রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না
বাংলা ২য়পত্র
মো. সুজাউদ দৌলা
প্রভাষক
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ,ঢাকা
প্রশ্ন :গঠন অনুসারে বাক্য কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণসহ প্রত্যেক প্রকারের সংজ্ঞা লেখ।
বাক্য: যে সব বিন্যাস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায়, তাকে বাক্য বলে। যেমন: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার রূপকার ছিলেন।
গঠন অনুসারে বাক্য তিন প্রকারের। যেমন:
১। সরল বাক্য: যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন: ছেলেরা ফুটবল খেলছে।
২। জটিল বাক্য: যে বাক্যে একটি প্রধান বাক্যাংশ এবং এক বা একাধিক অপ্রধান বাক্যাংশ থাকে, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যেমন: যে মানুষের সেবা করে, সেই শ্রেষ্ঠ মানুষ।
৩। যৌগিক বাক্য:পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা দুয়ের অধিক বাক্য যখন কোনো সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য তৈরি করে, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
যেমন: সে দরিদ্র কিন্তু সুখী।
প্রশ্ন :বাক্য কাকে বলে? একটি সার্থক বাক্য গঠনে কী কী বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার? উদাহরণসহ আলোচনা কর।
বাক্য : যে সব বিন্যাস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায়, তাকে বাক্য বলে। যেমন: আমরা আমাদের দেশকে ভালোবাসি।
১। আকাঙ্ক্ষা:বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
যেমন: ‘আমরা কলম দিয়ে-’ বললে শ্রোতার আগ্রহ সম্পূর্ণ মিটে না। কিন্তু ‘আমরা কলম দিয়ে লিখি’ বললে অর্থ পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ পায় এবং আকাঙ্ক্ষারও নিবৃত্তি হয়। শেষোক্ত ‘লিখি’ পদটি শোনার ইচ্ছাই আকাঙ্ক্ষা।
২। আসত্তি :বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদ-বিন্যাসকেই আসত্তি বলে। মনোভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে বাক্যে শব্দগুলোকে এমনভাবে পরপর সাজাতে হবে, যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
যেমন: ‘শফিক সাহেব তিরস্কার করার ছেলেকে দুষ্টুমির করলেন জন্য’। এ বাক্যে আসত্তির গোলমালের জন্য মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে না। তবে নিম্নোক্তভাবে সাজালে বাক্যটিতে আসত্তি লক্ষ করা যায় — ‘শফিক সাহেব দুষ্টুমির জন্য ছেলেকে তিরস্কার করলেন।’
৩। যোগ্যতা :বাক্যের মধ্যে বিভিন্ন পদসমূহের অর্থ ও ভাবগত মিলবন্ধনকে যোগ্যতা বলে।
যেমন: ‘সূর্য পশ্চিম দিকে ওঠে’ — এ বাক্যে বিভিন্ন পদসমূহের মধ্যে অর্থ ও ভাবগত মিল নেই। কারণ সূর্য পশ্চিম দিকে ওঠে না। যদি বলা হয়, ‘সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে’ — তাহলেই বাক্যটি যোগ্যতাসম্পন্ন হয়।
সার্থক বাক্যের বৈশিষ্ট্য: বাক্যকে সার্থক করতে হলে নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা বাঞ্ছনীয় —
পরিশেষে বলা যায়, একটি বাক্য তখনই সঠিক ও নির্ভুল হিসেবে প্রকাশ পায়, যখন তার মধ্যে আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতার উপস্থিতি দেখা যায়। আর এ তিনটি বৈশিষ্ট্যের অনুপস্থিতিতে সঠিক এবং অর্থবোধক বাক্য গঠন অসম্ভব।
প্রশ্ন :বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের ছয়টি নিয়ম উলেস্নখ কর।
উত্তর: বাংলা একাডেমি ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলা বানানকে নিয়মিত, অভিন্ন ও প্রমিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করে একটি নিয়ম দাঁড় করিয়েছে। ‘প্রমিত বাংলা বানান’ বলতে আমরা স্ট্যান্ডার্ড বা মানসম্মত বাংলাকে বুঝি। যে যে-ভাষায়ই কথা বলুক না কেন, তার একটি শুদ্ধ রূপ আছে, স্বকীয়তা আছে। অর্থাত্, প্রত্যেক ভাষার-ই একটি সর্বজনগ্রাহ্য শুদ্ধ রূপ আছে। ভাষাবিজ্ঞানীদের পরিভাষায় একেই ‘প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম’ বলা হয়। বাংলা বানানের ছয়টি নিয়ম নিম্নে উল্লেখ করা হলো —
১.বাংলা বানানে সন্ধিগঠিত শব্দে ক, খ, গ, ঘ পরে থাকলে পদের অন্তস্থিত ম স্থানে ‘ং’ এবং বিকল্পে ঙ লেখা যাবে। যেমন: অহম্ + কার = অহংকার (অহঙ্কার)। সম্ + গীত = সংগীত (সঙ্গীত)। সন্ধি গঠিত শব্দ ছাড়া এ নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
যেমন: অঙ্ক, বঙ্কিম ইত্যাদি। তবে ক্ষ-এর পূর্বে সর্বত্র ঙ হবে। যেমন: আকাঙ্ক্ষা।
২. রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
যেমন: কর্ম, কার্য, গর্জন ইত্যাদি।
৩.শব্দের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকবে না।
যেমন: কার্যত, মূলত, ক্রমশ ইত্যাদি।
৪.তত্সম শব্দের বানানে ণ ও ন-এর নিয়ম ও শুদ্ধতা রক্ষা করতে হবে। এ ছাড়া অ-তত্সম শব্দের বানানে ণত্ব বিধি মানতে হবে না। যেমন: অঘ্রান, ঝরনা, সোনা ইত্যাদি।
৫.হস্ চিহ্ন যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে।
যেমন: কাত, চট, বললেন ইত্যদি। তবে যদি ভুল উচ্চারণের আশঙ্কা থাকে, তাহলে হস্ চিহ্ন ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন: উহ্, যাহ্ ইত্যাদি। ৬.সকল অ-তত্সম শব্দে কেবল ই এবং উ এবং এদের ‘কার’ চিহ্নের ক্ষেত্রে হ্রস্ব ই-কার ()ি ও হ্রস্ব উ-কার ( ু) ব্যবহূত হবে। যেমন: গাড়ি, বাড়ি, হাতি ইত্যাদি।
