শিক্ষামন্ত্রীর শঙ্কা

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৪, ২১:৪৯
টানা পাঁচ বত্সর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বিগত মহাজোট সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করিয়াছেন তিনি। স্থান পাইয়াছেন বর্তমান মন্ত্রিসভায়ও। নূতন মেয়াদে প্রভাবশালী অনেক মন্ত্রীর পদচ্যুতি ঘটিলেও তিনি বহাল আছেন তাঁহার পূর্বতন দায়িত্বে। ইহাকে তাঁহার সুকর্মের পুরস্কার বলিয়াও মনে করেন অনেকে। ইহা সত্য যে, দায়িত্বে থাকাকালে ভালো কাজের জন্য তিনি অনেক প্রশংসাও কুড়াইয়াছেন। তাহার একটি তালিকাও এইখানে পেশ করা যায়। তন্মধ্যে নানা প্রতিকূলতার ভিতরেও নির্দিষ্ট সময়ে এসএসসি ও এইচএসসির পাশাপাশি সারাদেশে একযোগে প্রাইমারি স্কুল সার্টিফিকেট (পিএসসি) ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা অনুষ্ঠান, পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যথাসময়ে ফল প্রকাশ এবং বত্সরের শুরুতে স্কুল ও মাদ্রাসার লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে বই পৌঁছাইয়া দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখের দাবি রাখে। মৃদুভাষী সজ্জন মানুষ হিসাবেও সুনাম রহিয়াছে সাবেক এই কমিউনিষ্ট নেতার। তবে দিন যে সব সময়ে একরকম যায় না—তিনিও বোধকরি সেই কঠিন সত্যের উত্তাপ অনুভব করিতে শুরু করিয়াছেন। পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটিতেছে। ক্রমেই স্পষ্ট হইয়া উঠিতেছে মুদ্রার অপর পিঠটিও। বিশেষ করিয়া একের পর এক প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় উঠিয়াছে সারা দেশে। তাহার তোড়ে শিক্ষামন্ত্রীর সকল অর্জন ভাসিয়া যাইবার উপক্রম হইয়াছে। কথায় আছে, নেতৃত্বের আসল পরীক্ষা হইল সংকটে। সংকটের অগ্নিপরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হইয়াই নেতৃত্বকে তাহার যোগ্যতা প্রমাণ করিতে হয়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হইতেছে যে, শিক্ষামন্ত্রীও প্রকৃত অর্থে প্রথমবারের মতো সেই পরীক্ষার সম্মুখীন হইয়াছেন। তিনি কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করেন তাহাই এখন দেখিবার বিষয়। তবে তাঁহার সামপ্রতিক একটি মন্তব্য অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়াছে। শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করিয়া তিনি বলিয়াছেন যে, কোচিং বন্ধ করা যাইতেছে না। দেশে ৩২ হাজার কোটি টাকার কোচিং ব্যবসা চালু আছে। ইহা বন্ধ করিলে হয়তো তাহাকে মারিয়া ফেলার জন্য (তাহারা) ১০ কোটি টাকা খরচ করিয়া ফেলিতে পারে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যটি সঠিকভাবে উদ্ধৃত করা হইয়াছে কিনা আমরা জানি না। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সহিত তাহার এই বক্তব্যের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পর্ক আছে কিনা—তাহাও তিনি স্পষ্ট করেন নাই। যাহাই হউক, সত্য সত্যই যদি তিনি এমন মন্তব্য করিয়া থাকেন তাহা হইলে গভীর বেদনার সহিত বলিতে হয় যে, একদা সমাজ ভাঙিবার রাজনীতি যিনি করিয়াছেন তাহার মুখে ইহা বেমানান শুধু নহে, হতাশাজনকও বটে। ফল খাইবেন অথচ ঝুঁকি লইবেন না—ইহা কেমন কথা! উদাহরণের যে অভাব নাই শিক্ষামন্ত্রী নিজেও তাহা ভালো জানেন। তিনি এখন যেই দলের হইয়া মন্ত্রিত্ব করিতেছেন সেই দলটির যিনি প্রতীক—সেই বঙ্গবন্ধুকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কী অপরিসীম ত্যাগই না স্বীকার করিতে হইয়াছে জীবনভর—তাহা কি বলিবার অপেক্ষা রাখে? বঙ্গবন্ধুর মতো মহান নেতারা এই শিক্ষাই রাখিয়া গিয়াছেন যে, জনস্বার্থে ঝুঁকি লইবার সাহস এবং ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা যাহাদের নাই—রাজনীতি তাহাদের জন্য নহে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন