লুই ফিলিপ স্কোলারি ‘শতভাগ দৃঢ়প্রত্যয়ী’ যে তিনিই হবেন ব্রাজিলকে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপের গৌরব জেতানো প্রথম ব্যক্তি। দেশে-বিদেশে অনেক দায়িত্ব পালন করা, ইংলিশদের কাছে ‘বিগ ফিল’ হিসেবে খ্যাত এই কোচ আবারো সে দায়িত্বটি নিয়েছেন যা তাকে বিখ্যাত করেছিল। শুধু তাই নয় স্কোলারি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন ১৩ জুলাই ষষ্ঠবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা তুলে নেবে সেলেচাওরা।
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে স্কোলারি সফল হবেন, এমনটা কেউ ভাবেনি। কেননা বাছাই পর্বে ব্রাজিল ছিল গড়পড়তা মানের নিচে এবং চূড়ান্ত পর্বে ওঠার জন্য শেষ রাউন্ডে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে একটা জয় দরকার ছিল তাদের। মজার ব্যাপার হলো দক্ষিণ আমেরিকায় ফিরে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেয়ার আগে স্কোলারি কিছু সময়ের জন্য ছিলেন জে লিগের দল জুবিলিও আইওয়াতার কোচ। সেবারের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিও ছিল রহস্যময়তায় ঘেরা। কেননা তিনি সে সময়ের সুপারস্টার স্ট্রাইকার রোমারিওকে নিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে ব্রাজিল জুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ হলেও তিনি ছিলেন নির্বিকার। কয়েক মাস পর আশাহীন এ ব্রাজিল দলই ইওকোহামায় রোনাল্ডোর জোড়া গোলে জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে রেকর্ড পঞ্চম বিশ্বকাপ জিতে নেয়।
স্কোলারির নাম এরপর উচ্চারিত হয় ভিসেন্তে ফেওলা, আয়মোরে মোরেইরা, মারিও জাগালো ও কার্লোস আলবার্তো পেরেইরার সাথে। কিন্তু স্কোলারি পদত্যাগ করে ইউরোপে যান নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে। কিন্তু পর্তুগালের সাথে মিশ্র সাফল্যের পর চেলসি, উজবেকিস্তানের দল বুনিওদকর হয়ে তিনি দেশে ফিরে গিয়ে পালমেইরাসের দায়িত্ব নেন। কিন্তু ব্রাজিল দলের উত্তপ্ত আসনটি সামলাতে কোচ মানো ম্যানেজেস হিমশিম খেলে ২০১২ সালের নভেম্বরে আবারো হাল ধরতে এগিয়ে আসেন স্কোলারি। এবং এ দফায় আর কোন ধোঁয়াশা ছিল না, বরং কনফেডারেশন কাপের শিরোপা ধরে রাখেন মারাকানার ফাইনালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে। সেলেচাওরা আবার শীর্ষে উঠে আসে এবং গেল নভেম্বরে হন্ডুরাসকে ৫-০ গোলে হারানোর পর স্কোলারি রিপোর্টারদের ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে ব্রাজিল আবার বিশ্ব শাসন করবে। তিনি বলেন, ‘ব্রাজিল দলের উপর কোন চাপ নেই। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হবার জন্যও কোন চাপে নেই ব্রাজিল। ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি ব্রাজিলের দায়িত্ব নিতাম না যদি না আমি ভাবতাম যে আমরা বিশ্বকাপ জিততে পারবো। সেক্ষেত্রে আমি দলকে নেতৃত্ব না দিয়ে বাড়িতে বসে থাকতাম। আমি এ দায়িত্বটি নিয়েছি কারণ আমি শতভাগ দৃঢ় প্রত্যয়ী যে আমি ব্রাজিলের সাথে বিশ্বকাপ জিতবো।’
স্কোলারিকে একই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে হবে তুলনামূলক বিচারে জাপানে সফল হওয়া তার আগের দলের চাইতে কম বয়সীদের নিয়ে। এবারের দলটিতে ৩৪ বছর বয়সী গোলরক্ষক জুলিও সিজারই হলেন সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। নইলে তার দলটিতে আছে ২২ বছরের ফরোয়ার্ড অস্কার ও নেইমার এবং ২১ বছরের উইঙ্গার বার্নার্ড।
ব্রাজিল কোচ ইতোমধ্যেই আভাস দিয়েছেন তার মহাপরিকল্পনা হলো তরুণ মেধাদের সাথে ফ্রেড, মাইকন ও দানি আলভেজের মতো পুরনোদের সংমিশ্রণে সাফল্য বের করে আনা। তারপরও অনভিজ্ঞতাই সমর্থকদের দুশ্চিন্তার কারণ হিসেবে থেকে যাচ্ছে।
