ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক মধুর নাও হতে
পারে
বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের রয়েছে যথেষ্ট প্রভাব। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ঐতিহাসিকভাবে জানা যায় বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু পরিবার ও ভারতে গান্ধী পরিবারের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। এইদিক থেকে কংগ্রেসের সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যেরকম পারিবারিক ও রাজনীতিক সম্পর্ক রয়েছে সেরকম সম্পর্ক বিজিপি তথা মোদী সরকারের সাথে নেই। অপরদিকে বাংলাদেশের বিরোধী দল বিএনপি ভাবছে যেহেতু মোদী সরকারের সাথে বর্তমান মহাজোট সরকারের তেমন সুসম্পর্ক বিদ্যমান নেই, তাই মোদী সরকারের সাথে বিএনপির সম্পর্ক শুরু হবে। বিএনপির বিশ্বাস আওয়ামী লীগের সাথে মোদী সরকারের সম্পর্ক কংগ্রেসের মত নিবিড় হবে না। ফলে ঢাকা ও দিল্লি সম্পর্ক পূর্বের মত মধুর নাও হতে পারে।
কামাল হোসেন
বি.এ. (অনার্স), এম. এ. ইতিহাস বিভাগ
ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, কুমিল্লা
সুসম্পর্ক
বজায়
থাকবে
ভারতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করেছে। বিশ্বের প্রতিটি গণতান্ত্রিক দেশের সাংবিধানিক নিয়মই হচ্ছে নির্বাচন ও সরকার গঠন। সেভাবেই ভারতে নির্বাচন ও সরকার গঠন হয়েছে। আমাদের দেশেও একটি সরকার আছে। তা যেভাবেই হোক, সংবিধানের মধ্য থেকেই হয়েছে। তাই আশা করতে পারি উভয় দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে। ভারতে বিজেপি সরকার গঠন করায় বাংলাদেশে বিএনপির যেমন অতি উত্সাহিত বা আনন্দিত হওয়ার কিছু নেই, তেমনি আ’লীগেরও ব্যথিত বা শংকিত হওয়ার কিছু নেই। দু’দেশের সম্পর্ক ভালো থাকবে আশা করি। তবে সাময়িক কিছু সমস্যা হলেও তা কেটে যাবে অদূর ভবিষ্যতে।
এন এস মিলি
শিক্ষার্থী,
অনার্স (প্রথম বর্ষ), বাংলা বিভাগ
সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ,
নড়াইল
অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা
রয়েছে
যেহেতু বিজেপি দলটির একটি সামপ্রদায়িক দল হিসেবে পরিচিতি রয়েছে সেহেতু এক্ষেত্রে নিজেদের স্বার্থে ভাটা পড়লে তারা আমাদের দেশের সামপ্রদায়িক তথাকথিত রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে এলায়েন্স করে এক ধরনের উগ্র সামপ্রদায়িকতাকেই উস্কে দিবে। তবে ভারতে বসবাসরত তাদের ভাষায় অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর কোন সম্ভাবনা দেখছি না। এটা ভোট আদায়ের জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক বক্তব্য ছাড়া কিছুই ছিল না।
রিয়াজুল ইসলাম হূদয়
বিবিএ, ৮ম সেমিস্টার,
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না
একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, ভারত অর্থনীতিতে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দেশগুলোর তালিকায় ইতিমধ্যে স্থান করে নিয়েছে। আর মোদী সরকার যদি তাদের এ সমৃদ্ধি ধরে রাখতে চায় তাহলে প্রতিবেশী দেশগুলো সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। কেননা প্রতিবেশী দেশের সাথে সুসম্পর্ক ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। এর প্রমাণ মেলে মোদী সরকার নির্বাচনে জয়ের পর স্পীকার শিরিন শারমিনের ভারত সফরের মধ্যদিয়ে। এবং নরেন্দ্র মোদীও তাকে সর্বপ্রথম বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ব্যক্ত করেন। এছাড়া বিজেপি নেতারা তো বলেছেন- ভারতের নতুন সরকারের সাথে বাংলাদেশের সুসম্পর্কের কোন হানি হবে না। যদিও নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে বাংলাদেশকে নিয়ে মোদী যে বিতর্কিত কথা বলেছেন, বিশ্লেষকদের মতে তা নিতান্তই ছিল তার নির্বাচন কৌশল। তাই বলা চলে বিজেপির জয়ে ঢাকা-দিল্লী সম্পর্কে কোন নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
হাসান তারেক
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশে কোন বিরূপ প্রভাব
পড়বে না
বাংলাদেশ একটি উদার গণতান্ত্রিক দেশ। মুসলমানদের সংখ্যা বেশি থাকায় এটি মুসলিম দেশ। অন্যদিকে ভারতে হিন্দু জনসংখ্যা বেশি থাকায় সেটি হিন্দুস্তান বা হিন্দু রাষ্ট্র। তবে উভয় দেশের মধ্যে একটি চমত্কার মিল রয়েছে। আর তা হলো বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশই সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ। তাই ধারণা করতে পারি এরকম একটি সাংবিধানিক মিল থাকায় নতুন সরকার (বিজেপি) আসা সত্ত্বেও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কোনরূপ বিরূপ প্রভাব পড়বে না। অন্যদিকে রাষ্ট্র পরিচালনায় ভারত এখন সবচেয়ে গুরুত্ব দেয় পররাষ্ট্র ও অর্থনীতিকে। সেক্ষেত্রে যে কোন সরকারের সাথেই তাদের সমঝোতা হতে পারে। সেখানে আ’লীগ বা বিএনপি বড় কথা নয় বরং বিজেপি সরকার তাদের তথা ভারত তাদের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিবে এটাই স্বাভাবিক।
বি. এইচ. মাহিনী
শিক্ষার্থী,
এলএলবি (প্রথম বর্ষ)
শহীদ মশিউর রহমান আইন মহাবিদ্যালয়, যশোর
