উদ্যোগগুলি বাস্তবায়ন হইলে বাজেট ফলপ্রসূ হইবে

আপডেট : ০৫ জুন ২০১৪, ২১:৪৩
আশাবাদ রাখিতে কার্পণ্য করেন নাই আমাদের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী ২০১৪-১৫ অর্থবত্সরের বাজেট পেশ করিয়াছেন। অর্থমন্ত্রী বাজেট পেশকালে নিজেই আশাবাদের বিষয়টি স্পষ্ট করিয়াছেন। এই দেশের তরুণদের মতোই তিনি সম্ভাবনাময় আগামীর স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করিতেই বাজেটে বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ লইয়াছেন। সেই পদক্ষেপগুলি বাস্তবায়ন করিবারও দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করিয়াছেন। তিনি যেই বাজেট ঘোষণা করিয়াছেন তাহাতে বিশাল ব্যয়ের পাশাপাশি আয় করিবারও পথ দেখাইয়াছেন। তাহার ঘোষিত ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব এই যাবত্কালের সর্বোচ্চ। যদিও দুই-একটি ব্যতিক্রম বাদে বরাবরই বাজেটের আকার বাড়িয়াছিল। এইবারেও তাহার ব্যতিক্রম হয় নাই। ইহার কারণ, বিনিয়োগ না করিলে আয়ের পথ সুগম হইবে না। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সরকারি বিনিয়োগ জরুরি। সরকারি বিনিয়োগই বেসরকারি বিনিয়োগকে আকর্ষণ করিয়া থাকে। বিশেষত, ভৌত অবকাঠামোগত খাতসহ বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ তৈরি করিয়া দিতে হয় সরকারকেই। সেই লক্ষ্যে এইবারও বাজেটে ব্যয়ের লক্ষ্য স্থির করা হইয়াছে। আর এই বাজেটকে বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরির সহায়ক বাজেট হিসাবেই আখ্যা দিয়া অর্থমন্ত্রী বলিয়াছেন, বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য যথাযথ উদ্যোগের বাস্তবায়ন করা হইবে। ইহার মধ্যে ব্যাংকঋণের সুদের হার কমাইবার কথাও তিনি বলিয়াছেন। বাংলাদেশে উচ্চ হারে ব্যাংক সুদের হার বিনিয়োগ নিরুত্সাহিত হইবার অন্যতম কারণ। পাশাপাশি কর্পোরেট করের হারও কমাইবার প্রস্তাব রাখিয়াছেন অর্থমন্ত্রী। বিভিন্ন রকম প্রণোদনা প্রদানের ঘোষণা দিয়াছেন। এইসবের মূলেই রহিয়াছে গত এক বত্সরের প্রেক্ষাপট। এই কথা সবারই জানা যে, গত পঞ্জিকা বত্সরের শেষ ছয় মাসে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করিয়াছিল। বিশ্বব্যাংক বলিয়াছে, এই অস্থিরতার কারণে ১১ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি সাধিত হইয়াছে। সেই কথাটি অর্থমন্ত্রী তাহার বাজেট বক্তৃতায়ও উদ্ধৃত করিয়াছেন। তত্কালীন প্রেক্ষাপটের কারণে দেশে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে ধস নামে। যাহা অর্থমন্ত্রী বিভিন্ন সময় প্রকারান্তরে স্বীকার করিয়াছেন। বিনিয়োগ সংকটের স্বীকারোক্তি করিবার পর প্রস্তাবিত বাজেটে তাহার উত্তরণের পথ খোঁজার চেষ্টা চালাইয়াছেন অর্থমন্ত্রী। যাহা তাহার বাজেট বক্তৃতায় স্পষ্ট হইয়াছে। যেই কারণে তিনি কোন কোন খাতে ব্যয়ের লক্ষ্য বেশি স্থির করিলেও তাহা বাস্তবায়ন করিবার ঘোষণা দিয়াছেন। যদিও তাহার বিশাল ব্যয়ের বাজেট লইয়া সমালোচনাও কম হইবে না। যেইখানে চলতি অর্থবত্সরে কাঙ্ক্ষিত আয় করা সম্ভব হইতেছে না। বিদেশি সাহায্যও সেই ভাবে আসে নাই। তবুও আমরা আশা করিতেছি তিনি তাহাতে সফলকাম হইবেন। প্রস্তাবিত বাজেটের মাধ্যমে তিনি জনগণকে যে স্বপ্ন দেখাইয়াছেন, তাহা যেন স্বপ্নই থাকিয়া না যায়।