২৪ ডিসেম্বর ১৯৯৪:
সার্ক চারদেশীয় টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ সেদিন শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দল। আগের ম্যাচে পাকিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে ১ উইকেটে হেরে যাওয়ায় ফাইনালে টিকে থাকতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই বাংলাদেশের। আতাহার আলী খান, মিনহাজুল আবেদীন নান্নুদের দাপুটে ব্যাটিংয়ে সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশ সেদিন ৫ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল।
এই জয়ের পরও বাংলাদেশের খেলোয়াড়-সমর্থকরা দীর্ঘদিন পর্যন্ত ওই শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের একজন খেলোয়াড়ের কথা ভুলতে পারেননি। আতাপাত্তু, আরনল্ড, ডি সরমরা কেউ নন; ওই ম্যাচে ৪৭ রানের এক ইনিংস খেলে এবং বল হাতে অতিকৃপণ আচরণ করে বাংলাদেশের শত্রু হয়ে উঠেছিলেন ছিপছিপে এক তরুণ অলরাউন্ডার।
অনুমান করতে পারেন তার নাম? হ্যা, সেদিন বাংলাদেশকে আটকে দেয়ার চেষ্টা করা সেই ‘তরুণ’ আজকের অভিজ্ঞ ও আলোচিত কোচ উপল চান্দিকা হাতুরুসিংহে! বাংলাদেশকে একদিন আটকাতে চাওয়া সেই মানুষটিই এই মাসের ১০ তারিখে ঢাকায় পা রাখছেন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে।
গতকাল ফোনে এই চার দেশীয় টুর্নামেন্টটার কথা মনে করিয়ে দিতে একটু অবাক হলেন—এখনও তোমাদের মনে আছে!
তবে এই অবাক হওয়া পর্যন্তই যথারীতি ফোনে সাক্ষাত্কার দিতে হাতুরুসিংহের ঘোরতর আপত্তি। সেই কোচ নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকে সিডনি থান্ডার্স ও নিউ সাউথ ওয়েলসের এই কোচ পণ করেছেন, ফোনে কাউকে সাক্ষাত্কার দেবেন না। অবশ্য এই প্রতিজ্ঞার মধ্যে কোনো ঔদ্ধত্য নেই; আছে একটা নীতি, ‘‘আসলে অনেকে আমাকে আগে ফোন দিয়েছেন, সবাইকে তো ‘না’ বলেছি। এখন সাক্ষাত্কার দিলে যারা ফোন করেছেন, সবাইকেই দেয়া উচিত। তো আরেকটু ধৈর্য ধরুন। ১০ তারিখ তো আসছি। তারপর থেকে তো আপনি আপনাদেরই একজন হয়ে যাবো।”
বেশ বোঝা গেল একদিন বাংলাদেশের ‘শত্রু’ সেই হাতুরুসিংহে এখন বাংলাদেশের পরম মিত্র হতে পুরোপুরি মানসিকভাবে অন্তত প্রস্তুত। প্রস্তুত বলেই জুলাইতে চুক্তি শুরু হলেও সে ফ দায়িত্বের জায়গা থেকে ২০ দিন আগে চলে আসছেন ঢাকায়। যাতে ভারতের বিপক্ষে দলটা অভিভাবকশূন্য না থাকে। এখনও সব খেলোয়াড় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা তার নেই। দলের যারা নিয়মিত পারফরমার—সাকিব, তামিম, মুশফিক, রাজ্জাক, এমনকি নাসিরদের সম্পর্কেও ধারণা আছে। ১০ তারিখে ঢাকায় পা রাখার আগে এই ধারণাটা যতটা সম্ভব বিস্তৃত করে নিতে চান।
এসব বিষয়ে বলবো না, বলবো না করেই গেলেন। শুধু অপেক্ষা করতে বললেন।
অপেক্ষা হাতুরুসিংহের জন্য চলবে। সেইসঙ্গে আরও একজনের জন্য অপেক্ষা—হিথ স্ট্রিক। জাতীয় দলের নতুন এই কোচ অবশ্য প্রধান কোচের দিন চারেক আগেই, ৬ তারিখে পৌঁছে যাওয়ার কথা। সব মিলিয়ে ভারতের বিপক্ষে সিরিজটায় একটা ‘নতুন-নতুন’ আবহ যে থাকবে, তাতে সন্দেহ নেই।
ফলটাও তাহলে ‘নতুন’ কিছু হোক!
