারটা জানতে পেরে লর্ডসের কিউরেটরকে বলেছিলেন, সেঞ্চুরি করেই নাম তুলবেন ওখানে। সে জন্যই সেঞ্চুরির উদযাপনেই অমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
মজার ব্যাপার হল, এই বিশ্ব একাদশে খেলা নিয়েও তামিমের দারুণ রোমাঞ্চ ও উত্তেজনা আছে।
এখন ৫ জুলাইয়ের অপেক্ষা। লর্ডসে আরেকটি এই সম্মানীয় অর্জন কিভাবে তামিম উদযাপন করেন, তাও তো দেখতে হবে!
এমসিসি একাদশ:
শচীন টেন্ডুলকার (অধিনায়ক), অ্যারন ফিঞ্চ, রাহুল দ্রাবিড়, ব্রায়ান লারা, শিবনারায়ণ চন্দরপল, ক্রিস রিড (উইকেটকিপার), ড্যানিয়েল ভেট্টোরি, ব্রেট লি, উমর গুল, সাঈদ আজমল, শন টেইট|
অবশিষ্ট বিশ্ব একাদশ:
তামিম ইকবাল, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট (উইকেটকিপার), বীরেন্দর শেবাগ, কেভিন পিটারসেন, পল কলিংউড, যুবরাজ সিং, শহীদ আফ্রিদি, শেন ওয়ার্ন (অধিনায়ক), টিনো বেস্ট, পিটার সিডল, মুত্তিয়া মুরালিধরন|
