সর্বাগ্রে প্রয়োজন নিয়ম-শৃঙ্খলা

আপডেট : ০১ জুন ২০১৪, ২২:০৪
ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে উল্টাপথে যানবাহনের গতিরোধকল্পে ঢাকার কোনো কোনো সড়কে বিশেষ ধরনের স্পাইক বসান হইয়াছে। রাস্তায় কোন গাড়ি ট্রাফিক আইন অমান্য করিয়া উল্টাপথে গেলেই বিপাকে পড়িবে। নিয়ম ভাঙ্গিয়া বিপরীত মুখে চলিতে গেলেই গতিরোধক স্পাইকে গাড়ির চাকা ফুটা হইয়া যাইবে। রাজধানীতে যানবাহন চলাচলে বিধিভঙ্গ বন্ধ করিতেই এই ব্যবস্থা করিয়াছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। কাঁটাযুক্ত যান প্রতিরোধক এই ব্যবস্থাটির প্রস্তুতকারক ধোলাইখালের একটি মেটাল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। দেশীয় প্রযুক্তিতে ২৮ ফুট দৈর্ঘ্যের এই প্রতিরোধক যন্ত্রের প্রতিটি তৈয়ার করিতে ব্যয় হইবে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। পরীক্ষামূলকভাবে এই যন্ত্রটি স্থাপন করা হইয়াছে রাজধানীর হেয়ার রোডে। সফল হইলে আগামী এক মাসের মধ্যেই যন্ত্রটি ঢাকার সকল রাস্তায় বসান হইবে। ট্রাফিক বিভাগের যুক্তি হইল, উল্টাপথে যান চলাচল বন্ধ হইলে দুর্ঘটনা কম হইবে আর যানজটও বাঁধিবে কম। যান নিয়ন্ত্রণের এই পদ্ধতি কয়েকটি উন্নত দেশেও রহিয়াছে, কিন্তু দেশীয় প্রযুক্তিতে যন্ত্রটির ব্যবহার এই প্রথম। ঢাকা সেনানিবাসে প্রযুক্তিটির অন্য একটি সংস্করণ কয়েক বছর ধরিয়াই ব্যবহূত হইয়া আসিতেছে। ঢাকার মত বিশাল জনসংখ্যার একটি নগরীর যানবাহন সৃষ্ট জট এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে এই কৌশলটি যানজট ও দুর্ঘটনা নিরসনে কতটুকু কাজে আসিবে তাহা লইয়া অভিজ্ঞ মহলে সংশয় আছে। নূতন এই ব্যবস্থায় ইতিমধ্যে কিছু বিড়ম্বনাও সৃষ্টি করিয়াছে। সাইন-সিগনাল না থাকায় না জানিয়া উল্টাপথে এম্বুলেন্স চালাইতে গিয়া রোগী নিয়া দুর্ভোগ পোহাইবার খবর পত্রিকায় ছাপা হইয়াছে। প্রথমদিকে এই ধরনের সমস্যা হওয়া বিচিত্র নয়। সকলে সচেতন ও অভ্যস্ত হইয়া উঠিলে এই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হইবে না বলিয়া আশা করা যায়। তাহারপরও বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করেন ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও সুচারু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করিতে পারিলেই এক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাইতে পারে। ঢাকার কয়েক হাজার কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে প্রধান সড়কগুলিতেই কেবল রোড ডিভাইডার রহিয়াছে। প্রায় দুই কোটি মানুষের এই নগরীটিতে নির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ব্যতীত কোথাও নেই দিক-নির্দেশনা সংকেত। কোন কোন স্থানে থাকিলেও তাহা সময়ের ব্যবধানে মুছিয়া গিয়াছে, যাহাতে সংস্কারকর্ম একেবারেই দেখিতে পাওয়া যায় না বলিলেই চলে। ইহার সহিত যুক্ত হইয়াছে ট্রাফিক আইন প্রয়োগকারী ব্যক্তিদের কাহারও কাহারও অনিয়ম এবং জনসাধারণ কর্তৃক নিয়ম ভঙ্গের প্রবণতা। যে অবস্থা দাঁড়াইয়াছে তাহাতে সার্বিক রোড ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থাপনায় বিশেষ মনোযোগ দিবার প্রয়োজন রহিয়াছে। ঢাকা শহরের ন্যায় দেশের অন্যান্য শহরে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি না হইলেও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা রাজধানীর তুলনায় অনেক বেশি। রাজধানী, বিভাগীয় শহর, জেলাশহরসহ ছোট-বড় সব শহরের রাস্তাঘাট নির্মাণ ও চলাচলে নিয়ম-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করিতে হইবে। যেকোনো উন্নয়নশীল দেশের প্রধানতম পদক্ষেপ হওয়া উচিত দেশটির সার্বিক রাস্তাঘাটের উন্নয়ন যাহাতে জনসাধারণের কাজকর্মে ও চিন্তায় গতির সঞ্চার হয়। এক সময়ের বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশ মালয়েশিয়ার উন্নয়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ ছিল যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন। সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় মাহাথির মুহাম্মদের সরকার যে কঠোর পদক্ষেপ ও নিয়মনীতি আরোপ করিয়াছিল তাহা আজও বহাল রহিয়াছে এই দেশটিতে। রাস্তাঘাট নির্মাণে যে কৌশলগত ও ব্যবস্থাপনাগত রূপরেখা অনুসৃত হইয়াছিল তাহা তখনকার যেকোন উন্নত দেশের সহিত তুলনীয়। বাংলাদেশের জনবহুল সকল সড়কে ডিভাইডার স্থাপন, যথাযথ সাইন-সিগনাল ও আইনের যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিতকরণ ব্যতীত নূতন কৌশলটির ব্যবহার কতটুকু সুফল বহিয়া আনিবে তাহা ভাবিয়া দেখিবার প্রয়োজন আছে বৈকি।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন