চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে ‘এল চোলো’কে (সিমিওনে) জড়িয়ে ধরে গণ্ডগোল থামালেন দেখা গেল। কী বলেছিলেন তাকে?
আমি বললাম, ‘এর কোনো অর্থ হয় না। তুমি অসাধারণ একটা মৌসুম কাটিয়েছ। এ ধরনের সিনক্রিয়েট করা তোমাকে মানায় না।’ ডিয়েগোর মতো মানুষ এসব করলে হাস্যকর হয়ে যায় ব্যাপারটা। আসলে এটাও বুঝি, ওর জন্য পরিস্থিতিটা মেনে নেয়া কঠিন। চ্যাম্পিয়ন হওয়া থেকে কয়েক সেকেন্ড দূরে দাঁড়িয়েছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে ওকে ভালোবাসি। আমি ওকে থামাতে চেয়েছি, কারণ ও এমন কিছু করলে ওর অর্জনই নষ্ট হবে।
ডি মারিয়া অনেক পরিণত হয়ে গেছে মনে হচ্ছে!
হ্যাঁ, অনেক পরিণত হয়েছি। এ জন্য আনচেলোত্তিকে ধন্যবাদ দিতে হবে। খেলোয়াড় দিক থেকে এবং ব্যক্তি হিসেবে আমাকে আরো শক্ত করে তুলেছে তার কিছু সিদ্ধান্ত।
আগামী মৌসুমে কী করবে, কোথায় যাবেন; কিছু ঠিক করেছেন?
না। আমি এ নিয়ে ভাবছি না। আমি এখন বিশ্বকাপ নিয়েই ভাবছি। আগেও বলেছি, ২৪ তারিখ সন্ধ্যায় আমার ক্লাব নিয়ে ভাবনা শেষ হয়ে গেছে। এরপর থেকে আমার মাথা জুড়ে শুধু আর্জেন্টিনার চিন্তা। আমি ভালো একটা ফর্ম নিয়ে আর্জেন্টিনায় এসেছি। এখন এটাকে ধরে রাখতে চাই। আর ক্লাবের ব্যাপারে বলি; আমি ওদের চিন্তাটা জানতে চাই—তারা আমাকে রাখতে চায়, নাকি ছেড়ে দিতে চায়।
আর্জেন্টিনা কী বিশ্বকাপ জিততে পারবে?
না পারলে সেটাই হবে ব্যর্থতা। বিশ্বকাপ ফাইনাল জেতার নিচে আর কোনো কিছুতেই আমরা সন্তুষ্ট হবো না। এটাই বাস্তবতা। বিশ্বকাপ না জিতলে সবাই বলবে, আমরা ব্যর্থ।
সে জন্য কী করতে হবে আর্জেন্টিনাকে?
খুবই কঠিন কাজ। আমাদের সর্বোচ্চ মাঠে উজাড় করে দিতে হবে। আমাদের স্বপ্নটা আমাদের উপলব্ধি করতে পারতে হবে। দেখুন আমি বিশ্বাস করি, ফাইনালে পৌঁছে ঐ মুকুটটা মাথায় পরতে আমাদের সবাইকে মাঠে জীবন দিয়ে দেয়ার মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামতে হবে। আমি নিশ্চিত, সেটা আমরা করবো।
আপনি খুব স্বপ্নীল কথাবার্তা বলছেন। আদৌ কী এগুলো সম্ভব?
একটা কথা বলি, আমার মেয়ে আমাকে শিখিয়েছে—অসম্ভব বলে দুনিয়ায় কিছু নেই। কিছু কাজ কঠিন হতে পারে, অসম্ভব নয়। মেয়েটার প্রতিটা কাজ দেখি আর আমি বুঝি, একটানা পরিশ্রম করলে তার পুরস্কার আসবেই। আপনারা জানেন, গত বছরটায় কিভাবে ও জীবন আর মরণের মাঝখানে ঝুলেছি। ও সেখান থেকে লড়েছে আর লড়েছে এবং ফিরে এসেছে। ওর ফিরে আসা দেখে আমি বুঝেছি, লড়লে সবই সম্ভব।
আবার একটু খেলার মাঠে আসা যাক। আপনি রেকর্ড পরিমাণে গোল সহায়তা করেছেন। মনে হয় না যে, এর কিছু গোল আমি করতে পারতাম?
লোকে বলে। লোকে জিজ্ঞেস করে, তুমি কেন গোলে শট করো না? ক্রিস্টিয়ানোও আমাকে এটা জিজ্ঞেস করেছে। আমি বলি, আমার পাশ থেকে গোল হলে আমি গোল করেছি বলেই আমার মনে হয়। আমি সমান আনন্দ পাই।
তারপরও এতে কী ব্যক্তি ডি মারিয়ার স্বীকৃতি একটু কমে যায় না?
দেখুন, আমি গোল করি আর নাই করি, ভালো খেলি আর নাই খেলি; মিডিয়াতে কখনোই আমি স্বীকৃতি পাই না, পাবোও না। লোকেদের আসলে তারকা পছন্দ করার নিজস্ব কিছু উপায় থাকে। আমার মধ্যে হয়তো সেটা নেই। আর রিয়াল এবং আর্জেন্টিনায় সত্যিই অনেক তারকা। এমন দুটো দলে আমাকে নিয়ে হইচই কম হবে, এটাই স্বাভাবিক। এর মধ্যে কিছু সমর্থক আমাকে ভালোবাসলে সেটাই আমার পাওয়া।
