স্মরণ

‘বাবা লোকনাথের’ আবির্ভাব-তিরোধান

আপডেট : ০২ জুন ২০১৪, ২২:১০
মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন- “God is Truth”. পরবর্তী সময়ে বলেছিলেন- “Truth is God.” সত্য, সত্যযুগেও ছিল ত্রেতা ও দ্বাপরে ছিল বর্তমানে কলিতেও আছে। তবে কলিতে মিথ্যার অংশ বেড়ে সত্যের অংশ হ্রাস পেয়েছে। তাই সত্যের আলোতে আবার সবাই পথ চলতে পারে সেজন্যই বাবা লোকনাথের আবির্ভাব ও তিরোভাবের অবতারণ। সত্য সুন্দরের মূর্তবিগ্রহ বাবা লোকনাথ। সত্যের কোন আবির্ভাব বা তিরোভাব হয় না। সত্যযুগ থেকে কলিযুগ পর্যন্ত সত্য সত্যই আছে। কেবল অবস্থাভেদে সরব ও নীরব হয়েছে। লৌকিকভাবে আবির্ভাব ও তিরোভাব পার্থিব জগতে পালিত হচ্ছে। কিন্তু অলৌকিকভাবে আবির্ভাব ও তিরোভাবের কোন ভূমিকা নেই। যেমন সূর্য একই স্থানে অবস্থান নিয়ে আলো বিকিরণ করে চলছে। পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরে দিন ও রাত্রির অভিনয় করে চলছে। বাবা লোকনাথ স্মরণে যেমন আমরা আলোকিত জীবনে ফিরে যাই, তেমনি বাবা লোকনাথ বিস্মরণে অন্ধকারময় জীবনে ফিরে যাই। সত্যই ভগবান অর্থাত্ যোগীজীবন আর মিথ্যাই ভোগীজীবন। সত্য যেমন সত্যযুগে আবির্ভূত হয়ে বর্তমানেও চলমান তেমনি বাবা লোকনাথের আবির্ভাবও যুগে যুগে চলমান। তিরোভাবে যেমন অন্ধকার চলমান সেই চলমান মিথ্যাকে আবির্ভাবের প্রভাবে অন্ধকার জগত্ থেকে উত্তীর্ণ হতে হবে। তবেই বাবার আবির্ভাব দিবস স্বার্থক রূপ ফিরে পাবে। যেমন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী মানে আসুরিক শক্তির প্রতীক কংসের পতন। দ্বাপরে যে অত্যাচার, নির্যাতন ও অশান্তির প্রতিভূ ছিলেন কংস। সেই কংসের প্রজন্ম বর্তমানেও সমভাবে তার জগতে প্রভাব ফেলে যাচ্ছে। কাজেই বাবা লোকনাথের আবির্ভাব দিবসে বাবার দিব্যজীবন ও দর্শন থেকে শিক্ষা নিয়ে যুব সমাজকে সত্য-সুন্দরের পথে যাত্রা করতে প্রত্যয়ী হতে হবে। নবীনের উদ্যমতা আর প্রবীণদের অভিজ্ঞতাকে সমন্বয় করে তবেই সত্যের আলোতে পথ চলা সুগম। অন্যথায় অন্ধকারে আমাদের যা কিছু অর্জন হারিয়ে যাবে। কেউ মরণ নেশায় আসক্ত, কেউ বিষয়াসক্ত, কেউ দুর্নীতিতে আসক্ত— এরা সবাই কিন্তু দলবেঁধে জগতে বিচরণশীল। অন্যদিকে যারা মাঙ্গলিক ভাবনায় বা মানবিক চিন্তা-চেতনায় উদ্বেলিত এরাও যদি ঐক্যবদ্ধভাবে মিথ্যার মুখোশ খুলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে সমাজে অবস্থান নেয় তাহলে আলোর আগমনে যেমন অন্ধকার পালায় তেমনি মন্দ চরিত্রের মানুষ তাদের অবস্থান অবশ্যই পাল্টাবে। অন্ধকারে কেউ থাকতে চায় না, কেউবা অবস্থার স্বীকার হয়ে, ভ্রান্ত ধারণায় ভাবিত হয়ে অন্ধকারে এসেছে। এরা সঠিক পথের ঠিকানা পেলে অবশ্যই আলোর জগতে শাশ্বত আনন্দলাভে নিজেকে চেনার বা জানার সুযোগ পাবে। আমি কে? আমার পরিচয় কি? আমি কোথায় থেকে এসেছি—কোথায় যাবো? এ সত্য জানার মধ্যদিয়েই Crisis of identity দূর হবে। আমরা আমাদের সঠিক পরিচয় যখন জানব তখনই মহাপুরুষের আবির্ভাব ও তিরোভাব উত্সব সার্থক হবে। লেখক: সাধারণ সম্পাদক, শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দির

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন