রাজধানীতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেছেন, দলপ্রীতি ও দলবাজি শুধু দুর্নীতি সৃষ্টি করে না, দুর্নীতি প্রতিরোধের পথেও প্রধান বাধা এটি। একশ্রেণির রাজনীতিক ও আমলা ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের কাছে থেকে ও তাদের ব্যবহার করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন। তাদের অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধির বিষয় খতিয়ে দেখতেও বাধা তৈরি করে দলপ্রীতিজনিত হস্তক্ষেপ। এ হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে পারলে দুর্নীতির সিংহভাগ বন্ধ হয়ে যাবে এবং প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। স্বজনপ্রীতি ও দলপ্রীতি যে দুর্নীতির প্রধান আশ্রয় তা বন্ধ করতে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তথ্য গোপন থাকলে দুর্নীতির সুযোগ বাড়ে। তথ্য অধিকার আইনের যথাযথ প্রয়োগ দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকরী ফলাফল বয়ে আনবে।
রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘তথ্য অধিকার আইন ও প্রান্তজন-বান্ধব সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি’ শীর্ষক এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সমুন্নয়। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এতে সহযোগিতা করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দলবাজি ও দুর্নীতির ব্যাপারে ওকালতি চলে না। কিন্তু জঙ্গিবাদের পক্ষে-বিপক্ষে আজ অনেকে ওকালতি করছেন। দলবাজি ও দুর্নীতি গণতন্ত্রের জন্য আপদ আর জঙ্গিবাদ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে। সরকার জঙ্গিবাদ ধ্বংস করতে চেষ্টা করছে, আর একটি বিরোধী দল জঙ্গিবাদ রক্ষায় কাজ করছে। যে দেশে জঙ্গিবাদকে ও তেঁতুল হুজুরদের রাখার কথা বলা হয় সে দেশে সামাজিক নিরাপত্তা এবং অবাধ তথ্য অধিকার দুর্বল হয়ে পড়ে।
হাসানুল হক ইনু বলেন, গণতন্ত্র প্রকৃতপক্ষে নিশ্চিত হলে সামাজিক নিরাপত্তা ও নিশ্চিত হয়। তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জনগণ ঠিকভাবে জানতে পারলে দলবাজি ও দুর্নীতি করে অর্থ উপার্জনের পথ বন্ধ হবে। গণমাধ্যম চাইলে তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে পারে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তথ্য অধিকার আইনের সুফল জনগণের সামনে তুলে ধরলে এই আইনের বাস্তবায়ন সফল হবে।
তিনি বলেন, তথ্য গোপন থাকলে সমাজে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির দরজা উন্মোচিত হয়। তাই কোন সরকারি কর্মকর্তা তথ্য না দিলে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে, আইনের প্রয়োগ হলে দল আর মুখ দেখে কারো সাজা মওকুফ করা যাবে না।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। সরকার এবং গণমাধ্যম দুই পক্ষকেই তথ্য প্রবাহ পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সমুন্নয়ের প্রকল্প সমন্বয়কারী দিলরুবা ইয়াসমিন চৌধুরী। প্রতিবেদনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে সচেতনতা বিশ্লেষণ করা হয়। মৌলভীবাজার, টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জ জেলার ৬টি উপজেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ৬১০ ব্যক্তির উপর এ জরিপ পরিচালনা করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জরিপকৃত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৫৬ শতাংশ লোক তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে কিছু না কিছু জানেন। অন্যদিকে ৪৪ শতাংশ উত্তরদাতা এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এসব উত্তরদাতার ৬৩ শতাংশ মনে করেন লিফলেট, পোস্টার ইত্যাদি প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের জনগণকে তথ্য অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলা সম্ভব। ৪৯ শতাংশ উত্তরদাতা এনজিওকে এসব প্রচারণার জন্য উপযুক্ত মনে করে। রেডিও টিভিতে প্রচার-প্রচারণার পক্ষে মত দিয়েছেন ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তথ্য সচিব ফরহাদ হোসেন, প্রধান তথ্য কমিশনার মো. ফারুক, ড. মাহফুজ কবির।
