নেদারল্যান্ডসের অনুশীলনে ওয়েসলি স্নাইডারকে দেখে অনেকটা চমকেই গিয়েছিলেন সবাই। যেমনটা চমকে গিয়েছিলেন গত দুই মৌসুম ধরে গালাতাসারায়ের হয়ে তার খেলা দেখে। তবে দুই চমকের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে, দ্বিতীয়টির কারণ যেখানে ছিল তার বাজে ফর্ম সেখানে প্রথমটি হলো এই মিডফিল্ডারের আবারো পুরনো ছন্দে ফেরা। আর দুই বছরের বাজে ফর্মের বলয় ভেঙ্গে বেরিয়ে আসার পেছনে এই ডাচ কৃতিত্ব দিচ্ছেন কিক বক্সিং চ্যাম্পিয়ন গোখান সাকিকে।
দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের পরই শুরু তার বার্জে ফর্মের। এরই ধারাবাহিকতায় বছরখানেক আগে কোচ লুই ফন গলের দল থেকে বাদ পড়েন স্নাইডার। ফলে মাথা গরম এই মিডফিল্ডার ব্রাজিলের বিমান ধরতে পারবেন কিনা জাগে সেই শঙ্কাও।
নেদারল্যান্ডসকে গত বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছাতে বড় ভূমিকা পালন করা এই স্ট্রাইকার ছন্দে ফিরলেন একেবারে ঠিক সময়েই। ফিটনেস পুনরুদ্ধারের মতো ফিরে পেয়েছেন হারানো ফর্মও। আর নিজেকে ফিরে পাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দিলেন ১০৩ কিলোগ্রাম ওজনের হেভিওয়েট কিক-বক্সিং চ্যাম্পিয়ন সাকিকে।
বিশ্বকাপ দলে জায়গা অনিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পরপরই সাকির শরণাপন্ন হওয়া রিয়াল মাদ্রিদ ও ইন্টার মিলানের এই সাবেক তারকা বলেন, ‘তাকে (সাকি) ধন্যবাদ। আমি শারীরিকভাবে এখন ততটাই শক্তিশালী, যতটা ২২ বছর বয়সে ছিলাম। আর টেকনিক এবং দক্ষতার বিষয়ে বলতে গেলে, আমি ঠিক পুরনো বয়সে ফিরে গেছি।’
সাকি নিজের ম্যাচগুলোর মধ্যেই সময় বের করেন প্রিয় ছাত্রের জন্য। সেনা সদস্যদের কর্ম পরিকল্পনা অনুযায়ী স্নাইডারের জন্য আয়োজন করেছিলেন বিশেষ অনুশীলনের। সাকির সেই পরিকল্পনা যে ব্যর্থ হয়নি সেটা স্পষ্ট ফন গলের বিবৃতিতেই। বিশ্বকাপের পরপরই ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দায়িত্ব নিতে যাওয়া এই ডাচ জানিয়েছেন, ‘রোবেন, পার্সি আর স্নাইডারকে নিয়ে বিশ্বের সেরা আক্রমণভাগ এখন আমাদের হাতে।’
অথচ ইউরোপ ছেড়ে তুর্কি চ্যাম্পিয়ন্স দলটিতে যোগ দেয়ার পর এই ফন গলই কঠোর সমালোচনা করতে ছাড়েননি স্নাইডারের, ‘আমি বুঝি না তার মতো প্রতিভার একজন খেলোয়াড় যার বয়সও কিনা ত্রিশের নিচে, সে কেন এই সিদ্ধান্ত নেবে।’
এই সিদ্ধান্তের খেসারত হিসাবে জাতীয় দলে অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও খোয়াতে হয় তাকে। এরপর গালাতাসারায়ের হয়ে স্নাইডারের বাজে ফর্মের কারণে জাতীয় দল থেকেই বাদ দেন ইন্টারের বিখ্যাত ট্রেবল জয়ের এই নায়ককে। কারণ হিসাবে বলেছিলেন, ‘স্নাইডারকে প্রতিপক্ষের গোলমুখের চাইতে বড় বড় পার্টিগুলোতেই আজকাল বেশি দেখা যায়!’
ফন গল যে তখন ভুল কিছু বলেননি সেটা সম্প্রতি স্বীকার করেছেন স্নাইডার নিজেও। তিনি বলেন, ‘আমি এখন বুঝতে পারি ফন গলই ঠিক ছিলেন। আমি আসলে যথেষ্ট পরিশ্রম করছিলাম না। আমার মান পড়ে গিয়েছিল।’
তাই আবারও কোচের মন ভরাতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত স্নাইডার। সব কিছু ঠিক থাকলে, নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত কমলা জার্সি গায়েই আবারো মাঠ মাতাতে দেখা যাবে ২৯ বছর বয়সী এই তারকাকে।
