বিশ্বব্যাপী মোবাইল ডিভাইসগুলোর জনপ্রিয়তা দিনদিন বেড়ে চলেছে। স্মার্টফোন, ট্যাবলেট পিসি থেকে শুরু করে আরও নানা ধরনের গ্যাজেটই এখন বিশ্বব্যাপী দ্রুত বাজার দখল করে চলেছে। নানা ধরনের সুবিধা থাকার কারণে এসব ডিভাইস ব্যবহূতও হচ্ছে সর্বত্র। এগুলোর কার্যকারিতা আরও একটু বাড়িয়ে তুলতে এখন এসব ডিভাইসে যুক্ত করা হচ্ছে নতুন নতুন ফিচার। এর মধ্যে পানিরোধী ডিভাইস তৈরির প্রবণতা আগের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানিরোধী ডিভাইসগুলোর চাহিদাও বাড়ছে। তবে এবারে পানিরোধী ডিভাইস তৈরির ক্ষেত্রে নতুন এক উদ্ভাবন নিয়ে হাজির হয়েছেন বার্মিংহাম ইয়াং ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক জুলি ক্রকেট। ফলে পানিরোধী ডিভাইস তৈরিতে নতুন এক যুগের সূচনা হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কচু পাতার ওপর পানি পড়লে ঠিক যেভাবে লাফিয়ে ওঠে, ঠিক একই ধরনের ঘটনা ঘটে জুলি ক্রকেটের তৈরি পানিরোধী সারফেসের ক্ষেত্রে। প্রচলিত পানিরোধী ডিভাইসগুলোতে মূলত মূল কাঠামোর ওপর টেফ্লন বা এই মোমের এক ধরনের কোটিং ব্যবহার করে থাকে। তবে জুলির তৈরি সারফেসটির গঠন বেশ ভিন্ন। এই সারফেসকে বলা হচ্ছে সুপার-হাইড্রোফোবিক সারফেস। বার্মিংহাম ইয়াং ইউনিভার্সিটির গবেষণাগারে জুলি এই সারফেস তৈরি করেছেন ‘রিব অ্যান্ড ক্যাভিটি’ স্ট্রাকচার ব্যবহার করে। এর ফলে ঠিক কচু পাতার মতোই আচরণ করে সারফেসটি। ফলে কোনো গ্যাজেটে এই সারফেস ব্যবহার করলে তাতে পানি পড়লে কোনো ধরনের প্রভাবই পড়বে না। বিভিন্ন ধরনের গ্যাজেট ছাড়াও সোলার প্যানেল কিংবা বায়োমেডিকেল ডিভাইসের মতো সংবেদনশীল ডিভাইসেও এটি সহজেই ব্যবহূত হতে পারে বলে জানিয়েছেন জুলি।
প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতারা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন জুলির গবেষণায়। বিশেষ করে ফিটনেস গ্যাজেট নির্মাতারা এর মাধ্যমে পানিরোধী ফিটনেস গ্যাজেট তৈরির পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছেন। এসব গ্যাজেট পানির নিচে বিভিন্ন শারীরিক কার্যক্রম মনিটর করতে পারলে তা বাড়তি সুবিধা বয়ে আনবে। জুলি জানিয়েছেন, তার উদ্ভাবিত প্রযুক্তি অল্প খরচেই বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করা সম্ভব। ফলে প্রযুক্তি পণ্যের সারিতে পানিরোধী গ্যাজেটের আধিক্য হয়তো শীঘ্রই দেখা যাবে।
